টেলিযোগাযোগ খাতে বিরূপ করনীতি বিনিয়োগ বান্ধব নয়-অ্যামটব

ঢাকা : টেলিযোগাযোগ খাতে আরোপিত নতুন করনীতিকে বিরূপ ও বিনিয়োগ-বান্ধব নয় মন্তব্য করে এর বিরোধিতা করেছে দেশে মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর সংগঠন দি অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকমিউনিকেশনস অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব)। গত, ২৫ জুন, ২০১৬ (শনিবার) রাজধানীর এক হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানায় সংগঠনটি।
অ্যামটবের জেনারেল সেক্রেটারি টিআইএম নুরুল কবীর বলেন, “ভ্যালু চেইনের সকল পর্যায়ে এই শিল্প ইতোমধ্যে করের বোঝায় জর্জারিত। তিনি আরো বলেন, “নতুন আরোপিত কর গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দেয়া ছাড়া আপারেটরদের আর কোন উপায় নেই।”
বিশ্বে টেলিযোগাযোগ খাতে সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ একটি, অন্যদিকে প্রতি গ্রাহক থেকে গড় রাজস্ব প্রাপ্তির পরিমাণ সর্বনিন্ম। এ খাতে যে পরিমাণ কর বসানো হয়েছে তাতে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোকে কর পরিশোধ করতে রাজস্বের ৪৫ শতাংশ ব্যয় করতে হয়।
বর্ধিত সম্পূরক শুল্ক ও সারচার্জ
অ্যামটবের জেনারেল-সেক্রেটারি দেখান যে, ২০১৫ সালে টেলিযোগযোগ শিল্পে সার্বিক রাজস্ব বৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে সরকার ৪ শতাংশ (৩ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক+১ শতাংশ সারচার্জ) বাড়তি করারোপ করেছে, এর পাশাপাশি নতুন বাজেট প্রস্তাবনা সম্পূরক শুল্ক ২ শতাংশ বৃদ্ধি করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মানে এ প্রস্তাব গৃহীত হলে গ্রাহককে প্রায় ২২ শতাংশ কর প্রদান করতে হবে, ২০১৫ সালে যা ছিল ১৫ শতাংশ।

ইন্টারনেট ব্যবহারকে উৎসাহিত করতে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বার্থে বর্ধিত ২ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর সারচার্জ বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছে অ্যামটব।  টেলিযোগাযোগ খাতে কর্পোরেট করের হার সর্বোচ্চ কর্পোরেট করের ক্ষেত্রেও রয়েছে বৈষম্য। অন্যান্য কোম্পানিগুলোর তুলনায় টেলিযোগাযোগ কোম্পানিগুলোকে ১০ শতাংশ বেশি কর্পোরেট কর প্রদান করতে হয়।

এ বৈষম্য দূর করতে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর কর অন্যন্য কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, কর্পোরেট কর কমানো এবং যেহেতু এ খাতে বিনিয়োগের প্রেক্ষিতে মুনাফা পেতে সময় লাগে তাই সর্বনিন্ম কর ০ দশমিক ৩ শতাংশ হারে আরোপ করার সুপারিশ করেছে অ্যামটব।

অ্যাপিলের জন্য ডিপোজিট অ্যামাউন্ট ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ নতুন বাজেটে ভ্যাট ট্রাইবুনালের ক্ষেত্রে ডিপোজিট অ্যামাউন্ট ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার প্রেক্ষিতে নুরুল কবীর বলেন, এর ফলে বিনিয়োগ নিরূৎসাহিত হবে। অন্যদিকে বিতর্কিত ৫০ শতাংশ কর করদাদাতের অধিকারেরও পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন তিনি। নুরুল কবীর আরো বলেন, বাংলাদেশে এমন বিরূপ করনীতির কারণে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মোবাইল মার্কেটে তেমন প্রণোদনা পাওয়া যায় না যা মানসম্মত সেবা প্রদানের জন্য বিনিয়োগের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় এবং ৩জি ও ৪জি সেবা চালুর ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়।

বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে ডিপোজিট অ্যামাউন্ট না বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে অ্যামটব।  সিম/রিম কর: মোবাইল টেলিযোগাযোগ সেবা গ্রাহকদের জন্য সহজ করার জন্য সিম/রিম কর বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে অ্যামটব।

-গোলাম দাস্তগীর তৌহিদ

Please Share This Post.