ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে পলিসি ডায়ালগ অনুষ্ঠিত

তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা নিশ্চিত করতে একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রামের বিভিন্ন উদ্যোগ, উদ্ভাবন ও অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ছড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সাউথ-সাউথ ও ট্রায়াঙ্গুলার কো-অপারেশন জোরদার করার মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে নতুন দ্বার উন্মোচনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

 রবিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে এটুআই প্রোগ্রামের উদ্যোগে “সাউথসাউথ এ্যান্ড ট্রায়াঙ্গুলার কোঅপারেশন ফর পাবলিক সার্ভিস ইনোভেশন’  শীর্ষক একটি পলিসি ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের নিকট তুলে ধরা, উন্নত দেশের অভিজ্ঞতা ডিজিটাল বাংলাদেশ উদ্যোগকে সমৃদ্ধ করার জন্য কাজে লাগানো এবং নাগরিক সেবায় উদ্ভাবনী উদ্যোগ বাস্তবায়নে সাউথসাউথ এ্যান্ড ট্রায়াঙ্গুলার কোঅপারেশন এবং পার্টনারশীপ জোরদার করা।

 ইতিমধ্যে সাউথ সাউথ কো-অপারেশন জোরদার করার লক্ষ্যে গত বছর জিটুজি’র আওতায় মালদ্বীপ সরকার-এর সাথে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রোগ্রামের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। মালদ্বীপ সরকার বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ডিজিটাল মালদ্বীপ গড়ার কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের এ সফল অভিজ্ঞতা অন্যান্য রাষ্ট্রেও ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন, যাতে করে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়। এছাড়া ভুটান, সেসালস, মঙ্গোলিয়া ও মায়ানমার সরকার তথ্য-প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মডেল ও অভিজ্ঞতা তাদের দেশে বাস্তবায়ন বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ‘জনগণের দোরগোড়ায় সেবা’ পৌঁছে দেবার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রামের পক্ষ থেকে নানামূখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ডিজিটাল সেন্টার, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, ন্যাশনাল ই-সার্ভিস সিস্টেম, সেবা পদ্ধতি সহজীকরন, জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও ইনোভেশন ফান্ড উল্লেখযোগ্য। ‘জনগণের দোরগোড়ায় সেবা’ এবং ‘তথ্য ও জ্ঞানে অভিগম্যতা’ নিশ্চিত করার ফলে ২০১৪ ও ২০১৫ সালে এটুআই প্রোগ্রাম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়’কে ‘ওয়ার্ল্ড সামিট অন ইনফরমেশন সোসাইটি (WSIS)’ পুরস্কার প্রদান করে আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ)।

উল্লেখ্য যে, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পরিবেশ ও প্রযুক্তিগতভাবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যেকার পারস্পারিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। সেই উদ্যোগসমূহ সাউথসাউথ কোঅপারেশন নামে পরিচিত।  সাউথসাউথ কোঅপারেশনকে সমৃদ্ধ করতে উন্নত বিশ্ব ও বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা সহযোগীতা করে আসছে, সেই উদ্যোগসমূহকে  ট্রায়াঙ্গুলার কোঅপারেশন হিসেবে অভিহিত করা হয়।

আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনডিপি বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর পলিন ট্যামেসিস, ইউএসএইড বাংলাদেশ-এর ডেমোক্রেসি এন্ড গভর্নেন্স অফিস এর ডেপুটি ডিরেক্টর জ্যাসন স্মিথ, ইউনাইটেড ন্যাশনস ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনমিকস এন্ড সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্সএর সিনিয়র ইন্টাররিজিওনাল এডভাইজার রিচার্ড কার্বে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুখ্য সচিব মোঃ আবুল কালাম আজাদ। এই সভায় স্বাগত বক্তব্য ও “সাউথসাউথ এ্যান্ড ট্রায়াঙ্গুলার

কোঅপারেশন ফর পাবলিক সার্ভিস ইনোভেশন শীর্ষক উপস্থাপনা  প্রদান করেন এটুআই প্রোগ্রামের পলিসি এডভাইজর আনীর চৌধুরী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এর মান্যবর রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়ূদন, বাংলাদেশে নিযুক্ত শ্রীলংকা-এর মান্যবর হাইকমিশনার ইয়াসোজা গুনাসেকারা, বাংলাদেশে নিযুক্ত মালদ্বীপ-এর মান্যবর হাইকমিশনার ড. মোহাম্মেদ অসীম, বাংলাদেশে নিযুক্ত রিপাবলিক অব কোরিয়ার -এর মান্যবর রাষ্ট্রদূত আন সিয়ং ডু , ইউনিসেফ বাংলাদেশ-এর আবাসিক প্রতিনিধি এডওয়ার্ড বেগবেডে, আইএলও’র কান্ট্রি ডিরেক্টর শ্রীনিবাস রেড্ডি, প্যালেস্টাইন-এর চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ইউসুফ রমাদান, মিশরের ডেপুটি হেড অব মিশন আহমেদ জাকী, এশিয়ান ডেভলপেমেন্ট ব্যাংকের প্রিন্সিপাল কান্ট্রি স্পেশালিস্ট মোহাম্মদ পারভেজ ইমদাদ, বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র পাবলিক সেক্টর স্পেশালিস্ট সৈয়দ খালিদ আহসান সহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকবৃন্দ, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ।

সিনিউজভয়েস/ডেক্স

Please Share This Post.