টেলিযোগাযোগ সেবায় বিটিআরসি’র চেয়ারম্যানও অসন্তুষ্ট

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কর্তৃক জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে “টেলিযোগাযোগ সেবা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যক্রম” সম্পর্কিত বিষয়ে আজ ১২ জুন ২০১৯ বুধবার সকাল ১১:০০ টায় রমনাস্থ ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে প্রায় ৫০০ জন অতিথির উপস্থিতিতে এক গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিটিআরসি’র লাইসেন্সধারী বিভিন্ন টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের দায়িত্বপ্রাপ্ত উচ্চ-পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দের উপস্থিতিতে বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান মোঃ জহুরুল হক, কমিশনার (স্পেকট্রাম) মোঃ আমিনুল হাসান, কমিশনার (ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড অপারেশন্স) মোঃ রেজাউল কাদের, কমিশনার (সিস্টেম এন্ড সার্ভিসেস) প্রকৌঃ মোঃ মহিউদ্দিন আহমেদ এবং কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগসমূহের মহাপরিচালকগণ নিবন্ধিত অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে মতামত প্রদান করেন।

এছাড়া, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ, কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা, ভোক্তা অধিকার সংঘ, মোবাইলফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন, বিটিআরসি’র লাইসেন্সধারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও তাদের এসোসিয়েশন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

গত ২৪ মে ২০১৯ থেকে ০৩ জুন ২০১৯ বিটিআরসি’র ওয়েবসাইটের নিবন্ধনের মাধ্যমে ২০২ জন গ্রাহক মোট ১,৩১৯ (এক হাজার তিনশত উনিশ) প্রশ্ন/অভিযোগ/মতামত কমিশনকে অবহিত করে। পরবর্তীতে গণশুনানি সংশ্লিষ্ট কমিটি কর্তৃক যাচাই-বাছাই করণের মাধ্যমে ১৬৫ জনকে শুনানিতে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়।

প্রশ্নসমূহের মধ্যে মোবাইল অপারেটরদের কলড্রপ ও বিভিন্ন প্যাকেজ (ভয়েস, ডাটা বান্ডল) এবং এর মূল্য সম্পর্কে অভিযোগ ছাড়াও বায়োমেট্রিক সিম নিবন্ধন, সাইবার অপরাধ, মোবাইলফোনে হুমকি, ফেসবুক ব্যবহারে নিরাপত্তা, মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস, ফাইভ জি, এ্যামেচার রেডিও সার্ভিস, মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি, মোবাইল অপারেটরদের কলসেন্টারের মাধ্যমে সেবা সংক্রান্ত অভিযোগ  এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য টেলিকম সেবাপ্রদানকারী লাইসেন্সিদের সেবা সম্পর্কিত বিষয়সমূহ অর্ন্তভূক্ত ছিল।

উপস্থিত সকলের অংশগ্রহণে প্রায় ০৩ ঘন্টা ব্যাপি এক প্রাণবন্ত গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া, গ্রাহকগণের সরাসরি উত্থাপিত সম্পূরক অন্যান্য প্রশ্নাবলী যা সময় সংকীর্ণতার কারণে উত্তর প্রদান করা সম্ভব হয়নি তাঁর উত্তর পরবর্তীতে বিটিআরসি’র ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

গণশুনানির শেষভাগে বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান মোঃ জহুরুল হক সার্বিক বিষয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরণের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন। অভিযোগগুলো নিশ্চয়ই কমিশন সমাধান করবে। কল সেন্টার সপ্তাহে ৫ দিন ছিল। এখন সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা হবে। ফেসবুকসহ ওয়েবসাইটে অভিযোগ নেওয়া হবে।

এছাড়াও  তিনি উল্লেখ করে বলেন, টেলিযোগাযোগ সেবার বিস্তার কয়েক বছর আগের তুলনায় এখন অনেক বেড়েছে। তবে সে তুলনায় আমাদেরকে নতুন নতুন বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রাহক সেবার মান আরও উন্নত হবে, এবং অতিশীগ্রই গ্রাহকদের সকল অভিযোগ অপারেটরদের নিয়ে সমাধান করা হবে।

-সিনিউজভয়েস/জিডিটি/জুন১২/১৯

Please Share This Post.