ডিজঅনরড টু একটি অ্যাকশন অ্যাডভেঞ্চার স্টেলথ গেম

২০১২ সালে ‘গেম অব দ্যা ইয়ার’ খেতাব পেয়েছিলো ডিজঅনরড। গোলাগুলি, অলৌকিক শক্তি,‘স্টেলথ’-এই সব কিছুর মিশেল ছিলো গেমটিতে। এ বছর মুক্তি পাওয়া সিকুয়্যেল ডিজঅনরড টু-ও ব্যতিক্রম নয়। পুরনো সব ফিচারের পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন শক্তি,অভাবনীয় কাহিনী আর বিশেষ করে চোখ ধাঁধানো গ্রাফিক্স।

ডিজঅনরড টু একটি অ্যাকশন অ্যাডভেঞ্চার স্টেলথ গেম। ডিজঅনরড টু এর কাহিনী শুরু হয় প্রথম গেম শেষ হওয়ার পনেরো বছর পর থেকে। দুটি চরিত্র নিয়ে খেলা যাবে-করভো অথবা এমিলি। অ্যাকশন সিকোয়েন্সের দিক থেকে একই হলেও দুজনের রয়েছে আলাদা আলাদা অলৌকিক শক্তি। যারা সিরিজের প্রথম গেমটি খেলেছেন, তারা করভোর সাথে পরিচিত। তার ক্ষমতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘ব্লিংক।’ নামের মতই এটি ব্যবহার করে চোখের পলকে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পৌঁছানো যায়। ‘পসেসন’ ব্যবহার করে শত্রুদের উপর ভর করা যায়,এমনকি মৃতদেহের উপরও ভর করা যায়। দেয়াল ভেদ করে শত্রুদের গতিবিধির উপর নজর রাখতে ব্যবহার করতে পারবে ‘ডার্ক ভিশন।’ ‘বেন্ড টাইম’ ব্যবহার করে সময়কে ধীর করে দেয়া যায়, শুধু তাই নয়, যথাযথ আপগ্রেড দিলে এটি দ্বারা সময়কে থামিয়েও দেয়া যায়। নতুন চরিত্র এমিলির ক্ষমতাও কিছু কম নয়। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় চলে যাওয়ার জন্য এমিলি ব্যবহার করতে পারবে ‘ফার রিচ’। ‘শ্যাডো ওয়াক’ শক্তির মাধ্যমে সে ছায়ায় পরিণত হয়ে যেতে পারবে। করভোর মতো সে-ও ব্যবহার করতে পারবে ডার্ক ভিশন। এমিলির একটি মজার ক্ষমতা হলো ‘ডমিনো।’ এই শক্তি দ্বারা কয়েকজন শত্রুকে ‘ট্যাগ’ বা যুক্ত করা যায়। তাদের একজনের উপর যে প্রভাব পড়বে, অন্য সবার উপর সেই একই প্রভাব পড়বে। যেমন একজনকে মেরে ফেললে সবাই মরে যাবে। এছাড়াও এমিলির নিজের ক্লোন তৈরি করার ক্ষমতা আছে।
ডিজঅনরড টু স্যান্ডবক্স ঘরানার গেম। গেমের প্রেক্ষাপট গ্রীস, ইতালি আর স্পেনের শহরগুলোর আদলে তৈরি। এছাড়াও কিউবা, মালিবু, ক্যালিফোর্নিয়ার মতো দেশের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে গেমের প্রেক্ষাপট তৈরি করতে। আগের গেমটির মতো ডিজঅনরড টু-এ ও বিভিন্নভাবে মিশন সম্পন্ন করা যায়। গেমার ই”েছ করলে অলৌকিক শক্তি আর পিস্তল,গ্রেনেড ব্যবহার করে ধুন্ধুমার অ্যাকশনের পথ বেছে নিতে পারেন। আবার অতো মারামারি পছন্দ না হলে শত্রুর চোখ এড়িয়েও মিশন শেষ করা যায়। এক্ষেত্রেও অলৌকিক শক্তি খুব কাে দেবে। নির্মাতাদের ভাষ্য অনুযায়ী গেমার নিংশব্দে, শত্রুর চোখ এড়িয়ে মিশন সমাপ্ত করতেই বেশি আগ্রহী হবেন। আগের গেমটির মতো এবারও কোনো শত্রুকে না মেরেই গেমটি শেষ করে ফেলা যাবে। গেমার কোন পাশ বেছে নিবেন, তার উপর নির্ভর করে গেমটি বিভিন্নভাবে শেষ হতে পারে।
গেমটি খেলতে যা যা প্রয়োজন:
অপারেটিং সিস্টেম: উইন্ডোজ ৭,৮ অথবা ১০ (শুধুমাত্র ৬৪ বিট)
প্রসেসর: ইন্টেল কোর আই৫-২৪০০ অথবা এএমডি এফএক্স -৮৩২০
র‌্যাম: ৮ গিগাবাইট
গ্রাফিক্স কার্ড: এনভিডিয়া জিটিএক্স ৬৬০(২ জিবি) অথবা এএমডি রেডিয়ন ৭৯৭০(৩ জিবি)
হার্ডডিস্ক: ৬০ গিগাবাইট খালি জায়গা

নেক্সট জেন গ্রাফিক্সের গেম হওয়ায় মাইক্রোসফট উইন্ডোজের পাশাপাশি শুধুমাত্র এক্সবক্স ওয়ান ও প্লে স্টেশনে খেলা যাবে ডিজঅনরড টু। কম্পিউটারে আলট্রা সেটিংসে খেলার জন্য আই সেভেন প্রসেসরের পাশাপাশি কমপক্ষে এনভিডিয়া জিটিএক্স ১০৬০ (৬ জিবি) বা রেডিয়ন আরএক্স ৪৮০( ৮ জিবি) প্রয়োজন। গেমটিতে মোট নয়টি লেভেল আছে। অনেকে হয়তো কল্পনা করছেন মাত্র নয় লেভেলের একটা গেমের জন্য ৬০ গিগাবাইট হার্ডডিস্ক কেন প্রয়োজন! কারণ গেমটির প্রতিটি লেভেলই অত্যন্ত বড় পরিসরে গড়ে তোলা। একেকটা লেভেল যেন একেকটা ওপেন ওয়ার্ল্ড এরিয়া। লেভেলগুলোর কাঠামোও অভাবনীয় ধরণের! যেমন একটা মিশন একটা বড় দূর্গকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে-যেটার কাঠামো একটু পর পর পাল্টাতে থাকে। আরেকটা মিশনে গেমার নিজেকে শত্রুদের নজর এড়ানোর জন্য ‘ধূলিঝড়ে’ নিজেকে আড়াল করতে পারবেন। অন্যরকম এসব লোকেশনের পাশাপাশি হাই গ্রাফিক্স আর ইফেক্ট তো আছেই। এজন্যে প্রসেসর আর গ্রাফিক্স কার্ডের পাশাপাশি গেমটি হার্ডডিস্কেরও অনেকখানি জায়গা দখল করে রাখবে।
আগের গেমটি যারা খেলেছেন, তাদের জন্য তো বটেই, যারা খেলেননি, তাদের জন্যও সময় কাটানোর চমৎকার এক মাধ্যম হতে পারে গেমটি। জনপ্রিয়তা ধরে রেখে অসংখ্যা নমিনেশন ও পুরষ্কারের পাশাপাশি এ বছরও ‘গেম অব দ্যা ইয়ার’ এর খেতাব জিতেছে ডিজঅনরড টু।

শাহেদ উন নবী
গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরী হাই স্কুল, ঢাকা
যোগাযোগ : shahedunnabi003@gmail.com