ডিজিটাল ব্যাংক গড়তে কানেকটেড প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবে হুয়াওয়ে


ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের ধারণা বিশ্বব্যাপী ব্যাংক খাতকে নতুন করে ভাবাচ্ছে। তাই ডিজিটাল ব্যাংক গড়ে তুলতে কানেকটেড প্ল্যাটফর্ম তৈরি করার কথা ভাবছে বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। সম্প্রতি বেইজিংয়ের সাংগ্রি-লা-হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ইন্ডাস্ট্রি (এফএসআই) সামিটে অংশ নিয়ে এ তথ্য জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

জানা গেছে, ওই সামিটে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ৮০০ জন ফাইন্যান্সিশিয়াল কাস্টমার এবং বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। যাদের মধ্যে ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অব চাইনা (আইসিবিসি), ডিবিএস ব্যাংক অব সিঙ্গাপুর, চাইনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স গ্রুপ, চাইনা মিনসেং ব্যাংক (সিএমবিসি), দ্য এগ্রিকালচারাল ব্যাংক অব চাইনা (এবিসি), চাইনা মার্চেন্টস ব্যাংক (সিএমবি) এবং চাইনা প্যাসিফিক ইন্স্যুরেন্স গ্রুপ (সিপিআইসি)-এর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বিশ্বব্যাপী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো (ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন) এমন একটি প্ল্যাটফর্ম হবে যা সবকিছুকে সংযুক্ত করবে এবং আর্থিক উদ্ভাবনাকে পরিচালনা করবে। বিশ্বব্যাপী পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডেটা করপোরেশন (আইডিসি) সম্প্রতি ‘দ্য লিডিং উইথ ডিজিটাল ইন ব্যাংকিং’ শীর্ষক একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছে। ওই শ্বেতপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা দিচ্ছে। ভবিষ্যতে এসব ডিজিটাল ব্যাংক নতুন নতুন উন্মুক্ত প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক মডেল বা সেবার সাথে সম্পূর্ণভাবে সংযুক্ত হবে। ফলে প্রচলিত ব্যাংক এবং ফিনটেক কোম্পানিগুলো ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী ইকোসিস্টেম তৈরি করবে।

হুয়াওয়ে এন্টারপ্রাইজ বিজনেস গ্রুপের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ইবিজি গ্লোবাল সেলসের প্রেসিডেন্ট মা ইয়ু বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্ল্যাটফর্ম ভিত্তিক স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সফরমেশনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য তাদের ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস এবং ট্রান্সফরমেশনের উদ্যোগগুলো আরও জোরদার করা প্রয়োজন। ব্যাংক এমনই একটি প্ল্যাটফর্ম হতে পারে যা সবকিছুকেই সংযুক্ত করবে এবং সম্পূণরূপে সংযুক্ত যুগের ডিজিটাল আর্থিক সেবা সরবরাহ করবে। হুয়াওয়ে এখন প্ল্যাটফর্ম+ ইকোসিস্টেমের স্ট্র্যাটেজি অনুসরণ করছে, যা বিশ্বব্যাপী অবস্থান ভিত্তিক পণ্য ও সেবার উন্নয়নে সহায়তা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক গ্রাহক ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।’

প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথে ক্লাউড কম্পিটিং, ফাইভ জি, বিগ ডেটা, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ব্লকচেইন, লেনদেনের শুদ্ধতা যাচাইয়ের জন্য চেহারা শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া, অটোমেটেড ব্যাংকিং শাখা, ক্রস বর্ডার সেটেলমেন্ট এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থা এখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ কম্পিউটার, স্মার্টফোন বা কণ্ঠস্বর ব্যবহার কওে প্রতিদিন তাদের লেনদেন সম্পন্ন করবেন।

‘গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ইন্ডাস্ট্রি (এফএসআই) সামিটে হুয়াওয়ে জিডিটাল ব্যাংক খাতের ১৬টি প্রধান প্রধান আর্থিক সেবা সল্যুশন প্রদর্শন করে। যেগুলোর মধ্যে ফাইন্যান্স ক্লাউট, ফাইন্যান্সিশিয়াল বিগ ডেটা, হাই পারফরমেন্স ওপেন প্ল্যাটফর্ম এবং স্মার্ট ব্রাঞ্চ সেবা ছিল অন্যতম।

বিশ্বব্যাপী আর্থিক খাতই হলো উচ্চমূল্যের খাত, যেখানে গত কয়েক বছর ধরে হুয়াওয়ে বিনিয়োগ করছে। ইতোমধ্যে হুয়াওয়ের ডিজিটাল ব্যাংকিং সল্যুশন বিশ্বের ৩০০টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। যেগুলো মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬টিই হুয়াওয়ের এসব সল্যুশন ব্যবহার করছে।

সিনিউজভয়েস//ডেস্ক/