ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আইসিটি বিভাগের যত উদ্যোগ

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির (আইসিটি) সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে সমাজের সকল শ্রেণীপেশার মানুষের জীবনমানে ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি জ্ঞানভিত্তিক ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অন্যতম রাজনৈতিক অঙ্গীকার।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দর্শন, দিন বদলের সনদ এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক মাননীয় উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে চলেছে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের বিশাল কর্মযজ্ঞ। জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানব উন্নয়নে বাংলাদেশে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে দেশের কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নাগরিক সেবা, প্রশাসন, কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ জীবন ধারনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষ ডিজিটাল বাংলাদেশের সুযোগ সুবিধা উপভোগ করছেন।

ডিজিটাল বাংলাদেশের মূল উপাদান:
* ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে দেশের জনগণকে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলা,
* দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য কানেকটিভিটি নিশ্চিত করা,
* সরকারের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিতকল্পে জনগণের দোরগোড়ায় নাগরিক সেবা পৌঁছানো,
* ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ লক্ষ্য অর্জনে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের সবাইকে প্রয়োজনীয় সুবিধা প্রদান করে সমন্বিতভাবে কাজ করা।

উল্লিখিত চারটি মূল উপাদান বা স্তম্ভকে সামনে রেখেই মূলত, ২০০৯ সাল থেকে শুরু হয় ডিজিটাল বাংলাদেশ স্বপ্ন পূরণের বিশাল কর্মযজ্ঞ। এ স্বপ্ন পূরণে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ নানামুখী উদ্যোগ, প্রকল্প, কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে কাজ করে চলেছে। এসব কর্মসূচি ও উদ্যোগেরও রয়েছে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য। এ লক্ষ্য পূরণে বিভিন্ন উদ্যোগের বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অন্যান্য বছরের ন্যায় ২০১৫-১৬ অর্থ বছরেও এ বিভাগের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার শত ভাগের উর্ধ্বে অর্থাৎ ১২১ শতাংশ।

শুধু পরিসংখানের নিরিখেই নয়,তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি কার্যকরভাবে ব্যবহার করে দারিদ্র্য কমানো ও মানব উন্নয়ন -বাংলাদেশের এ মডেল এখন পুরো বিশ্বের কাছে দৃষ্টান্ত। জাতিসংঘ সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড, সাউথ সাউথ কো-অপারেশন অ্যান্ড ভিশনারি অ্যাওয়ার্ড, আইসিটি সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড, ওয়ার্ল্ড সামিট অন ইনফরমেশন সোসাইটি (ডব্লিউএসআইএস) অ্যাওয়ার্ড – এসব আন্তর্জাতিক সন্মাননা সে কথাই প্রমাণ করে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ-কে আইসিটি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড ২০১৬ সালে প্রদান করা হয়। এ বছর ২৯-৩০ আগস্ট চীনে জাতিসংঘের ইকোনমিক অ্যান্ড সোস্যাল কমিশন ফর এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিকের (এসকাপের) এশিয়া প্যাসিফিক ইনফরমেশন সুপার হাইওয়ের মাধ্যমে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সংযুক্তি জোরদারের বিষয়ে অনুষ্ঠিত সভায় বাংলাদেশকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ১৭ নভেম্বর ২০১৬ মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত এশিয়ান ওশেনিয়ান কম্পিউটিং ইন্ডাস্ট্রি অর্গানাইজেশন (অ্যাসিসিও) সম্মেলনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগকে দেয়া হয় অ্যাসিসিও ডিজিটাল গভর্মেন্ট অ্যাওয়ার্ড-২০১৬। এসব অর্জন আমাদের জন্য যেমন অত্যন্ত গৌরবের তেমনি তা জাতির জন্য মর্যাদাকর।
২০১৬ সালের ১২ জানুয়ারি আওয়ামীলীগ সরকারের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের বিস্তারিত কার্যক্রম উপস্থাপন করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে আরও একটি বছর অতিবাহিত হয়েছে।

গত তিন বছরে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের নানামুখী উদ্যোগ, অর্জন ও কর্মপরিকল্পনা ডিজিটাল বাংলাদেশের চারটি মূল উপাদানের আলোকে তুলে ধরা হল।

মানব সম্পদ উন্নয়ন:

* শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব ও ভাষা প্রশিক্ষণ ল্যাব: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এ পর্যন্ত সারাদেশে প্রায় সাড়ে ৫ হাজারেরও বেশি কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করেছে। এর মধ্য ‘শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব ও ভাষা প্রশিক্ষণ ল্যাব’ অন্যতম। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে দেশের ২০০১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তন্মধ্যে, দেশের ৬৪ জেলায় একটি করে ল্যাংগুয়েজ ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এসব ল্যাবে নয়টি বিদেশী ভাষা শেখানো হবে। এছাড়া আরও ৮শ’ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব ও ১০০টি শেখ রাসেল ডিজিটাল ক্লাসরুম স্থাপনের সমস্ত প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে।

* ইনোভেশন ডিজাইন অ্যান্ড অনট্রাপ্রেনিউরশিপ একাডেমি (IDEA): তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবন, সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের সিড ফান্ড ও ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রাপ্তিতে সহায়তা প্রদান এবং গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে নতুন নতুন পণ্য ও সেবা সৃষ্টির জন্য ইনোভেশন ডিজাইন অনট্রাপ্রেনিউরশিপ একাডেমি (আইডিয়া) প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে। এ বছর ৫ সেপ্টেম্বর একনেক প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ২২৯ দশমিক ৭৪ কোটি টাকা। স্টার্ট আপ, প্রতিষ্ঠিত উদ্যোক্তা, গবেষক, সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ, পরামর্শক, ছাত্রসহ অন্যান্যদের একই ছাতার নিচে আনার লক্ষ্যে আইডিয়া প্রকল্পটি কাজ করবে।

* শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীন বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ আইটি খাতে দক্ষ মানব সম্পদ তৈরির লক্ষ্যে দেশের সাতটি স্থানে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। স্থানগুলো হচ্ছে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম বন্দর, নাটোরের সিংড়া, কুমিল্লা সদর, নেত্রকোনা সদর, বরিশাল সদর ও মাগুরা সদর। নাটোরে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার নির্মাণের জন্য পুরাতন জেলখানায়সহ এক একর জমি নির্বাচন করা হয়েছে। আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টারে এক সঙ্গে ৪৮০ জন ট্রেনিং করতে পারবে। এছাড়াও ৫০টি স্টার্ট আপ, ২৯টি প্লাগ অ্যান্ড প্লে প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে।

* চুয়েটে আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর: আইটি খাতে দক্ষ মানব সম্পদ ও উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইটি বিজনেস অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রকল্পের পিইসি সম্পন্ন হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় হতে জনবল অনুমোদিত হয়েছে।

* দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তোলায় প্রশিক্ষণ: ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে একুশ শতকের উপযোগী দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তোলার বিকল্প নেই। সরকারের লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে দেশে আইটি পেশাজীবীর সংখ্যা ২০ লাখে উন্নীত করা। এ লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ আইটি খাতে দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন প্রকল্প ও উদ্যোগ গ্রহণ করে। এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে প্রশিক্ষণ, বিশেষায়িত ল্যাব এবং আইটি প্রশিক্ষণে উদ্বুদ্ধকরণের জন্য সচেতনতামূলক ইভেন্ট আয়োজন। প্রশিক্ষণ বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য:

– বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের লিভারেজিং আইসিটি ফর গ্রোথ, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড গভর্নেন্স (এলআইসিটি) প্রকল্প গুণগত প্রশিক্ষণে প্রদানের মাধ্যমে দেশব্যাপী ৩০ হাজার দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তোলার কাজ করে যাচ্ছে। এর মধ্যে ১০ হাজার শিক্ষার্থী যারা কম্পিউটার বা ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাকগ্রাউন্ডের স্নাতক/ স্নাতকোত্তর তাদের টপ আপ আইটি এবং অন্যান্য ব্যাকগ্রাউন্ডের ২০ হাজার জনকে ফাউন্ডেশন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্নবিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় যার মধ্যে ৮০০ জনের চাকরি হয়েছে।

– এলআইসিটি প্রকল্প থেকে আউটসোর্সিংয়ের ওপর ১০ হাজার তরুণ-তরুণীকে হাই ভ্যালু প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এছাড়া এ প্রকল্পের আওতায় ৪ হাজার সরকারি কর্মকর্তা ও বেসরকারি আইটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যম সারির কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে ৩১৪ জন সরকারি কর্মকর্তাকে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর এবং দিল্লীর ইএসআই ইনিস্টিটিউট থেকে ‘ই-গভর্মেন্ট: পাবলিক সার্ভিস ট্রান্সফরমেশন’, ‘এন্টারপ্রাইজ আর্কিটেকচার,’ এবং আইটি প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে এবং ১২৮৫ জনকে বিভিন্ন বিভিন্ন বিষয়ে দেশে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

– সাইবার আক্রমণ ও অপরাধ মোকাবেলায় এলআইসিটি প্রকল্পের অধীনে BGD e-Gov CIRT বা ই-গভর্মেন্ট সিইআরটি (কম্পিউটার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। BGD e-Gov CIRT সাইবার আক্রমণ মোকাবেলা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব সিআইআরটি গঠনে সহায়তা করছে। এ পর্যন্ত ৭০টি সরকারি অফিসের ওয়েব সাইটের ভালনেরাবিলিটি টেস্ট করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৫৫৬ জনকে সাইবার সিকিউরিটি, ডিজিটাল ফরেনসিক, ইথিক্যাল হ্যাকার (সিইএইচ), ম্যালওয়্যার অ্যানালাইসিস, ম্যানেজিং ডিজিটাল ফরেনিসিক ল্যাব বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

– লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের অধীনে ৫,১২০ জনের ২০০ ঘন্টাব্যাপী (৫০দিন) প্রফেশনাল আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণ চলমান রয়েছে। এর আগে এ প্রকল্পের আওতায় ২০ হাজার নারী ও ১৯২০জন মিডিয়া কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। মোট ৫৫ হাজার তরুণ-তরুণীকে আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

– সাপোর্ট টু ডেভেলপমেন্ট অব কালিয়াকৈর হাইটেক পার্ক প্রকল্পের আওতায় ১৩০৫ জন নারীসহ ৬০৪১ জনকে স্কিল এনহান্সমেন্ট প্রোগ্রাম, সি-লেভেল, ওরাকল অ্যান্ড এসএপিসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এমপ্লয়মেন্ট স্কীমের আওতায় ১২৮৬ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। এছাড়াও দেশের ২৬ টি প্রতিষ্ঠানের আইএসও সনদ ও ৩টি প্রতিষ্ঠানের সিএমএমআই লেভেল-৩ প্রাপ্তির ব্যবস্থা করেছে হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ।

– বিগত এক বছরে বিসিসি’র ইনস্টিটিউট বিকেআইআইসিটি ও ৬টি বিভাগীয় সদর কেন্দ্রের মাধ্যমে এ পর্যন্ত সরকারি পর্যায়ে কাস্টমাইজড কোর্সে ৩৬১৭ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। প্রতিবন্ধীদের সক্ষমতা উন্নয়নে ২০ জনকে প্রশিক্ষণ এবং চাকুরি মেলা-২০১৫, ২০১৬ এবং ২০১৭ আয়োজনের মাধ্যমে ২০০ জনের বেশি প্রতিবন্ধীর চাকুরির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

– বাংলাদেশে আইটি ইঞ্জিনিয়ার্স এক্সামিনেশন (আইটিইই) পরীক্ষা নিয়মিত পরিচালনার জন্য প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ আইটি ইঞ্জিনিয়ার্স এক্সামিনেশন সেন্টার (বিডিআইটেক) স্থাপন করা হয়েছে। জাপানের সহায়তায় আইটিইই পরিচালনা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত আইটিইই-এ ২৭০ জন সার্টিফিকেশন অর্জন করে।

– অনলাইন কম্পিউটার প্রোগ্রামিং (সি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ) শিক্ষার সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি এবং শিক্ষার্থীদের অনলাইনে প্রোগ্রামিং এর কোড সংগ্রহকরণ ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় অনলাইন জাজ এর মাধ্যমে তা মূল্যায়ন ও ফলাফল প্রদানের লক্ষ্যে ই লার্নিং প্লাটফর্ম (www.eshikkha.net) তৈরি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এ প্লাটফর্মে এ পর্যন্ত প্রায় ৪,০০০ রেজিস্ট্রেশন করেছে।

– তৃণমূলের তথ্যজানালা কর্মসূচির আওতায় ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের (ইউডিসি) প্রায় ১০ হাজার উদ্যোক্তাকে ফিচার, প্রতিবেদন, আউটসোর্সিং এবং ই-কমার্সের প্রশিক্ষণ দিয়ে ইনফো-লিডার হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে তিন হাজার উদ্যোক্তার প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে।

– উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করার জন্য ই-শপ কর্মসূচির আওতায় জেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ১০০০ উদ্যোক্তা তৈরি করা হচ্ছে।

– নারীর ক্ষমতায়নের জন্য আইসিটি ডিভিশন মোবাইল আইসিটি ট্রেনিং ল্যাব চালু করেছে। অত্যাধুনিক কম্পিউটার ল্যাব সম্বলিত ৭টি বাসের মাধ্যমে ভ্রাম্যমান প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।ইতোমধ্যে ৫টি বাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রশিক্ষণ চলছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, রবি এবং হুয়াওয়ে বাংলাদেশ লিঃ এর যৌথ উদ্যোগে আগামী তিন বছরে দেশের ৫০ হাজার নারীকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

* ইন্টারঅ্যাকটিভ মাল্টিমিডিয়া ডিজিটাল টেক্সট বুক : পাঠ্য বিষয়বস্তুকে আনন্দদায়ক করে উপস্থাপনের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা পর্যায়ের ইন্টারঅ্যাকটিভ মাল্টিমিডিয়া ডিজিটাল কনটেন্ট প্রস্তুত করা হয়েছে। একটি কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত ২১টি টেক্সট বইকে ডিজিটাল টেক্সটবুক বা ই-বুকে রূপান্তর করে বিভিন্ন স্কুলে বিতরণ করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ এসব ডিজিটাল টেক্সটবুকের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর এ পর্যন্ত ডাউনলোডের সংখ্যা সাড়ে ৫ লক্ষ ৫০ হাজার।

* বিশেষায়িত ল্যাব : তথ্যপ্রযুক্তিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্য বিগ ডাটা অ্যানালাইটিকস বিষয়ে বিসিসিতে ইতোমধ্যে একটি টাইটানিয়াম ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বিসিসি’র এলআইসিটি ও ইনফোসরকার-২ প্রকল্পের আওতায় যথাক্রমে একটি বিশেষায়িত ল্যাব এবং স্পেশাল সাউন্ড ইফেক্ট ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। এসব ল্যাবগুলোতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে। এছাড়াও, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের আইটিতে দক্ষ করে তোলার জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সফটওয়্যার টেস্টিং অ্যান্ড কোয়ালিটি এসুরেন্স ল্যাব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অ্যানিমেশন ল্যাব এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি রোবোটিক ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ডেটা সফটের সঙ্গে একটি ইনটারনেট অব থিংস (আইওটি) ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

* আইসিটি ক্যারিয়ার ক্যাম্প: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে দক্ষ হয়ে উঠা ও আইটিতে ক্যারিয়ার গড়ে তোলায় উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে এলআইসিটি প্রকল্পের উদ্যোগে দেশের ৬৪ জেলার বিশ্ববিদ্যালয়/কলেজে আইসিটি ক্যারিয়ার ক্যাম্প আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এ পর্যন্ত ৩৬টি জেলায় আইসিটি ক্যারিয়ার ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। এসব ক্যারিয়ার ক্যাম্প আয়োজনের মাধ্যমে ৭০ হাজার ছাত্র-ছাত্রীকে অনলাইন নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ বছর মার্চের মধ্যে বাকি জেলাগুলোতে এ ক্যাম্পের আয়োজন করা হবে।

* ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ল্যাপটপ : এক্সিম ব্যাংকের সহায়তায় ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ল্যাপটপ প্রোগ্রামের আওতায় মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মাঝে ল্যাপটপ বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। গত ৩০ এপ্রিল ২০১৫ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা জনাব সজীব ওয়াজেদ এ ল্যাপটপ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ পর্যন্ত সহস্রাধিকছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে ল্যাপটপ বিতরণ করা হয়েছে।

* মোবাইল গেইম ও অ্যাপ্লিকেশন তৈরিতে প্রশিক্ষণ :
বিশ্বব্যাপী মোবাইল গেইমের বিশাল বাজার রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তিতে উন্নত বিভিন্ন দেশ মোবাইল গেইমের বাজার থেকে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। বাংলাদেশ এ বাজারে প্রবেশ করতে চায়। এজন্য মোবাইল গেইম ও এপ্লিকেশন এর দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ।

* বেসরকারি সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক ঘোষণা : বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ আইনের আওতায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বেসরকারি সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক ঘোষণার লক্ষ্যে একটি গাইড লাইন প্রস্তুত করা হয়েছে। এ গাইড লাইনের আওতায় ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি ৭টি বেসরকারি আইটি প্রতিষ্ঠানকে সফওয়্যার টেকনোলজি পার্ক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

কানেক্টিভিটি স্থাপন
ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নতুন দিগন্তের সূচনা হতে যাচ্ছে। অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল লাইনের মাধ্যমে জেলা ও উপজেলা পর্যন্ত ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপনের কাজ আগেই সম্পন্ন হয়েছিল। এখন এ লাইনের মাধ্যমে উপজেলা থেকে উচ্চগতির ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি গ্রাম পর্যন্ত সম্প্রসারিত হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব সজীব ওয়াজেদ প্রতিটি গ্রামে একটি করে ইনফরমেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠার কথা বলেছিলেন।সে লক্ষ্যে ইনফো সরকার-৩ প্রকল্প গ্রহণ করা হয় যা গত ২২ ডিসেম্বর একনেকের সভায় অনুমোদিত হয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ২ হাজার ৬শ’ ইউনিয়নকে ফাইবার অপটিক ক্যাবল সংযোগের আওতায় আনা হবে। গ্রামের মানুষ খুব সহজে তথ্যপ্রযুক্তির মহাসড়কেযুক্ত হতে পারবে। এছাড়াও প্রতিটি ডিজিটাল সেন্টারে একটি করে পয়েন্ট অব প্রেজেন্সপ্রতিষ্ঠা করা হলে গ্রামের মানুষ নিজ বাড়িতে বসেই ব্যবসা-বাণিজ্য, নাগরিক সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এর ফলে গ্রামীণ জনপদের মানুষের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও ডিজিটাল বৈষম্য রোধ সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়। এক হাজার ৯৯৯ কোটি টাকা ব্যয়ে আগামী ২০১৮ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। এ ছাড়াও চীনের আর্থিক সহযোগিতায় স্টাবলিশিং ডিজিটাল কানেক্টিভিটি নামে নতুন একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আইসিটি শিল্পের উন্নয়ন
সরকার আইসিটি শিল্পের বিকাশে হাইটেক ও সফটওয়্যার পার্ক এবং বিজনেস ইনকিউবেশন সেন্টার গড়ে তুলছে। কালিয়াকৈর, যশোর, সিলেট, রাজশাহী, নাটোরসহ বিভিন্ন স্থানে এসব পার্ক ও ইনকিউবেশন সেন্টার নির্মাণের কাজ চলছে। আইটি খাতে বিদেশী বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দেশীয় আইসিটি শিল্পের প্রসারে এসব পার্ক ও ইনকিউবেশন সেন্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা যায়। ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য হলো ২০২১ সালের মধ্যে আইসিটি রপ্তানী ৫ বিলিয়ন ডলার ও আইটি পেশাজীবিদের সংখ্যা ২০ লাখে উন্নীত করা এবং জিডিপিতে আইসিটি খাতের অবদান ৫ শতাংশ নিশ্চিত করা।

* কালিয়াকৈর বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি : ঢাকার অদূরে গাজীপুরেরকালিয়াকৈরে ৩৫৫ একর জমির ওপর বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপের (পিপিপি) আওতায় অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য পাঁচটি ব্লকে বিভক্ত করে দু’টি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ২ এবং ৫ নং ব্লকের উন্নয়ন করছে সামিট টেকনোপলিস লি:। আর ৩নং ব্লকের অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ করছে ফাইবার এ্যাট হোমের কনসোর্টিয়াম বাংলাদেশ টেকনোসিটি লিমিটেড। পার্কটিতে বিনিয়োগের ব্যাপারে শ্রীলঙ্কার ওয়েসিস নামে একটি প্রতিষ্ঠান এবং সৌদি আরবের আল রাজী গ্রুপের সঙ্গে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে ইতোমধ্যে।

* শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক : যশোরে ১২.১৩ একর জমির উপর শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের ৮৫ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ১৫ তলা বিশিষ্ট মূল ভবনের ১১ তলা এবং ১২ তলা বিশিষ্ট ডরমিটরি ভবনের ৬ তলা পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে। দুটি ভবনের বাকী অংশের কাজ এ বছরের এপ্রিল নাগাদ সম্পন্ন হবে।

* জনতা টাওয়ারে ‘সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক’: মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ ২০১৫ সালের ১৮ অক্টোবর জনতা টাওয়ারে ‘সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক’ ও কানেক্টিং স্টার্ট আপ-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ইতোমধ্যে ১০টি স্টার্ট আপ কোম্পানীকে চূড়ান্তভাবে বাছাই করে জনতা টাওয়ারে স্পেস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এখানে মোট ৫০টি স্টার্ট আপ কোম্পানীকে এক বছরের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধাসহ বিনা ভাড়ায় জায়গা বরাদ্দ দেয়া হবে। সেখানে বর্তমানে ১৬টি কোম্পানী তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ভবিষ্যতে আরো প্রতিষ্ঠানকে এমন জায়গা বরাদ্দ দেয়া হবে।

* সিলেট ইলেক্ট্রনিক সিটি :  সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে ১৬২.৮৩ একর জমিতে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ মডেলের আওতায় সিলেট ইলেক্ট্রনিক সিটি স্থাপন করা হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২১ জানুয়ারি ২০১৬ এ সিটির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। পার্কের ভূমি উন্নয়নসহ প্রাথমিক অবকাঠামো যেমন রাস্তা, সুয়ারেজ লাইনের কাজ অব্যাহত আছে। বিদ্যুৎ সংযোগ ও প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের জন্য যাবতীয় কাজ সুসম্পন্ন করা হয়েছে। এ বছরেই ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হবে।

* সফটওয়্যার সার্টিফিকেশন সেন্টার : সরকারি-বেসরকারিপর্যায়ের সেবা প্রদান কার্যক্রম পরিচালনায় নানা ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও আমাদের দেশের অনেক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি উদ্যোগে অনেক সফটওয়্যার তৈরি হচ্ছে। কিন্তু এসব সফটওয়্যারের সার্টিফিকেশনের কোনো ব্যবস্থা নেই। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ‘সফটওয়্যারের কোয়ালিটি পরীক্ষা ও সার্টিফিকেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠাকরণ’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করে। ১৮ অক্টোবর ২০১৬ প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল ইতোমধ্যে এ সেন্টার স্থাপনের জন্য এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট (ইওআই) আহ্বান করেছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশীয় সফটওয়্যারের আন্তর্জাতিক বাজারে গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে।

* রাজশাহীতে বঙ্গবন্ধু সিলিকন সিটি : রাজশাহীতে বঙ্গবন্ধু সিলিকন সিটি নামে একটি হাইটেক পার্ক স্থাপিত হতে যাচ্ছে। ২২ ডিসেম্বর ২০১৬ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় বঙ্গবন্ধু সিলিকন সিটির অনুদোন দেওয়া হয়। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সম্ভ্যাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩৮.৭০ কোটি টাকা। বাস্তবায়ন করা হবে ২০১৯ সালের মধ্যে।প্রকল্পের আওতায় ২ লক্ষ বর্গফুট বিশিষ্ট একটি দশ তলা ভবন, ভূমি উন্নয়ন, অভ্যন্তরীণ রাস্তা ও সীমানা প্রাচীরসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। ৩১.৬২ একর জমি জুড়ে রাজশাহী বঙ্গবন্ধু সিলিকন সিটি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ১৪ হাজার তরুণ-তরুণীর তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

* ১২ আইটি পার্ক প্রকল্প : অবকাঠামো উন্নয়ন ও আইটি/আইটিইএস শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে দেশের ১২টি স্থানে যথাক্রমে গোপালগঞ্জ সদর, মংমনসিংহ সদর, জামালপুর সদর, ঢাকার কেরানীগঞ্জ, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ, চট্টগ্রাম বন্দর, কক্সবাজারের রামু, রংপুর সদর, নাটোরের সিংড়া, সিলেট কোম্পানীগঞ্জ, কুমিল্লা সদর, খুলনার কুয়েটে একই ডিজাইনে আইটি পার্ক নির্মাণের লক্ষ্যে ‘১২ আইটি পার্ক স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের জনবল ইতোমধ্যে অর্থ বিভাগ হতে অনুমোদিত হয়েছে।

আইসিটি শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশে নানা ইভেন্ট
তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক উৎপাদিত পণ্য ও সেবা এবং দেশের আইসিটি শিল্পকে দেশে ও বিদেশে তুলে ধরার লক্ষ্যে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের নেতৃত্বে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথভাবে বিভিন্ন ইভেন্টের আয়োজন করা হয়।

* ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড : ২০১৬ সালের ১৯ থেকে ২১ অক্টোবর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) অনুষ্ঠিত হয় ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৬। নানা দিক থেকে এবারের ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। সাতজন মন্ত্রীসহ ৪৩ জন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের আগমন, বৈচিত্র্যময় উদ্ভাবনী পণ্যের সমাহার, ৮০টিরও বেশি সেমিনারের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তির নানা অগ্রগতির তথ্যের আদান-প্রদান গোটা আয়োজনে নতুন মাত্রা যোগ করে। মাননীয় প্রধামমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ মেলার উদ্বেধন করেন। নন স্টপ বাংলাদেশ স্লোগানকে ধারণ করে তিন দিনব্যাপী ডিজিটাল মেলা শেষ হয়।

এর আগের বছর মহামান্য রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদবাংলাদেশ আইসিটি এক্সপো ২০১৫ উদ্বোধন করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৫ এর উদ্বোধন করেন। মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদসহ দেশের বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ, দেশী-বিদেশী তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং হাজার হাজার তরুণ-তরুণীর আগমন ঘটে এসব ইভেন্টগুলোতে।

* বিপিও সামিট বাংলাদেশ : সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে দেশের সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার শিল্পের বিকাশ, তরুণ-তরুণীদের আগ্রহী করে তোলা এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ২০১৫ এবং ২০১৬ তে বিপিও সামিটের আয়োজন করে। ২০১৬ এর আয়োজনে প্রায় ২৫ হাজার ছাত্র-ছাত্রী, উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার এ সামিটে অংশ নেয়। বিপিও সামিট চলাকালে ২৩৫ জন তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান হয়।

* বাংলাদেশ আইসিটি এক্সপো ২০১৬ : ‘মিট ডিজিটাল বাংলাদেশ’ স্লোগানে ৩-৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ আইসিটি এক্সপো ২০১৬। বাংলাদেশী উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পণ্য ও সেবা উপস্থাপন করে এ প্রদর্শনীতে।এছাড়াও, বিগত বছরে ইউকে-বাংলাদেশ ই-কমার্স, ই-আইডি ফোরাম ২০১৫ আয়োজন করা হয়।

* কানেক্টিং স্টার্ট আপস বাংলাদেশ : তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ আইটি/আইটিইএস সেক্টরের নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘কানেক্টিংস্টার্ট-আপস বাংলাদেশ’ কার্যক্রম গ্রহণ করে। বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, বেসিস ও বাংলালিংক যৌথভাবে এর বাস্তবায়ন করছে। ৪৩৭টি স্টার্ট আপ প্রতিষ্ঠান এ কার্যক্রমে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১২৩টি গ্রোথ স্টেজ স্টার্ট আপ এবং ৩২৪টি আইডিয়া স্টেজ স্টার্ট আপ প্রতিষ্ঠান।

ই-গর্ভানেন্স প্রতিষ্ঠা
* ই-গভর্মেন্ট কার্যক্রমকে এগিয়ে নেয়ার জন্য সরকারের সমন্বিত কর্মপদ্ধতি পরিচালনার অংশ হিসাবে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে আমরা অগ্রসর হচ্ছি। এগুলো হচ্ছে:

– বিভিন্ন সরকারি সংস্থা অনলাইনভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার বা প্রোগ্রাম ব্যবহার করছে। এর ফলে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য আদান-প্রদান ইন্টারঅপারেবল (আন্ত:পরিবাহী) হচ্ছে না। এসব প্রতিষ্ঠানের তথ্য-উপাত্ত এবং সিটিজেন সার্ভিসকে এনইএ বাসের সঙ্গে যুক্ত করে ইন্টার -অপারেবল করা হচ্ছে।

– খাদ্য অধিদপ্তরের খাদ্যশস্য সংগ্রহ পদ্ধতির ডিজিটাইজেশনের পাইলটিং শেষ হয়েছে।জানুয়ারি মাসেই খাদ্যশস্য সংগ্রহ পদ্ধতির ডিজিটাইজেশন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হচ্ছে। সরকার মিল মালিকদের কাছ থেকে খাদ্যশস্য সংগ্রহ করে। এজন্য মিল মালিকদের প্রায় ১০ রকমের কাগজপত্র জমা দিতে হয়। ডিজিটাইজেশন করার ফলে নির্বাচিত মিল মালিকরা আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নের জন্য কী কী কাগজপত্র এবং কোন খাদ্য গুদামে কী পরিমাণ খাদ্য জমা দিবে তা অনলাইনে এবং মোবাইলে এসএমএসে যেমন জানতে পারবে তেমনি তারা অনলাইনে সব কাগজপত্র জমাও দিতে পারবে।

– প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় শিক্ষকদের পেনশন ভাতা প্রদান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পিআরএল এবং পেনশনের আবেদনের প্রক্রিয়ার ডিজিটাইজেশন করা হয়েছে। শিক্ষকরা ঘরে বসেই পিআরএল-এ যাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবে এবং তা মুহূর্তেই অনলাইনে উপজেলা ও জেলা শিক্ষা অফিস হয়ে শিক্ষা অধিদপ্তরে পৌঁছে যাবে। এরপরশিক্ষকরা অনলাইনে পেনশনের আবেদন করতে পারবেন এবং যাদের আবেদন অনুমোদিত হবে তারা হিসাব রক্ষণ অফিসে গিয়ে পেনশন তুলতে পারবেন। এ কর্যক্রমটি উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে।

* জাতীয় ডাটা সেন্টার(থ্রি টায়ার): সরকারি তথ্য উপাত্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় ২০১৬ সালে জাতীয় টিয়ার-৩ ডাটা সেন্টারটি আইএসও-২৭০০১ বা ইনফরমেশন সিকিউরিটি ম্যানেজমেন্ট সনদ লাভ করে। এছাড়াও জাতীয় ডাটা সেন্টারটি আইএসও-২০০০০ সার্টিফাইড। লিভারেজিং আইসিটি ফর গ্রোথ এমপ্লয়মেন্ট গভর্নেন্স (এলআইসিটি) প্রকল্প থেকে এ ডাটা সেন্টারটির স্টোরেজ ক্যাপাসিটি ও স্পেস বৃদ্ধি এবং তথ্য ও ডাটার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়। বর্তমানে ডাটা সেন্টারটির ক্যাপাসিটি ২.৫ পেটাবাইটে উন্নীত করা হয়েছে। ১৪৪টি র্যা ক স্থাপিত হওয়ায় ডাটা সেন্টারটির ওয়েবহোস্টিং ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ডাটা সেন্টারটিতে সংরক্ষিত তথ্য ও ডাটার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ফায়ার ওয়াল, আইপিএস, ইন্ট্রুসন প্রিভেনশন সিস্টেম, অ্যান্টি ম্যালওয়ার, সিকিউরিটি ইনফরমেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। এ ডাটা সেন্টারটিতে সরকারি অফিসের যেসব ওয়েবসাইটসহ তথ্য ও ডাটা রয়েছে তা নিরাপত্তা ঝুঁকিমুক্ত। সেন্টারটি থেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানকে ওয়েব হোস্টিং, মেইল সার্ভিস ও অন্যান্য ই-সেবা হোস্টিং এর সুবিধা প্রদান করছে। ইতোমধ্যে সরকারি ওয়েব সাইট, মেইল হোস্টিং সার্ভিস, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার তালিকার তথ্য ভান্ডারসহ ই-সেবা সংক্রান্ত কার্যক্রম এই ডাটা সেন্টার থেকেই পরিচালিত হচ্ছে।

* টিয়ার ফোর ডাটা সেন্টার: বর্তমানে কালিয়াকৈর হাইটেক পার্ক সংলগ্ন স্থানে সাড়ে ৭ একর ভূমির উন্নয়নের কাজ শেষে ভবন নির্মাণে পাইলিংয়ের কাজ চলছে। বর্তমানে এ ডাটা সেন্টারটির ৩৫% শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। সরকারি ও বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের তথ্য ও ডাটা সুরক্ষিত থাকবে এ ডাটা সেন্টারে।

* ডিআরসি ও ডিআরএস: ইনফো-সরকার প্রকল্প থেকে যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে কনটেইনার ডিজাস্টার রিকোভারি সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সঙ্গে নিয়ে ভূমিকম্পের ঝুঁকিপ্রবণ এলাকার বাইরে যশোরে একটি ডিসঅ্যাস্টার রিকোভারি সাইট প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে লিভারেজিং আইসিটি ফর গ্রোথ, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড গভর্নেন্স (এলআইসিটি) প্রকল্প পিডব্লিউসি’র মাধ্যমে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন করেছে।

* মেসেঞ্জার অ্যাপ আলাপন: সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরকারি কর্মকর্তাদের নিজেদের মধ্যে কথা বার্তা ও ফাইল আদান-প্রদানের জন্য চালু করা হয়েছে মেসেঞ্জার অ্যাপ আলাপন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬ এ মেসেঞ্জার অ্যাপটির মাধ্যমে বরিশালের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলাপ করে আলাপনের উদ্বোধন করেন। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তাদের কাজে গতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে নিজেদের মধ্যে চ্যাটিং, অনলাইন কল, ভিডিও কল, গ্রুপ মেসেজিং, ফাইল আদান-প্রদান সহজ করার জন্য এ অ্যাপটির উন্নয়ন করে। ভাইবারের মতোই বিনা অর্থ ব্যয়ে গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপল স্টোর থেকে তাঁরা এ অ্যাপটি ডাউনলোড করে ব্যবহার করছে।

* বাংলাদেশ ই-গভর্মেন্ট ইআরপি : সরকারি কার্যক্রমের সর্বস্তরে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতামূলক ই-গভর্মেন্ট সিস্টেম চালু করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ই-গভর্মেন্ট ইআরপি নামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি ইতোমধ্যে পরিকল্পনা মন্ত্রী কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। প্রথমে আইসিটি ও প্লানিং ডিভিশনসহ এর সকল অংগ সংস্থাগুলোকে এই কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল সরকারি অফিসে বাস্তবায়ন করা হবে। ফলে ই-গভর্মেন্ট বাস্তবায়নে দেশি আইসিটি শিল্পের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

* জাতীয় পরিচয়পত্রে ডিজিটাল সিগনেচার: নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় পত্রকে স্মার্ট কার্ড হিসেবে রূপান্তর করা হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীন কন্টোলার অব সার্টিফায়িং অথরিটিজ (সিসিএ) এসব স্মার্ট কার্ডে ডিজিটাল সিগনেচারের ব্যবস্থা করছে।

* সরকারি সার্টিফাইং অথরিটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ: সরকারি সার্টিফাইং অথরিটি (সিএ) কর্তৃক ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানসমূহকে ডিজিটাল সার্টিফিকেট ইস্যু করার লক্ষ্যে সার্টিফিকেশন প্রাকটিস স্টেটমেন্ট (সিপিএস), চূড়ান্ত কারিগরি নকশা, ডাটা সেন্টার, ডিআরএস তৈরি হয়েছে। ২০১৭ সালের মধ্যে অবকাঠামো প্রস্তুত করে সার্টিফিকেট ইস্যু করা শুরু হবে।

* বাংলা ভাষা সমৃদ্ধকরণ: বাংলা পৃথিবীর সপ্তম বৃহত্তম ভাষা। বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করা এবং উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছ। এজন্য ‘গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধরণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; যা ইতোমধ্যেই একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় বাংলা ভাষা সহজীকরণের জন্য একটি টুলস এর উন্নয়ন করা হবে। বাংলা ভাষার জন্য এরূপ ১৬টি টুলস এর উন্নয়ন করা হলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলা ভাষা ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। বাংলা কর্পাস, ফন্ট, সিএলডিআর, আইপিএ ফন্ট ইত্যাদি প্রমিতকরণে বিশ্বমানের বাংলা কম্পিউটিং চালু হবে।

* ই-গভর্মেন্ট মাস্টার প্লান : ই-গভর্মেন্ট বাস্তবায়নের জন্য একটি মাস্টার প্লান প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। এজন্য তথ্যপ্রযুক্তিতে অগ্রগামী দেশ কোরিয়ার সহযোগিতায় ফরমেশন অব দ্য ই-গভর্মেন্ট মাস্টার প্লান প্রনয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পটি সম্প্রতি মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অনুমোদন পেয়েছে।

* ই-জুডিশিয়ারি প্রকল্প : মামলা জটের নিরসন হবে ও জনদুর্ভোগ কমাতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং বিচার বিভাগ যৌথভাবে ‘বাংলাদেশের বিচারিক ব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজেশনে সহায়তা প্রদান’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করেছে। প্রকল্পটি বর্তমান বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। ২০১৮ সালের মধ্যে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মামলা জটের নিরসন হবে, জনগণের দুর্ভোগ কমবে।

* ন্যাশনাল হেল্প ডেস্ক: জাতীয় পর্যায়ে সর্বস্তরের জনগণের জন্য মোবাইল ফোনভিত্তিক (৯৯৯) হেল্পডেস্ক কর্মসূচি পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দেশের যেকোনো নাগরিক বিনামূল্যে এ কল সেন্টারে ফোন করে হাসপাতাল, পুলিশ, ফায়ার স্টেশন নম্বর, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক তথ্যসহ জীবন ও জীবিকার তথ্য জানতে পারবেন। পরীক্ষামূলক বাস্তবায়নের পরে আগামী ২০১৭ সালের মধ্যে সকল ক্যাটাগরীতে তথ্যসেবাপ্রদান করা সম্ভব হবে।

ডিজিটাল মহেশখালি 
মহেশখালী দ্বীপের প্রন্তিক মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটানোর জন্য ৩৬২ দশমিক ১৮ বর্গকিলোমিটার জুড়ে ‘কনভার্টিং মহেশখালী ইনটু ডিজিটাল আইল্যান্ড’ শীর্ষক প্রকল্প বা ডিজিটাল মহেশখালি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে কোরিয়ান টেলিকম (কেটি) ও ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব মাইগ্রেশন (আইওএম)। স্পেনের বার্সিলোনায় ওয়ার্ল্ড মোবাইল কংগ্রেস ২০১৬ চলাকালে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, কোরিয়ান টেলিকম ও আইওএম’র মধ্যে ডিজিটাল মহেশখালী প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রকল্পটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
মহেশখালী দ্বীপের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ব্রডব্যান্ড কানেক্টিভিটির আওতায় নিয়ে আসা হবে। একই সঙ্গে এলাকার মানুষকে দেয়া হবে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনের নানা সেবা। কনভার্টিং মহেশখালী ইনটু ডিজিটাল আইল্যান্ড প্রকল্পটিকে একটি মডেল হিসেবে দাঁড় করানো হচ্ছে, যাতে অন্যান্য প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকাকে ডিজিটালে রূপান্তরে এ মডেলটি অনুসরণ করা যায়। চুক্তি অনুসারে কোরিয়ান টেলিকম উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যাকবোন অবকাঠামোসহ মহেশখালী ও কক্সবাজার এলাকার মানুষের চাহিদা বিশ্লেষণ করে পর্যটন, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করবে। অন্যদিকে আইওএম এলাকায় মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করবে।

আইসিটিভিত্তিক উদ্ভাবনীতে সহযোগিতা
তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবনীমূলক কার্যক্রমকে সহায়তা প্রদান করার লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মোট ৭৭টি প্রকল্পে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ৪ কোটি টাকা অনুদান প্রদান করা হয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সেবার উত্তরোত্তর বিকাশের লক্ষ্যে দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স পর্যায়ে ডক্টরাল এবং পোস্ট ডক্টরাল, এমফিল,অধ্যায়নরত মোট ১১২ জন ছাত্র-ছাত্রী, ফেলো, গকেষকদেরকে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২ কোটি ২৫ লাখ ৭৮ হাজার টাকা বৃত্তি/ ফেলোশীপ প্রদান করা হয়েছে।

অন্যান্য উদ্যোগসমূহ:

আইসিটি উদ্ভাবনী, গবেষণা ও ফেলোশীপের জন্য বিশেষ অনুদান :

– ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আইসিটি অধিদপ্তর কর্তৃক শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবকে কেন্দ্র করে আইসিটি ক্লাব গঠন করা হয়েছে। ডিজিটাইজড করাসহ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রতিটি ক্লাবকে ১০ হাজার টাকা করে মোট ২ কোটি ১০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে।

– জাগো ফাউন্ডেশন পরিচালিত দেশের ১৩টি স্কুলের মধ্যে ১০টি অনলাইন স্কুলের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অনলাইনভিত্তিক মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য জাগো ফাউন্ডেশনকে ৩৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করা হয়েছে।

– শিক্ষিত নারীদের জন্য একটি সামাজিক উদ্যোক্তা মডেল ইনফোলেডি নামক প্রকল্পে দেশের ১০টি জেলার ৬০টি উপজেলায় প্রচারাভিযানের জন্য ডিনেট এর অনুকুলে ৩৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করা হয়েছে।

– ন্যাশনাল ইনফরমেটিকস অলিম্পিয়াড, ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিয়াড ইন ইনফরমেটিকস, দ্বিতীয় ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ইলেক্ট্রিক্যাল ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি, ১৮তম ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন কম্পিউটার অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি ২০১৫ শীর্ষক কনফারেন্স আয়োজনের জন্য ১৫ লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে।

– তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবনীকে উৎসাহিত করতে ১০০০ ইনোভেটিভ প্রোডাক্টস বাই ২০২১ ইভেন্ট ফেস্টিভ্যাল কার্যক্রমের আওতায় বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের মাধ্যমে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৯জনকে ৯০ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়।

* তরুণ প্রজন্মের জন্য: শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশ ঘটানো, তাদের মধ্যে সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে জাগিয়ে তোলার লক্ষে ৬ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল ২০১৬ পর্যন্ত ১৬টি অঞ্চলেজাতীয় পর্যায়ে হাই স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। দ্বিতীয়বারের মত এ প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, চট্ট্রগ্রাম, বরিশাল, ঢাকা, গোপালগঞ্জ, দিনাজপুর, পাবনা, পটুয়াখালি, টাঙ্গাইল, নোয়াখালি, কুমিল্লা, যশোর এবং ময়মনসিংহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এ প্রতিযোগিতায় ১৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এ বছরেও একই ধরনের তবে বড় পরিসরে প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

– প্রোগ্রামিং উৎসাহিত করতে ‘আইসিপিসি প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা’ আয়োজনের জন্য ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিককে সহায়তা প্রদান করা হয়।

– তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা তৈরি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। স্কুল-কলেজে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিতর্ক শিক্ষাথীদের মাঝে আগ্রহ ও সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ১২ থেকে ৩০ নভেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত দেশের স্কুলগুলোতে আইসিটি বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এ প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।

– বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজের শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের কাছ থেকে জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা সমাধনমূলক মোবাইল অ্যাপস তৈরির লক্ষ্যে বিগত দুই বছরের ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালের ৬ ও ৭ এপ্রিল মিরপুর পুলিশ স্টাফ কলেজে ৩৬ ঘন্টার নন স্টপ হ্যাকাথনের আয়োজন করা হয়। দুই দিনের হ্যাকাথনে প্রোগ্রামার, ফ্রিল্যান্সার, ছাত্র, অ্যাপ ডেভেলপার মিলে প্রায় ১৫০০ জন অংশগ্রহণ করে। টেকসই উন্নয়নের জন্য ১০টি বিষয়ের উপর হ্যাকাথন অনুষ্ঠিত হয়।

আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন
সাইবার জগতকে নিরাপদ রাখার জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৬ প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়। ২২ আগস্ট ২০১৬ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে এ আইনের খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন করা হয়। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৫ অক্টোবর ২০১৬ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৬ এর প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জন করে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগে ভেটিং এর জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়াও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর (গেজেটেড ও নন গেজেটেড কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ) বিধিমালা, ২০১৫ প্রণয়ন করেছে।

এখানেই শেষ নয়…

২০১৬ সালে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ চলমান প্রকল্পের কার্যক্রমকে বেগবান করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের ২৫টি প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরুর লক্ষ্যে কাজ করছে। ২০২১ সালে দেশকে পূর্ণমাত্রায় ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত করার সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে গৃহিতব্য প্রকল্পগুলো হলো:

এমপাওয়ারমেন্ট অব পারসনস উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিস ইনক্লুডিং এনডিডি থ্রু আইসিটি স্কিলস ডেভলপমেন্ট ইউটিলাইজিং আইটি ইঞ্জিনিয়ার্স এক্সামিনেশন প্রজেক্ট, ই-সার্ভিস বাস্তবায়ন প্রকল্প, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির দক্ষতা প্রমিতকরণ প্রকল্প, ভবিষ্যৎ আইসিটি উন্নয়নের জন্য সমীক্ষা প্রকল্প, মহাখালি আইটি পার্কের প্রাথমিক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প, আপগ্রেডেশন অব পিকেআই সিস্টেম এন্ড ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অব সিসিএ অফিস, ইলেক্ট্রনিক স্ট্যাম্পিং বাস্তবায়ন প্রকল্প, জাতীয় সিইআরটি স্থাপন প্রকল্প (প্রথম পর্যায়), প্রযুক্তির সহায়তায় নারীর ক্ষমতায়ন (সি পাওয়ার) প্রকল্প, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ভবন স্থাপন প্রকল্প।

২০১৫ সালে ইনফো সরকার-২ প্রকল্পের আওতায় জেলা ও উপজেলা পর্যন্ত অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল লাইনের মাধ্যমে কানেক্টিভিটির সম্প্রসারণ করা হয়েছে। দেশের ১৮৩০০ সরকারি অফিসের মধ্যে কানেক্টিভিটি ও ৮০০ ভিডিও কনফারেন্সিং সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। ২০১৬ সালে এসে কানেক্টিভিটি ও ভিডিও কনফারেন্সিং সিস্টেম ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগে নতুন মাত্রা যোগ করে। তথ্যপ্রযুক্তির এই বিস্ময়কর সম্প্রসারণকে কাজে লাগিয়ে বিদেশী রাষ্ট্র প্রধান ও সরকারের উর্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা ও উদ্বোধনের ঘটনা প্রণিধানযোগ্য। ২৩ মার্চ ২০১৬ ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে ত্রিপুরায় ১০ জিবিপিএস ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট এবং ভারত থেকে বাংলাদেশে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্বোধন করেন এই ভিডিও কনফারেন্সিং সিস্টেম ব্যবহার করে।

জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করে গড়ে তোলার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গত ১৩ জুলাই ২০১৬ ভিডিও কনফারেন্স সিস্টেম ব্যবহার করেন। গণভবন থেকে চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। ১২ নভেম্বর এবং ১৯ নভেম্বর ২০১৬ গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী এক সঙ্গে গ্রামের প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষের মুখোমুখি হন। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী ও উন্নয়ন সংক্রান্ত ধারাবাহিক মতবিনিময়ের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আট জেলার ২ হাজার ৯৮১টি গ্রামের মানুষ এই ভিডিও কনফারেন্স প্রত্যক্ষ করেন। সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি অনেক সমস্যার সমাধান দেন। এসব ঘটনা ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের পথে মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক