ঢাকায় চলছে মানব পাচারের উপর আন্তর্জাতিক সম্মেলন

সি নিউজ ডেস্ক :সারা বিশ্বেই মানব পাচার একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।  পাচারের শিকার মানুষেরা দুর্বিষহ জীবন যাপন করে। বেদনা, হতাশা ও অনিশ্চয়তায় হারিয়ে যাচ্ছে হাজারো মানুষ। বাংলাদেশ থেকে মানব পাচারের ভয়ংকর প্রবণতা দেখা যায়। এই অপরাধ বন্ধ করতে হলে রাষ্ট্রকে আরও কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। এই সংকট মোকাবেলার উপায়, রাষ্ট্র ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহের দায়-দায়িত্ব ও ভবিষ্যতের কর্মপন্থা সম্পর্কে জানাতে ঢাকায় চলছে ভার্চুয়াল সম্মেলন। ২১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত আইক্যান ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস, আমেরিকান কর্ণার চট্টগ্রাম এই বিশেষ সেমিনার আয়োজন করেছে। সেমিনারের প্রেক্ষিত সম্পর্কে আইক্যান ফাউন্ডেশনের প্রধান আইরিন খান বলেন, ‘মানব পাচারের পেছনে নানান কারণের মধ্যে অন্যতম দারিদ্র্য, কর্ম সুযোগের অভাব, স্বল্প শিক্ষা ইত্যাদি। সাধারণ মানুষের অসচতেনতার সুযোগ নিয়ে পাচারকারী চক্র নানা প্রলোভন দেখিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুদের পাচার করছে। অসহায় মানুষ অনেক সময় জেনে-শুনে অবৈধ পথে পাচার হতে রাজি হয়। পাচারের কারণে জীবনের মূল্য কমে যাচ্ছে, তৈরি হচ্ছে নানান মানবিক সংকট।’ সংকটের বহুমাত্রিকতা সম্পর্কে সেমিনারের উদ্বোধনী আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার বলেন, মানব পাচার বন্ধ করতে বাংলাদেশকে সহায়তা করা তাঁর কাজের অন্যতম গুরুত্বপুর্ণ একটি অংশ। কোভিড ১৯ এর মতই মানব পাচার একটি বৈশ্বিক মহামারী যা দমন করতে একটি বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া দরকার। সামাজিক সচেতনতা ও সরকারী কার্যকর উদ্যোগ পারে এই সংকট মোকাবেলা করতে। ৫ দিনব্যাপি চলা এই আয়োজনের বিভিন্ন সেশনে আলোচনা করেন  জাস্টিস এন্ড কেয়ার বাংলাদেশের মো. তারিকুল ইসলাম, ইউএনডিপির জেন্ডার স্পেশালিস্ট বিথীকা হাসান আলোচনা করেন কিভাবে অসচেতনতা অপরাধের অন্যতম কারণ। মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন পথ ব্যবহার করে বাংলাদেশের লোকজনের বিদেশে পাড়ি দেওয়া থামছে না। ভাগ্য বদলাতে অনেকে দেশ-বিদেশি মানব পাচারকারীদের প্রলোভনের শিকার হচ্ছেন। তৈরি হচ্ছে নানান সামাজিক ও মানবিক সংকট’। এছাড়াও বিথীকা হাসান বলেন, ‘অবৈধ মানব পাচারের শিকার মানুষের ৭০% নারী। সমাজে বিরাজমান অসমতা ও নারীর প্রতি বৈষম্য নারীকে নির্জাতনের এক চক্রে ফেলে দেয়, যেখানে একটা ভয়াবহ প্রক্রিয়া হল মানব পাচার। সামাজিক প্রতিকুলতার শিকার নারী পাচার হয়ে অমানবেতর সময় পার করে যদি ফেরত আসতে পারে, তখন সমাজ তাকে গ্রহণ করে না। অনেক সময় সে সদিচ্ছায় ফেরত যায়। তাই সমাজের নারীর প্রতি বৈষম্য একটা কারণ হিসেবে কাজ করে নারীকে এই অপরাধে জড়িত করার।’

এছাড়াও এই সেমিনারে অভিবাসনের সংকট, মানব প্রচারের প্রেক্ষিত ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের দায়, রাষ্ট্রের কর্তব্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হবে বিভিন্ন সেশনে। ৫ দিনব্যাপি এই সেশনে আমেরিকান কর্ণার চট্টগ্রামের ফেসবুক পেজ থেকে অংশ নেয়া যাবে। সেমিনারে নানান পেশার শিক্ষক, গবেষক, সাংবাদিক, বিশ্লেষকেরা অংশগ্রহণের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী ও তরুণেরা অংশ নিচ্ছেন।

Please Share This Post.