ঢাকা শহরের সমস্যা সমাধানে ‘স্মার্ট সিটি হ্যাকাথন’

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হতে যাচ্ছে স্মার্ট সিটি হ্যাকাথন। প্রেনিউর ল্যাব, গ্রামীণফোন ও হোয়াইট বোর্ড- এর আয়োজনে এই অনুষ্ঠানটি ১১ থেকে ১২ নভেম্বর টানা ৩৬ ঘণ্টা জিপির হেড কোয়ার্টার, জিপি হাউসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। টানা ৩৬ ঘণ্টাব্যাপী এই স্মার্ট সিটি হ্যাকাথনে তরুণরা তাদের বিভিন্ন উদ্ভাবনী চিন্তার মাধ্যমে ঢাকা শহরের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবেন।

স্মার্ট সিটি হ্যাকাথনের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াটি আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। রেজিস্ট্রেশনের জন্য www.white-board.co এই লিংকে গিয়ে আপনার টিমের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করুন। রেজিস্ট্রেশনকৃত টিমগুলোর মধ্য হতে বাছাইকৃত টিমগুলকে এসএমএস ও ইমেইল-এর মাধমে তাদের অংশগ্রহণের ব্যাপারে জানিয়ে দেওয়া হবে।

ঢাকার মোট জনসংখ্যা এক কোটি ৭০ লাখ। এই জনবহুল শহরে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ৩.৪৮%। দিন দিন ঢাকার গুরুত্ব বেড়েই চলছে। স্মার্ট সিটি এমন একটি ধারণা যার উদ্দেশ্য হলো, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে কোনো শহরের সম্পদগুলো সঠিক ও যুগপোযোগীভাবে ব্যবস্থাপনা ও নাগরিকদের জীবনে উন্নয়ন সাধন করা।

স্মার্ট সিটি হ্যাকাথন- এর উদ্দেশ্য হলো প্রতিভা শনাক্ত করা ও তাদের বিভিন্ন দিক নির্দেশনা ও রিসোর্স দিয়ে তাদের চিন্তা এবং ধারণাকে বাস্তব রূপ দিতে তাদের সহায়তা করা এবং সেই প্রকল্পটি দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন খাতে ব্যবহার করা। স্মার্ট সিটি হ্যাকাথন এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যার মাধ্যমে আপনি আপনার উদ্ভাবনী চিন্তার একটি বাস্তব রূপ দিতে সক্ষম হবেন।

৩৬ ঘণ্টাব্যাপী এই অনুষ্ঠানে মোট ২৫টি টিম অংশগ্রহণ করতে পারবে। প্রতিটি টিমে সর্বোচ্চ চার জন ও সর্বনিম্ন দুই জন সদস্য অংশগ্রহণে টিম গঠন করতে পারবে। প্রতিটি টিম ৩৬ ঘণ্টা সময়ব্যাপী তাদের উদ্ভাবনী ধারণাটিকে আইটি সফটওয়্যার অথবা হার্ডওয়্যারের আকারে উপস্থাপন করবেন। প্রতিটি টিমের জন্য একজন মেন্টর থাকবেন, যিনি সেই টিমকে তাদের চিন্তাটিকে বাস্তবায়ন করতে গাইড করবেন। এই আয়োজনটি সকলের জন্য উন্মুক্ত। তবে এতে অংশগ্রহণ করার জন্যে প্রতিটি টিমকে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে এবং প্রতিটি টিমের প্রস্তাবিত প্রকল্পের বা এর ভাবনাটি যাচাইয়ের মাধ্যমে নির্বাচন করা হবে। স্মার্ট সিটি হ্যাকাথন-এ আপনি আপনার টিমকে নিয়ে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

স্মার্ট সিটি হ্যাকাথনের বিজয়ী টিমের জন্য থাকবে সার্টিফিকেট, ক্রেস্টসহ আরো আকর্ষণীয় পুরস্কার। পুরষ্কারের মধ্যে থাকছে, হোয়াইট বোর্ডের পক্ষ থেকে তিন মাসের ইকো-সিস্টেমের অ্যাক্সেস-সহ কো-ওয়ার্কিং স্পেস সাপোর্ট, হোয়াইট বোর্ড কর্তৃক প্রাসঙ্গিক জ্ঞান ও অ্যাসেট সাপোর্ট, বাণিজ্যিক সুযোগ গড়ে তোলার লক্ষ্যে হোয়াইট বোর্ড কর্তৃক একটি বিশেষ ডেমো দিন। আরো থাকছে, জিপি থেকে ছয় মাসের জন্য মেন্টরশিপ ও কো-ওয়ার্কিং স্পেস সাপোর্ট, প্রিনিউর ল্যাবের পক্ষ থেকে ছয় মাসের জন্য সার্ট-আপ মেন্টরশিপ সাপোর্ট ও ইইই বাংলাদেশ সেকশন থেকে ছয় মাসের মেন্টরশিপ, ডিনেট জাংশনের পক্ষ থেকে আইপিআর এবং ইনকিউবেটর সাপোর্ট, স্পাইডারডিজিটাল (দুবাই) এর পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ২.৫ মিলিয়ন টাকা পর্যন্ত ফান্ডিং এর সুযোগ, আইসিটিবি ভাগের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ২.৫ মিলিয়ন টাকা পর্যন্ত ফান্ডিং এর সুযোগ দৈনিক ইত্তেফাক ও রেডিও ফুর্তির পক্ষ থেকে মিডিয়া সাপোর্ট।

আয়োজনটির স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, আইসিটি ডিভিশন, নলেজ পার্টনার ও ইইই বাংলাদেশ সেকশন এবং ওটি কাউন্সিল ইউরোপ। মিডিয়া পার্টনার- রেডিও ফুর্তি, দৈনিক ইত্তেফাক, বিক্রয় ডটকম। কমিউনিটি পার্টনার গুগল ডেভেলপার গ্রুপ, ইউজার হাব, উইমেন টেক মেকারস। ইনভেস্টমেন্ট পার্টনার স্পাইডার ডিজিটাল (দুবাই)।

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক

Please Share This Post.