বঙ্গবন্ধু শিশু রোবটিক্স উৎসবে খুদে শিক্ষার্থীদের অন্যরকম একদিন

জাতীয় শিশু দিবস এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মদিন উপলক্ষে ১৭ মার্চ ড্যফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সোবহানবাগ ক্যাম্পাসে “বঙ্গবন্ধু শিশু রোবটিক্স উৎসব ২০১৯” পালিত হয়েছে।

এদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শতাধিক খুদে শিক্ষার্থী মেতে উঠেছিল এক অন্যরকম আয়োজনে। স্ক্র্যাচ প্রোগ্রামিং দিয়ে গেম বানানো, নিজের রোবট নিজে বানানো, মোবাইল ফোন দিয়ে সাপ-রোবটকে আঁকাবাকা পথে চালনা করা, রোবটিক্স ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন সমাধানের আইডিয়া প্রদান – এমন সব প্রতিযোগিতার পাশাপাশি দিনভর তারা রোবটিক্সের জগত নিয়ে নানা আনন্দ আয়োজনে যুক্ত হয়। এদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট দুইজনের বয়স ছিল মাত্র ৬ বছর।

মঞ্চে মানবাকৃতির বাংলাদেশী রোবট “নিনো”। গানের তালে তালে সেটি দুই হাত পা দুলিয়ে নৃত্যরত। তার সামনে একদল ছেলেমেয়ে তাকে অনুকরণ করছে। আর সেখান থেকে বাছাই করে তিনজন হয়েছে বিজয়ী।

 

child Robotix

 

শিশুদের এই আনন্দ উদযাপনে বিকেলে সঙ্গী হোন  তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি। এ সময় তিনি খুদে রোবট অনুরাগীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন – জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণের জন্য ছোটবেলা থেকে নতুন নতুন প্রযুক্তিকে করায়ত্ব করতে হবে। আগামী দিনগুলোতে এমন আয়োজনে সরকারের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন দিন। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান লুনা শামসুদ্দোহা, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির পরিচালক শহিদ-উল-মুনির, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ইউসুফ মাহবুবুল ইসমলাম, বিডিওএসএনের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান প্রমূখ।

কৃষি জমির আর্দ্রতা পরিমাপ করে সেটাকে কৃষিকাজের উপযুক্ত করবে চিটাগাং গ্রামার স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণী পড়ুয়া কাজী মোস্তাহিদ লাবিব এর “বেঙ্গল এর্গোবোট”। তার এই রোবট স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফসলকে পোকামাকড় থেকে রক্ষা করবে এবং অধিক ফলনের নিশ্চয়তা দেবে। এছাড়াও একই স্কুলের তাফসিরের “রোবো-হোম” ঘরের বৈদ্যুতিক পাখা,লাইট চালানোর পাশাপাশি সাহায্য করবে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে। মাহাদি আলম মাসফি দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে তৈরী করেছে “সেভিয়র ড্রোণ” যা কিনা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছাতে সাহায্য করবে।

প্রতিযোগিতায় আসা শিশুদের বাবা মায়েদের মধ্যেও উৎসাহের কোনো কমতি ছিল না, শিশুদের সঙ্গে তারাও মেতে থাকেন সারাটা দিন।তাদের একজন বলেন, এরকম প্রতিযোগিতা বাংলাদেশে আরও আগে শুরু করা উচিত ছিল, স্বাধীনতার পরেই এরকম কিছু করতে পারলে শিশুদের বিকাশ অনেক ভালো হতো।

বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন) এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় এর যৌথ উদ্যোগের এই আয়োজনে সহ-আয়োজক ছিল ইন্টারনেট সোসাইটি বাংলাদেশ চ্যাপ্টার, বাংলাদেশ রোবটিক্স সোসাইটি, মাকসুদুল আলম বিজ্ঞানাগার ও সিরেনা টেকনোলজিস। পৃষ্ঠপোষকতা করেছে উইডেভস, ফাইবার এট হোম ও গিগাটেক লিমিটেড।  মিডিয়া পার্টনার হিসেবে আছে সি নিউজ, টেকশহর, নাগরিক টিভি, ঢাকা এফ এম ও কিশোর আলো।

-সিনিউজভয়েস/জিডিটি/১৮এম/১৯