ঢাকায় আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি উৎসব ‘বিপিও সামিট’ শুরু

জমজমাট আয়োজনে শুরু হয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি উৎসব ‘বিপিও সামিট ২০১৬’। রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ২৮ জুলাই বৃহস্পতিবার সকালে দুই দিনের এই আয়োজনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন সংস্থার (আইটিইউ) মহাপরিচালক হাওলিন ঝাও। হাওলিন ঝাও ছাড়াও সম্মেলনে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ২৫ জনেরও বেশি বক্তা বিভিন্ন সেশনে স্পিকার হিসেবে থাকবেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি সজীব ওয়াজেদ বলেন, তথ্যপ্রযুক্তিসহ সকল ক্ষেত্রে দেশের উন্নয়ন সূচক উপরে দিকে। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হবে। ‘বিপিও সামিট ২০১৬’ আয়োজনের মধ্যে বিশ্বের কাছে বিপিও ক্ষেত্রে বাংলদেশের সাফল্যের বিষয় তুলে ধরা হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ই-লার্নিং ল্যাব তৈরি করেছি। আগামীতে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। সজীব ওয়াজেদ বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য সরকার ইতিমধ্যে ই-বুক তৈরি করছে। কিছু দিনের মধ্যেই আমরা ইলেট্রনিক্স ভার্সন বই তৈরি করবো।

বিপিও ক্ষেত্রে ভালো করার সকল সম্ভবনা বাংলাদেশে রয়েছে। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু দেশকে ‘সোনার বাংলা’ হিসেবে গড়ে তোলার কাজে হাত দিয়েছিলো। বর্তমান সরকার শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ হিসেবে গড়ে তোলার কাজ করে যাচ্ছে। বিপিও সেক্টরে ২০১৮ সালের মধ্যে ১ বিলিয়ন আয় করবে বাংলাদেশ। প্রতি বছর ৩০ হাজার শিক্ষার্থী কম্পিউটার সায়েন্স থেকে পাশ করে বের হচ্ছে। তাদের বিভিন্ন সেক্টরে কাজের ক্ষেত্র তৈরি করছে সরকার।

আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন সংস্থার (আইটিইউ) মহাপরিচালক হাওলিন ঝাও বলেন, বাংলাদেশ বিপিও সেক্টরে অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। এই ধারা বজায় রাখতে হবে। বিপিও সেক্টরে এগিয়ে যাওয়া দক্ষ জনবল তৈরি করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারিভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বার্ষিক আইসিটি খাতে ৫ বিলিয়ন আয় হবে, এর মধ্যে বিপিও ক্ষেত্রে আয় হবে ১ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশকে তথ্যপ্রযুক্তিতে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করেছে সরকার। এর ফলে বাংলাদেশে বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং বা বিপিও ব্যবসার অগ্রগতি সন্তোষজনক এবং এর বর্তমান বাজার মূল্য ১৮০ মিলিয়ন ডলার।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের পাশের দেশ ভারত, শ্রীলংকা ও ফিলিপাইন বিপিও সেক্টরে সবচেয়ে ভালো করেছে। বিপিও সেক্টরে সারা বিশে^র ৬০০ বিলিয়ান ডলারের মধ্যে ভারত প্রায় ১০০ বিলিয়ন, ফিলিপাইন ১৬ বিলিয়ন এবং শ্রীলংকা ৩ বিলিয়ন ডলার আয় করছে। আমাদের লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে এই খাতে ১ বিলিয়ন ডলার আয় করা।

তিনি আরো বলেন, বিপিও খাতে আয় যত বাড়বে দেশ অর্থনৈতিকভাবে ততই এগিয়ে যাবে। তরুণদের উচ্চতর প্রশিক্ষণ দিয়ে তথ্য-প্রযুক্তির বিভিন্ন খাতে কাজে লাগাতে হবে। তরুনদের তথ্য-প্রযুক্তি নিয়ে ক্যারিয়ার গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

দ্বিতীয় বিপিও সামিটের লক্ষ্য সম্পর্কে জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, এই সামিটের মাধ্যমে বিশে^র কাছে বিপিও খাতে আমাদের দক্ষতার কথা যেমন তুলে ধরতে চাই তেমনি চাই আমাদের স্থানীয় সরকারি-বেসরকারি সেক্টরে বিপিও খাতের সম্প্রসারণ। বাংলাদেশের বিপিও সেক্টরের সাফল্যের গল্পগুলো সবাইকে জানাতে চাই। দেশের তরুণদের কাছে এই সেক্টরকে অন্যতম একটি কাজের ক্ষেত্র হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিতে চাই।

ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য ইমরান আহমেদ বলেন, বিপিও সেক্টরে বহু লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। এই খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়ার জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হবে। পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের এই খাতে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী শাহজাহান মাহমুদ বলেন, বিপিও সেক্টরকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বিটিআরসি সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে। বিপিও সেক্টর ও বিটিআরসি যৌথভাবে কাজ করছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতেই বিপিও ক্ষেত্রে দেশের অবস্থান তুলে ধরে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কলসেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিংয়ের (বাক্য) সভাপতি আহমাদুল হক।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো দুই দিনের আয়োজনে ২০ জন আন্তর্জাতিক তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ বিভিন্ন সেমিনার ও কর্মশালায় বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকছেন। এছাড়া দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের প্রায় ৫০ জন সফল ব্যক্তি অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকছেন। এ সময়ে তারা তরুণদের মাঝে তাদের সফলতার কথা তুলে ধরবেন। দুই দিনের এ আয়োজনে ২৫ হাজারের বেশি দর্শনার্থীর উপস্থিতি আশা করছেন আয়োজকরা। পুরো আয়োজনটি অনলাইনে সরাসারি সম্প্রচার করা হচ্ছে। ভেন্যুতে রয়েছে ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা।

সম্মেলনের প্রথম দিন ‘গভর্ণমেন্ট প্রসেস আউটসোর্সিং: গ্লোবাল বেস্ট প্র্যাকটিসেস’, ‘প্রোটেকটিং ডেটা অ্যান্ড প্রাইভেসি ইন দ্য কানেক্টেড নেটওয়ার্ক ওয়ার্ল্ড’, ‘অপারচুনেটিজ ইন লোকাল অ্যান্ড গ্লোবাল বিপিও ফর ইউথ’, ‘বিগ ডেটা এনালাইসিস ফর নিউ হরাইজন ইন বিজনেস ইন্টেলিজেন্স’, ‘ট্রেনিং ওয়ার্কশপ ফর কলসেন্টার এজেন্টস’ এবং ‘চ্যালেঞ্জ অ্যান্ড সলিউশনস ফর ওভারকামিং হার্ডেলস ইন আউটসোসিং অব গভর্ণমেন্ট সার্ভিসেস’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

দ্বিতীয় ও শেষ দিন সন্ধ্যা ৬টায় বলরুমে বিপিও সামিটের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, এমপি। এছাড়া সমাপনী দিনে দেশের বিপিও খাতের সফল উদ্যোক্তাদের পুরস্কৃত করা হবে।

বিপিও সামিট ২০১৬ এর গোল্ড স্পন্সর হিসেবে রয়েছে সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেড ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, সিলভার স্পন্সর অগমেডিক্স, আভায়া, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, মাইক্রোসফট, আইটি পার্টনার এডিএন টেলিকিম, নেটওয়ার্ক পার্টনার ফাইবার অ্যাট হোম, পার্টনার হিসাবে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম, আইসিটি বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিটিআরসি), এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরো (ইপিবি), ক্যারিয়ার পার্টনার বিক্রয় ডটকম, অ্যাসোসিয়েট পার্টনার সার্ক চেম্বার অব কমার্স, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যাার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস), বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস), বাংলাদেশ উইমেন ইন টেকনোলজি (বিডাব্লিউআইটি), সিটিও ফোরাম বাংলাদেশ, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব), ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) এবং বাংলাদেশে আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম (বিআইজেএফ)।

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক

Please Share This Post.