‘ডাটা ফর ডিসিশন ইন হেলথ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর-এর উদ্যোগে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের ঢাকা ও ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলায় স্বাস্থ্যতথ্য ব্যবস্থার বাস্তব প্রয়োগ পরিদর্শনের মাধ্যমে সম্মেলন সমাপ্ত হয়েছে।

৩ এপ্রিল সন্ধ্যায়, হোটেল লা মেরিডিয়ানে ‘ডাটা ফর ডিসিশন ইন হেলথ’ শীর্ষক স্বাস্থ্য বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্তি ঘোষণা করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, এমপি।

সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম প্রধান অতিথি হিসেবে তার বক্তব্যে বলেন, ‘এই সম্মেলনে প্রযুক্তিভিত্তিক স্বাস্থ্যতথ্যব্যবস্থাসহ বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের গুরুত্বপূর্ণ অর্জনগুলো তুলে ধরা এবং মূল্যবান জ্ঞান-অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি স্বাস্থ্যতথ্য নিয়ে এই সম্মেলন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অর্জন ও পদক্ষেপ ঠিক করতে সহায়ক হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকল্প অনুযায়ী পরিচালিত আমাদের উন্নয়নের অনেক সাফল্য এখন বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে চিহ্নিত। এরই ধারাবাহিকতায় একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী উন্নতমানের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য আমাদের গণতান্ত্রিক সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’

এই সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের প্যানেল আলোচনায় ইউনিসেফ সদর দপ্তরের সিনিয়র হেল্‌থ স্পেশালিষ্ট জেনেভিভ বাকগয়েন, যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেমস বাটচেলর, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ড. জাপ কুট, ইউএনএফপিও বাংলাদেশ-এর জনস্বাস্থ্য কর্মসূচির প্রধান ড. সাথিয়া দরাইসামি স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রণয়নে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা ও কর্মসূচি বর্ণনা করেন।

দ্বিতীয় দিনের সবচেয়ে প্রাণবন্ত আলোচনায় ইউএসএআইডি-এর অ্যাডভাইজর ড. কান্তা জামিল, ডিএফআইডি-এর ড. শেহলিনা আহমেদ, আইসিডিডিআরবি’র উপ-নির্বাহী পরিচালক এবং সাবেক স্বাস্থ্য সচিব মঞ্জুরুল ইসলাম এবং অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম এর এ্যাডভাইজর আনির চৌধুরী স্বাস্থ্য তথ্য ব্যবস্থায় সরকারি বেসরকারি অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা এবং অগ্রগতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদের পরিচালনায় এই মুক্ত আলোচনায় স্বাস্থ্য তথ্য ব্যবস্থার বিভিন্ন সম্ভাবনা, সীমাবদ্ধতা, স্বাস্থ্য তথ্যের গুণগত মান, তথ্য সংগ্রহ ওবিশ্লেষণে সক্ষমতা বাড়ানোর উপায় এবং স্বাস্থ্য নীতি প্রণয়নসহ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত গড়ে তোলার সংস্কৃতির ওপর গুরুত্বআরোপ করেন। আলোচনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ওপেন এমআরএস, দেশের সব স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রের তথ্য নিয়ে স্বয়ংক্রিয় স্বাস্থ্য বার্তা, ডিসট্রিক্ট হেলথ ইনফরমেশন সিস্টেম সহ প্রযুক্তিভিত্তিক স্বাস্থ্যতথ্য ব্যবস্থায় বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের গুরুত্বপূর্ণ অর্জনগুলো তুলে ধরেন।

পৃথিবীর ২০টিরও বেশি দেশের সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ, উন্নয়ন সহযোগি, প্রাইভেট সেক্টর, স্বাস্থ্য গবেষক, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপক, নীতি নির্ধারক, গণমাধ্যম থেকে আগত প্রতিনিধিবৃন্দ এই সম্মেলনের প্যানেল আলোচনা এবং বিভিন্ন সংস্থার স্বাস্থ্য তথ্য ব্যবস্থার ওপর স্টল ভিত্তিক পরিদর্শনে অংশ নিয়েছেন। সম্মেলনে স্বাস্থ্যবিষয়ক মোট ৮টি সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে।

৩ এপ্রিল সোমবার, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মায়ানমার, কঙ্গো, ভারত, শ্রীলঙ্কা, জার্মানি, ভারত, হাইতি, নরওয়ে সহ ১৯টি দেশ থেকে আগত বিদেশি প্রতিনিধিরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম, স্বাস্থ্য বাতায়ন ও ন্যাশনাল ডাটাসেন্টার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। বিদেশি প্রতিনিধিরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপকদের সাথে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম সম্পর্কে মতবিনিময় করেন। এরপর বিদেশি প্রতিনিধিরা ঢাকার চানখারপুলেসরকারি কর্মজীবী হাসপাতালে এবং গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওপেন এমআরএস সফটওয়ারের মাধ্যমে হাসপাতাল সেবায় অটোমেশন সিস্টেম প্রবর্তন, ভাইটাল রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতিতেনবজাতকের জন্ম নিবন্ধন ও মৃত্যুর কারন নিবন্ধনসহ স্বাস্থ্যতথ্য ব্যবস্থার বাস্তব প্রয়োগ পরিদর্শন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, আইসিডিডিআর’বি, ইউনিসেফ, ইউএনএফপিও, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ভাইটাল স্ট্রাটেজিব্লুমবার্গ, ইউএসএআইডি-এর এমএসএইচ ও মেঝার এভালুয়েশন এবং এইচআইএসপি বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় এই সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে। সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং উন্নয়ন সহযোগি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হয়।

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক