ডাটা হারানোর ৫টি মূল কারণ

নিজের ব্যবসায়িক বা পেশাগত কাজে অথবা নিছকই ব্যক্তিগত কারণে আমরা সবাই এখন কম্পিউটারনির্ভর এক দুনিয়ায় বাস করি। অফিসে সকাল থেকে সন্ধ্যা কম্পিউটার দাবড়ানোর পর বাড়িতে ফিরেই আবার কম্পিউটার খুলে বসা। এমনকি বেড়াতে বা ভ্রমণে গেলেও মুক্তি নেই, কোনো না কোনোভাবে আমাদের কম্পিউটার দরকার হবেই। আমাদের যাদের কম্পিউটার আছে তাদের বেশির ভাগই কোনো না কোনো সময় ফাইল বা ডাটা হারিয়েছি। আমরা সবাই জানি, অনেক কষ্টে তৈরি বা সংগ্রহ করা ডাটা হারানোর কষ্টটা কীরকম। বিশেষ করে সেটি যদি খুব গুরুত্বপূর্ণ কোনো ডাটা হয়। আর প্রাতিষ্ঠানিক ডাটা হলে তো কথাই নেই। একই সাথে অনেক ক্লায়েন্টকে বিপদে ফেলে দেয় এই ঘটনা। অনেকে ক্ষেত্রে আমরা হয়ত ডাটা হারানোর এই বিপদ সম্বন্ধে পুরোপুরি সচেতনও থাকি না। কিন্তু আমরা যদি অনলাইন ডাটা লসের কারণগুলো সম্বন্ধে জানি তাহলে আরো ভালভাবে ও সতর্কতার সাথে ডাটা নিয়ে কাজ করতে পারব, ফলে ডাটা হারানোর আশঙ্কাও কমে আসবে অনেকখানি। আসুন তাহলে জানি, ডাটা হারানোর প্রধান ৫টি কারণ।

১। হার্ডঅয়্যার ও সিস্টেমজনিত সমস্যা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হারিয়ে যাওয়া ডাটার একটি বড় অংশই হারায় কম্পিউটার সিস্টেম বা হার্ডঅয়্যারের ঝামেলার কারণে। হার্ডঅয়্যার ও সিস্টেমজনিত ত্রæটির মধ্যে আছে কন্ট্রোলারজনিক সমস্যা, বিদ্যুতের সমস্যা এবং হেড বা মিডিয়া ক্র্যাশ। কীভাবে বুঝবেন আপনার কম্পিউটার এ ধরনের কোনো সমস্যায় ভুগছে?
ক্স আগে ব্যবহার করেছেন এমন ডাটা কোনো কারণ ছাড়াই উধাও হয়ে গেছে।
আপনাকে এরর মেসেজ দেখিয়ে বলা হচ্ছে যে, ডিভাইস রিকগনাইজ করতে পারছে না কম্পিউটার।
ক্স খটখট বা এ ঘ্যাঁশঘ্যাঁশে শব্দ।
ক্স কম্পিউটারের হার্ড ড্রাইভ কাজ করছে না।
ক্স হার্ড ড্রাইভ ঘুরছে না।
সিস্টেম ও হার্ডঅয়্যার ম্যালফাংশন এড়াতে হলে আপনার কম্পিউটার কম্পোনেন্টগুলোকে ধুলোমুক্ত, শুকনো ও আবৃত জায়গায় রাখতে হবে। আর হার্ড ড্রাইভের ঢাকনা কখনো সরানো অবস্থায় রাখবেন না।

২। মানবীয় ভুল

এটিও একটি বড় সমস্যা। আমরা কম্পিউটার ফাইলকে প্রায়ই আপডেট করি, যেগুলো কাজে লাগবে না সেগুলো মুছে ফেলি। আর এটি করতে গিয়ে অনেকসময় ভুলে প্রয়োজনীয় জিনিসও মুছে বা নষ্ট করে ফেলতে পারি। সঠিক ব্যাক আপ স্ট্র্যাটেজি না থাকা এবং কর্মপ্রবাহ পদ্ধতি (ড়িৎশভষড়ি ঢ়ৎড়পবফঁৎবং) মেনে না চলাও ডাটা লসের একটি কারণ। ডাটা হারানো এড়ানোর অন্যতম উপায় হচ্ছে নিয়মিত ফাইলের ব্যাক আপ রাখা। ব্যবহারকারী কর্তৃক ফিজিক্যাল ড্যামেজ বা আঙ্গিক ক্ষতিসাধনরও ডাটা হারানোর কারণ হতে পারে। বাড়ির যেখারেন মানুষের চলাফেরা বা আনাগোনা বেশি সেসব জায়গায় কম্পিউটার ডিভাইস রাখবেন না।

৩। ভাইরাস ও ম্যালঅয়্যার
প্রতিদিনই কিন্তু নতুন নতুন ভাইরাস আর দুষ্টু সফটঅয়্যার কম্পিউটার ভুবনে প্রবেশ করছে। বিশেষ করে আমরা এখন প্রচুর সময় অনলাইনে সংযুক্ত থাকি, আর এই অনলাইন সংযোগ ভাইরাসের আক্রমণ এবং এর পরিণতিতে ডাটা হারানোর একটি বড় কারণ। ভাইরাসটি কেমন তার ওপর যদিও ক্ষতির ধরন বা পরিমাণ নির্ভর করে, তবে ভাইরাস বিশেষত অপারেশনাল সফটঅয়্যারকে আক্রমণ করা, সংরক্ষিত ডাটা নষ্ট করা ইত্যাদিকেই বিশেষভাবে টার্গেট করে। কম্পিউটারে ভাইরাস আক্রমণ ডাটা লসেরও অন্যতম কারণ বলে স্বীকৃত। অনেক ভাইরাস গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক ডাটাকে টার্গেট করে। আপনার কম্পিউটারে যদি এ ধরনের ডাটা থেকে থাকে তাহলে আপনার ক্লায়েন্টের ডাটাবেস ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য নিরাপদে রাখার ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি সচেষ্ট থাকুন। আপনার কম্পিউটার সিস্টেমকে ভাইরাস ও এ ধরনের সমস্যা থেকে নিরাপদ রাখার জন্য অ্যান্টিভাইরাস সফটঅয়্যার ব্যবহার ও নিয়মিত আপডেটেড রাখুন। এছাড়া আপনার অনলাইন নিরাপত্তাকে নিয়মিতভাবে মনিটর করুন।

৪। কম্পিউটার সিস্টেমের আঙ্গিক ক্ষতি ও তরল পদার্থ

আজকাল ল্যাপটপের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। আমরা খাবার বা পানি গ্রহণ করার সময়ও অনেক সময় ল্যাপটপ ব্যবহার করি। চা, কফি, জুস ইত্যাদি পানীয় গ্রহণের সময় ল্যাপটপের ওপর এগুলো ছলকে পড়তে পারে। তরল পদার্থ থেকে রক্ষা করার জন্য অনেক ল্যাপটপে বাড়তি প্রতিরক্ষা স্তর (বীঃৎধ ঢ়ৎড়ঃবপঃরড়হ ষধুবৎ) নেই। ফলে ছলকে পড়া পানীয় শর্ট সার্কিট বা গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রনিক কম্পোনেন্ট-এর ক্ষতি করতে পারে। শর্ট সার্কিট হলে কম্পিউটার ডাটা পুনরুদ্ধার করা খুবই কঠিন। সাধারণত কম্পিউটারের হার্ড ড্রাইভ বিশেষ প্রতিরক্ষা আবরণের মধ্যে থাকে, ফলে একটু ভিজে গেলেও এটি ব্যবহার উপযোগী থাকে। তবে বেশি ভিজে গেলে হার্ড ড্রাইভও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে। আবার কখনো কখনো কম্পিউটার পানিতে পড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় বা সুইমিং পুল বা পুকুরে পাশে বসে থাকলে এটি ঘটতে পারে। পানিতে পড়ার সময় কম্পিউটার বন্ধ থাকলে হয়ত ক্ষতিটা অপূরণীয় কিছু হবে না। কম্পিউটার যদি পুরোপুরি পানিতে ডুবে যায় তাহলে সেটিকে পরে আবার কাজের উপযোগী করা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে কম্পিউটারের অন্তত কিছু অংশও যাতে ব্যবহার উপযোগী রাখা যায় তা নিশ্চিত করার জন্য যত দ্রæত সম্ভব এক্সপার্টদের কাছে নিয়ে যেতে হবে।

৫। বিদ্যুতের সমস্যা

ঘনঘন বিদ্যুৎ যাওয়া বা বিদ্যুতের ওঠানামাও ডাটা লসের অন্যতম কারণ। বিদ্যুতের সমস্যা যখন কম্পিউটার হার্ডঅয়্যার বা অপারেটিং সিস্টেমকে প্রভাবিত করে, তখন কম্পিউটার হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং পরে রিবুট করতে সমস্যা করতে পারে। এই সমস্যা আবার একটি চেইন রিঅ্যাকশনের সৃষ্টি করতে পারে, ফলে আপনার ডাটা হারিয়ে যেতে বা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে। বিদ্যুতের ওঠানামাও আপনার কম্পিউটারের বিভিন্ন পার্টসের ক্ষতি করতে পারে। আপনার পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটকে পরিবর্তন করে এসব সমস্যার অনেকগুলো সমাধান করা যেতে পারে বটে, তবে হাডঅয়্যারের অন্যান্য কম্পোনেন্টও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে হার্ড ড্রাইভ ম্যাগনেটিক ফিল্ড ও ভোল্টেজেরে ওঠানামা দ্বারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নিয়মিত ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাকআপের ব্যবস্থা করলে পাওয়ার ফেইল্যুরজনিত সমস্যাগুলো দূর করতে পরেন। বিদ্যুৎজনিত সমস্যা থেকে মুক্ত রাখতে ইউপিএস ব্যবহার করুন।

 

 

Please Share This Post.