ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীকে আইএসপি সংবর্ধনা, এবং ৬ দাবি হস্তান্তর

গতকাল ২৫ জানুয়ারি, ২০১৮, বৃহস্পতিবার, সন্ধ্যা ৬টায় আইএসপি এ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ, রাজধানীর গুলশান ক্লাবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এর মন্ত্রীত্ব গ্রহণ উপলক্ষে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইএসপিএবি’র সভাপতি আমিনুল হাকিম।

শুরুতে মাননীয় মন্ত্রী কে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দেন আইএপিএবি’র সাধারণ সম্পাদক এমাদাদুল হক। তিনি মাননীয় মন্ত্রী কে আইএসপিএবি পরিবারের আপনজন আখ্যা দিযে দেশের তথ্য-প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে জনাব মোস্তাফা জব্বারের নেতৃত্বের ও অনন্য অবদানের উপর আলোকপাত করেন। এমদাদুল হক আশা প্রকাশ করে বলেন- আপনি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত ডিজিটাল বাংলাদেশ সম্প্রসারনের অগ্রগতি আরো ত্বরান্বিত হবে”।

অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপনা করেন আইএসপিএবি’র সভাপতি আমিনুল হাকিম। হাকিম মাননীয় মন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন- “আপনার গৃহীত প্রথম ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় এ খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, পেশাজীবী এবং গ্রাহকদের সত্যিকার চাওয়ার প্রতিফলন ঘটেছে। আপনার কর্মপরিকল্পনারয় স্বল্প খরচে দেশব্যাপী  ইন্টারনেট ছড়িয়ে দেয়া; দেশীয় সফটওয়্যার বাজার কে বিদেশী প্রতিষ্ঠানের রাহুমুক্ত করা এবং ডিজিটাল মিডিয়ায় বাংলা কন্টেন্টের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি ভুমিসহ সরকারি সমস্ত সেবার ডিজিটালাইজেশনের যে তিনটি অগ্রাধিকার আপনি নির্ধারণ করেছেন তা মূলত আমাদের সবার সামগ্রিক আকাঙ্খার যোগফল। আইএপিএবি-সভাপতি মন্ত্রীর ঘোষিত প্রথম ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনার সাথে একাত্বতা প্রকাশ করে এইএসপিএবি’র পক্ষ থেকে পদ্ধতিগত ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কিছু সমস্যা এবং এ বিষয়ে কতিপয় সংস্কারেরর প্রয়োজনীয়তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন (মূল বক্তব্য সংযুক্ত করা হলো)।

মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আইএসপিএবি কর্তৃক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন করায় ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সভাপতি আমিনুল হাকিম কর্তৃক উথ্বাপিত প্রস্তাবসমূহ গুরত্বের সাথে বিবেচনা করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন। আমার কাছে এই প্রস্তাব গুলি খুবেই গুরুত্ব পুর্ণ তিনি উথ্বাপিত প্রস্তাব সমূহ গুরুত্বের সাতে বিবেচনা করবে। তিনি আরো বলেন আমি মনে করি ইন্টারনেট মানেই ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট, ইন্টারনেট ছাড়া ডিজিটাল বাংলাদেশ হবে না। ইন্টারনেট এখন মানুষের মৌলিক অধিকার, এই পঞ্চম মৌলিক অধিকারটি সংবিধানে নিবন্ধিত করার জন্য কাজ করার কথা বলেন । গ্রামে ও শহরের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারে খরচের কোন পার্থক্য থাকবে না।

ইতিমধ্যে প্রধান মন্ত্রী নীতিমালা সংক্রান্ত সকল বিষয়ে ট্রেডবডি সহ একটি কমিটি করে সচিব মাহোদয়কে কাজ করার নির্দেশ দেন। বিদেশের প্রত্যেকটি সংস্থায় এখন থেকে বাংলাদেশে সরকারের প্রতিনিধি থাকবে বলে জানান, ডট বাংলা এবং ডটবিডির রেজিষ্ট্রেশন ফি সমানভাবে নির্ধারণ করার নির্দেশ দেন শব্দগত পার্থক্যে কোন ফির প্রার্থক্য হবে না। যে কোন জায়গা থেকে যেন মোবাইলে সবাই রেজিষ্ট্রেশন করতে পারার  কথা বলেন। সবাই যেন নিরাপদে ইন্টারনেট ও Face Book  ব্যবহার করতে পারে। এ জন্য ইন্টারনেট তথ্যপ্রযুক্তিবিদদের সহায়তা  প্রদান করার কথা বলেন  ।

৬টি দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, এনটিটিএন চার্জের উচ্চ ও নিম্নসীমা নির্ধারণ, ট্রিপল-প্লে ব্রডব্যান্ড সার্ভিসের অনুমতি, আইপি-টেলিফোন ও মোবাইল অপারেটরদের সমন্বয়, পারস্পরিক অ্যাকটিভ শেয়ারিংয়ের অনুমতি, ইন্টারনেট সেবার অতিরিক্ত ধাপসমূহের বিলুপ্তি ও লাইসেন্সবিহীন আইএসপি নির্মূল করা।

তিনি আরো বলেন  ট্রেডবডি থাকার কারণেই আজকের এই বাংলাদেশ তিনি সব ট্রেডবডিকে নিয়ে নীতিমালা দেওয়ার কথা বলেন এবং তা বাস্তবায়ন করায় দায়িত্ব তিনি নিজে নিবেন বলে জানান।

আই্সপিএবি’র এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের সদস্যগণ, সাধারণ সদস্যবৃন্দ এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অন্যন্য সংগঠনের আমন্ত্রিত প্রতিনিধিদের বক্তব্যের পর   আইএসপিএবির সাবেক সভাপতি আক্তারুজ্জামান মঞ্জু, বর্তমান কমিটির কোষাধ্যক্য সুব্রত সরকার শুভ্র, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মইনুদ্দীন আহমেদ, এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের পরিচালক মুহমাম্দ আরিফ এবং কামাল হোসাইন। অনুষ্ঠানে সিকোয়াব, বেসিস, বাংলাদেশ কম্পিটার সমিতি, বাক্কো এবং ই-ক্যাব এর প্রতিনিধি বৃন্দ উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন।

-গোলাম দাস্তগীর তৌহিদ

 

Please Share This Post.