টেলিকম আম্ব্রেলার মধ্যেই গ্রাহক সেবা দিতে চাই- ইয়াসির আজমান

 

চিফ মার্কেটিং অফিসার (সিএমও), গ্রামীণফোন, ইয়াসির আজমান গত ১৫ জুন, ২০১৫ তে গ্রামীণফোনের চিফ মার্কেটিং অফিসার (সিএমও) হিসেবে নিযুক্ত হন। জনাব ইয়াসির আজমান একজন অভিজ্ঞ প্রফেশনাল যার বিভিন্ন দেশ এবং সংস্কৃতিতে বিস্তৃত আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা আছে। গ্রামীনফোনে সিএমও হিসেবে যোগদানের আগে তিনি টেলিনর গ্রুপের হেড অফ ডিস্ট্রিবিউশন ও ই-বিজনেস এবং টেলিনরের সব ধরণের অপারেশনের জন্য কাজ করেছেন। এছাড়াও তিনি টেলিনর ইন্ডিয়া অপারেশনের উড়িষ্যা এবং কর্ণাটক সার্কেলের ইভিপি ও সার্কেল বিজনেস হেড হিসেবে ২০১০-২০১২ পর্যন্ত কাজ করেছেন। গ্রামীণফোনে তার পূর্বের টেনিউরের আগে, গ্রামীণফোনের সেলস এবং ডিস্ট্রিবিউশন অর্গানাইজেশন স্ট্রাকচার জন্য এবং গ্রামীণফোনের ডিস্ট্রিবিউশন স্ট্রাকচার রূপান্তরের জন্য প্রধান ভূমিকা পালন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে এমবিএ অর্জন করেন এবং লন্ডন বিজনেস স্কুল ও আইএনএসইএডি আয়োজিত এক্সিকিউটিভ শিক্ষামূলক প্রোগ্রামে অংশ নেন। সম্প্রতি মাসিক সি-নিউজ থেকে গোলাম দাস্তগীর তৌহিদ গ্রামীণফোনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন ইয়াসির আজমান এর সাথে। এখানে সাক্ষাতকারের উল্লেখযোগ্য অংশ পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো।

gp-cmo-news-pic

সি-নিউজ: গ্রামীণফোনের সঙ্গে আপনার যুক্ত হওয়া সম্পর্কে বলুন?

ইয়াসির আজমান: ২০০৫ সালের অক্টোবর থেকে গ্রামীণফোনের সঙ্গে যুক্ত আছি। এর আগে বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেছি। ব্যাংকিং সেক্টর দিয়ে কর্মজীবন শুরু, ব্রিটিশ-আমেরিকান টোবাকোসহ বেশি কিছু প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছি। এরপর ২০০৫ সালে গ্রামীণফোনে যোগদান করি। গ্রামীণফোনের আগে পাকিস্তানের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম।

২০০৫ সালে গ্রামীণফোনে যোগদানের পর ২০১০ সালে ভারতে টেলিনরের হয়ে উড়িষ্যা এবং কর্ণাটক রাজ্যের দায়িত্বে ছিলাম। উড়িষ্যাতে হেড অব স্টেট হিসেবে কাজ করেছি। কর্ণাটকে স্টেট সিইও হিসেবে ছিলাম। ২০১৩-র শুরুতে নরওয়ের অসলোতে টেলিনর গ্রুপে যোগদান করি। ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট ডিস্ট্রিবিউশনের কাজ করেছি। যে ১৩টি দেশে টেলিনরের কার্যক্রম রয়েছে, প্রত্যেকটা দেশের সঙ্গেই ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট নিয়ে আমার টিম কাজ করে। ২০১৫ সালের জুনে গ্রামীণফোনে চিফ মার্কেটিং অফিসার (সিএমও) হিসেবে যুক্ত হয়েছি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে মার্কেটিংয়ে এমবিএ সম্পন্ন করেছি। ঢাকা কলেজ থেকে বিকম। চাকরি জীবনে এক্সিকিউটিভ প্রোগ্রাম লন্ডন বিজনেস স্কুল থেকে এবং এক্সিকিউটিভ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম আইএনএসইএডি থেকে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এ দুটো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক্সিকিউটিভ কোর্স সম্পন্ন করি।

সি-নিউজ: আপনাদের ওয়াওবক্সের বর্তমান ব্যবহারকারী কত এবং এর মাধ্যমে কী কী সেবা দেওয়া হয়?

ইয়াসির আজমান: ওয়াওবক্সে গ্রামীণফোনের বর্তমানে ৫.৪ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার আছে। মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী প্রায় ৩ মিলিয়ন। ওয়াওবক্স হচ্ছে লাইফস্টাইল ঘরানার একটা অ্যাপ। এটা শুধু গ্রামীণফোনের প্রোডাক্ট এবং কনটেন্ট বিক্রয়ের জন্য নয়। বরং বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট যেমন নিউজ, রেসিপি, গেমস, অর্থাৎ অনলাইন লাইফস্টাইল অ্যাপ। এটা টেলিনর ডিজিটালের একটা প্রোডাক্ট। গ্রামীণফোন বাংলাদেশে এক্সক্লুসিভলি এটা লঞ্চ করেছে। টেলিনর ডিজিটালের অবশ্যই অ্যাম্বিশন আছে সেবাটা অন্যান্য দেশে নিয়ে যাওয়ার। পাকিস্তানে আছে, মায়ানমারে চালু হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশে খুবই সাড়া ফেলেছে। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম নতুন টেকনোলজি গ্রহণ করার ব্যাপারে খুবই প্রোগ্রেসিভ। যদি সঠিক পণ্য ও সেবার সঙ্গে পরিচিত করানো যায় তাহলে বাংলাদেশের সম্ভাবনা খুব ভাল। ওয়াওবক্সের যে গ্রোথ এখানে দেখা গেছে, তা অন্য কোনো মার্কেটে দেখা যায়নি।

সি-নিউজ: জিপি শপে শুধু মোবাইল বিক্রি করবেন নাকি ভবিষ্যতে আরো প্রোডাক্ট যুক্ত হবে?

ইয়াসির আজমান: জিপি শপ নিয়ে আমার উচ্চাশা ক্ষেত্রে বলবো, বাংলাদেশে আমরা সবাই বলছি ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’।           ডিজিটাল বাংলাদেশ বলতে ডিজিটাইজেশনটা সব সেক্টরেই হতে হবে। ব্যাংকিং সেক্টর, টেলিকম সেক্টর, গর্ভমেন্ট সেক্টর অর্থাৎ সব জায়গাতেই ডিজিটাইজেশন হতে হবে। আমাদের আগে যে ফিজিক্যাল স্টোরগুলো ছিলযেমন গ্রামীণফোন সেন্টার, এটাকে কীভাবে ডিজিটাইজেশন করবো, এই প্রোডাক্ট অ্যান্ড সার্ভিস মানুষ যেন অনলাইনে কিনতে পারে, সেটার জন্যই আমাদের এই উদ্যোগ।

বাংলাদেশ অনলাইন শপগুলো যেভাবে হচ্ছে, অনেকে ডিসকাউন্টেড প্রোডাক্ট অ্যান্ড সার্ভিস নিয়ে আসছে। আমরা আসলে চলতি হাওয়ায় গা ভাসাতে চাই না। প্রচলিত অনলাইন শপগুলোর মত স্রেফ পণ্য বিক্রি করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। আমরা কেবল ক্রেতার হাতে পণ্য তুলে দিতে চাই না, তাদের সঠিক অভিজ্ঞতা দিতে চাই। আমরা ক্রেতার হাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্ভেজাল পণ্য তুলে দিতে চাই। এটাকে আমাদের সামর্থ্য উন্নয়নের একটা চেষ্টা বলতে পারেন। আমরা এখন পর্যন্ত বড় কোনো ক্যাম্পেইন লঞ্চ করিনি। আমরা সাধারণত আমাদের প্রোডাক্ট অ্যান্ড সার্ভিস লঞ্চ করি কিন্তু চ্যানেল নিয়ে ক্যাম্পেইন ওভাবে লঞ্চ করিনি। তারপরও মানুষের সাড়া দেখে আমরা অবাক হয়েছি। ঢাকার বাইরের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে মানুষজন অনলাইনে অর্ডার করছে।

বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে অনেকখানি এগিয়ে গেছে। মানুষের বিশ্বাস বা আস্থা জয় একটা বড় ব্যাপার। জেনুইন পণ্য নিয়ে এলে, সঠিক সময়ে পৌঁছে দিলে, বিক্রয়োত্তর সেবা দিতে পারলে, মানুষ অনলাইনে ঠিকই কেনাকাটা করছে এবং করবে। আমি মনে করি, বাংলাদেশে একদিকে খুব দ্রুত এগোচ্ছে আবার আরেকদিকে ততটা না। যেমন স্মার্টফোনের পেনিট্রেশন এখনো খুব বেশি নয়। বাংলাদেশে এখনও ৩০ শতাংশ ব্যবহারকারী স্মার্টফোন ব্যবহার করে না। অনেক জায়গাতেই ডেস্কটপ নেই, ল্যাপটপ নেই। আমাদের এখনকার এজেন্ডা হচ্ছে, আমরা মার্কেটের উপর আস্থাটা তৈরি করতে চাই। যেন মানুষ অনলাইনে কেনার পরে তাকে ফেইক প্রোডাক্ট গছিয়ে না দেই। তাকে যেন সঠিক সময়ে দেই, তার টাকার ভ্যালুটা যেন তাকে দিতে পারি, তাহলে একটা ইকোসিস্টেম তৈরি হবে এবং এটা টেলিকম ইন্ডাস্ট্রি ছাড়াও পুরো ইন্ডাস্ট্রির জন্য উপকার বয়ে আনবে।

সি-নিউজ: জিপি শপ এর প্রোডাক্ট সোর্স কী এবং আফটার সেলস সার্ভিস কিভাবে দিয়ে থাকেন?

ইয়াসির আজমান: আফটার সেলস সেবা হিসেবে আমরা পার্টনারদের সঙ্গে ক্যাম্পেইন লঞ্চ করি। স্যামসাং, হুয়াওয়ে, সম্প্রতি শাওমির সঙ্গে ক্যাম্পেইন লঞ্চ করেছিলাম। যখন পার্টনারদের সঙ্গে প্রোডাক্ট লঞ্চ করি, তখন সার্ভিসটা তাদের সার্ভিস সেন্টার থেকে প্রোভাইড করা হয়। আমরা ওয়ারেন্টি দেই যে, এই সময়ের মধ্যে তারা এই এই সার্ভিসগুলো দেবে। বাংলাদেশে আমরা এখন যে প্রোডাক্টগুলো নিয়ে আসছি, সেগুলোতে গ্রাহকের কাছ থেকে কোনো অভিযোগে আসে না বললেই চলে। লাভা লঞ্চ করিছিলাম, প্রচুর বিক্রি হয়েছে। আমাদের এজেন্ডা হচ্ছে, কাস্টমারকে সার্ভিসের দিকে পুশ করা নয় বরং কাস্টমারকে প্রোডাক্টটা দিয়ে বিশ্বাস তৈরি করা যে, তারা অনলাইনে ভালো জিনিস পাবে।

সি-নিউজ: মার্কেটপ্লেস নিয়ে আপনাদের পরিকল্পনা কী?

ইয়াসির আজমান: আমরা যেটা চেষ্টা করছি, কীভাবে এখানে ক্ষুদ্র রিটেইলারদেরকে যুক্ত করা যায়। তারাও যেন অনলাইনে পণ্য অর্ডার করতে পারে এবং আমাদের কাস্টমারদের কাছে বিক্রি করতে পারে। ব্যবসাটা এরকম না যে, আমরা সরাসরি কাস্টমারের কাছে বিক্রি করবো। ইকোসিস্টেমের মাঝখানে যে ছোট রিটেইলার আছে, তাদেরকে এটা থেকে বের করে দেওয়া আমাদের উদ্দেশ্য না। টেলিকম মিনিষ্ট্রির মন্ত্রীর এজেন্ডা ছিল, সিম বায়োমেট্রিক করা। বায়োমেট্রিক বিশাল একটা শক্তি দিয়েছে রিটেইলার হাতে। তারা সবাই এখন কানেক্টেড, তাদের হাতে এখন ডিভাইস আছে। সে সেখানে প্রোডাক্ট দেখতে পারে, কিনতে পারে এবং বিক্রি করতে পারে।

আমরা বিশাল একটা ক্ষমতা রিটেলারদের হাতে দিতে চাই। ডিজিটালি যেন পছন্দমতো প্রোডাক্ট অর্ডার দিতে পারে। আগে যেটা হতো যে, ভেন্ডর যে প্রোডাক্ট নিয়ে যায় বাধ্য হয়ে তাকে ওই প্রোডাক্টটা কিনতে হয়। কিন্তু এখন অপশন রয়েছে অনলাইনে পছন্দমতো প্রোডাক্ট নেওয়ার। ফিজিক্যাল ওয়ার্ল্ডে আমরা একটা প্রোডাক্ট দিলাম ডিস্ট্রিবিউটরকে, সে একটা কমিশন পায়, সে আবার রিটেইলারকে দেয়, রিটেলার একটা কমিশন পায়, রিটেইলার গ্রাহকের হাতে পণ্য তুলে দেয়। সুতরাং আমরা যদি গ্রাহকদের হাতে সরাসরি পণ্য তুলে দেই, তাহলে রিটেইলারদের কী হবে। এ কারণে আমরা রিটেইলারদের বলেছি, তারা আমাদের কাছ অনলাইন শপ থেকে সরাসরি প্রোডাক্ট নিতে পারে। যেহেতু আমি ডিস্ট্রিবিউটরদের মাধ্যমে যাচ্ছি না এবং অনলাইনে অর্ডারের ক্ষেত্রে যে কমিশন পাওয়ার কথা, তা পাবে। সাবস্ক্রাইবার প্রাইসে নিতে হবে না। আমাদের এজেন্ডা এটা না যে, গ্রাহকের কাছে সরাসরি বিক্রি করবো। কম দামে বিক্রি করে কমিশনটা সেভ করবো। আমরা ইকোসিস্টেমটা ভালো করে দাঁড় করাতে সহায়ক ভুমিকা পালন করতে চাই।

সি-নিউজ: মাইজিপিতে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

ইয়াসির আজমান: মাইজিপিতে বর্তমানে আমাদের সাবস্ক্রাইবার হচ্ছে ১৪ লাখের বেশি। জিপি শপ এবং মাই জিপি হচ্ছে ডিজিটাইজেশন উদ্যোগ। এখানে ব্যালেন্স চেক করতে পারবে, যেটার জন্য আগে কল সেন্টারে কল করতো। কোনো সেবা দোকান থেকে অ্যাকটিভেট করতো, সেটা এখন এখান থেকে চালু করতে পারবে।

জিপি শপ এবং মাই জিপিতে আমাদের এজেন্ডা হচ্ছে, কাস্টমারকে নিরাপদ লেনদেন করতে দেওয়া। অনলাইনে সিকিউরিটি একটা বড় দুশ্চিন্তা। তাই আমরা এ ব্যাপারটিতে গ্রাহকদের নিশ্চিন্ত রাখতে কাজ করছি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে উন্নত দেশগুলোতে যেসব সিকিউরিটি ব্যবহার করা হয়, সেগুলো যুক্ত করা। যেন কাস্টমারদের বিশ্বাসটা তৈরি করতে পারি। তাহলে অনলাইন ট্রানজেকশনে মানুষের ভীতি দূর হবে।

সি-নিউজ: ডাটা প্যাক নিয়ে তো অনেক অভিযোগ আছে।

ইয়াসির আজমান: টেলিকম প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমাদের একটা অডিট সিস্টেমের মধ্যে কাজ করতে হয়। ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করবো, ইন্টারনেট ডাটা বেশি কেটে নেব- এগুলোর সুযোগ নেই। কারণ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা রয়েছে। তারা অডিট করে থাকে। আমাদের ইন্টারনাল অডিট আছে, টেলিনর গ্রুপের অডিট আছে। টেলিনরের কথা যদি চিন্তা করেন, বিশ্বের অন্যতম খ্যাতনামা টেলিকম কোম্পানি। তাই বাংলাদেশে গ্রামীণফোন ম্যানেজমেন্ট যা খুশি তাই করবে না বা করতে পারেও না। তাদের নিজস্ব মূল্যবোধ এবং নিয়মনীতি রয়েছে। সমস্যা যেটা হয় যে, গ্রাহকরা তাদের ফোনের ব্যাকএন্ডে অনেকগুলো অ্যাপ সক্রিয় করে রেখে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ডাটা খরচ হয়। এই শিক্ষাটা লাগবে।

আমরা ‘পে অ্যাজ ইউ গো’ তে খুবই লো প্রাইস রাখি এবং এর একটা সীমাবদ্ধতাও রাখা আছে। ২০০ টাকার পরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে, হাজার টাকা কাটতে পারবে না। আমরা যে এটা চাই তা কিš‘ না। আমরা চাই একটা প্যাকেজে অটো রিনিউয়াল হোক।

গ্রামীণফোনে ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স বলে একটা সেবা আছে। ১০০ টাকা ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স নিয়েছেন, ২০ টাকা ব্যবহার করে এরপর রিচার্জ করছেন। অন্য অপারেটররা এরকম করে যে আপনাকে ১০০ টাকা পর্যন্ত ইমার্জেন্সি ব্যবহার করতে হবে এবং উচ্চ ট্যারিফ কাটবে। গ্রামীণফোনের ব্যবহারকারীরা যখন রিচার্জ করেছেন, তখন ওখানে অফ করে দেই, বাকি ৮০ টাকা ব্যবহার করতে হবে না।

আরেকটা বিষয় হচ্ছে, প্যাকেজ ব্যবহার করছেন, বোনাস আছে। হাই ভ্যালুর প্যাক আগে ব্যবহার করবেন, তারপর বোনাস পাবেন। ফলে দেখা যায় বোনাসের ভ্যালিডিটি শেষ হয়ে যায়। কিন্তু আমরা গ্রাহকদের যেটা দিচ্ছি, যেটার আগে ভ্যালিডিটি শেষ হয়, সেটা আগে ব্যবহার হবে। গ্রামীণফোনের মেইন এজেন্ডা যেটা আমরা বলি এখন, সিমপ্লিসিটি অ্যান্ড কাস্টমার সিমপ্লিসিটি।

সি-নিউজ: জিপি শপ নিয়ে ই-কমার্স উদ্যোক্তারা আপনাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে। আপনার মতামত কী?

ইয়াসির আজমান: ডিজিটাইজেশনের মানেটা কী? গ্রামীণফোন কেন অনলাইনে পণ্য বিক্রি করতে পারবে না? গ্রামীণফোনের পণ্য কিনতে কি তাহলে গ্রাহকরা সময় ব্যয় করে শোরুম যাওয়া আসা করবে? গ্রামীণফোন ডিভাইস অনলাইনে বিক্রি করতে পারবে না? গ্রামীণফোন শুধু শোরুমের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করতে পারবে। এটা তো ডিজিটাল বাংলাদেশের নীতির মধ্যে পড়ে না। ডিজিটাইজেশন সুবিধা গ্রাহকদের দেওয়ার জন্য অনলাইনে কেনার সুবিধা গ্রামীণফোনের থাকতে হবে। কানেক্টিং সেবা অনলাইনে দেওয়ার লাইসেন্স রয়েছে আমাদের। যেমন ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং। আমরা যেটা পারি না, সেটা হচ্ছে আমরা বাইরে থেকে ইমপোর্ট করে নিয়ে আসতে পারি না। হুয়াওয়ে সেটের ব্যবসা করতে পারবে না, আমি নিয়ে আসবো, এটা পারি না। নেট নিউট্রালিটির প্রসঙ্গে উঠছে। আমরা এটাকে পুরোদমে সমর্থন করি। আমরা এটাকে বন্ধ করার পক্ষপাতী নই। আমরা কিন্তু কারো সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করছি না। সমস্যা যেটা হচ্ছে যে, সঠিক আলোচনাটা হচ্ছে না। আমরা আসলে ডায়ালগ চাই, রাইট ডায়ালগ চাই। আমি ব্যক্তিগত ভাবে বেসিস প্রেসিডেন্ট মোস্তফা জব্বার সাহেবকেও বলেছি কোনো সমস্যা থাকলে আসেন আমরা আলোচনায় বসি।

আমাদের প্লাটফর্ম ব্যবহার করে অন্যরা মোবাইলে আর্থিক লেনদেন করতে পারছে। অথচ আমরা জি-পে এর মাধ্যমে শুধু টপআপ, বিল প্রদান করতে পারবো। কিন্তু এটা তো ওপেন করে দেওয়া উচিত। জি-পে এর ব্যবসা সীমাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। আমাদের প্লাটফর্ম ব্যবহার করে বিকাশ, ডাচ বাংলা ব্যবসা করতে পারবে। কিন্তু এটা বলে বলা হচ্ছে উল্টোটা। বাংলাদেশে প্রচুর বিদেশি বিনিয়োগ দরকার। তাহলেই ইন্ডাস্ট্রি গ্রো করবে। কিন্তু আমরা যদি এই সঠিক বিষয়গুলো নিয়ে কথা না বলে জি-পের মতো সীমাবদ্ধ সেবা নিয়ে যার শুধু টপআপ ও বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস বিল দেওয়ার ক্ষমতা, সেটার দিকে আঙুল তুলি, তাহলে বিনিয়োগকারীরা ভয় পাবে।

সি-নিউজ: জিপি ছাড়া অন্য কোনো অপারেটর ভালো ব্যবসা করতে পারছে না কেন? জিপির এই ব্যবসায়িক সফলতার মূল কারণ কী বলে আপনি মনে করেন?

ইয়াসির আজমান: আমরা কিছু বিষয়কে খুবই প্রাধান্য দেই। এ বছরের তৃতীয় কোয়ার্টারে গ্রামীণফোন মোট ইন্ডাস্ট্রি গ্রোথ থেকে এগিয়ে আছে। গত বছর বা তার আগের বছর এত ভালো পারফরম্যান্স ছিল না। এ বছর এত ভালো পারফরম্যান্স হওয়ার কারণ গ্রাহকের ভোগান্তি দূর করা। কল সেন্টারে কেন গ্রাহক ফোন করে অভিযোগ করবে, সেসব অভিযোগ চিহ্নিত করে তা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেমন আমাদের কাছে ৪৫ শতাংশ অভিযোগ আসত ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস নিয়ে। এটাকে আমরা কমিয়ে নিয়ে এসেছে ১২ শতাংশে। ফলে মানুষজন গ্রামীণফোনের সেবাই বেশি পছন্দ করছে। গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্কে কথা বলছে। আরেকটা বড় কারণ আমাদের ডাটা রেভিনিউ। টেলিনর ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। এ বছর আমরা পুরো বাংলাদেশকে থ্রিজি নেওয়ার্কের আওতায় নিয়ে এসেছি। রেভিনিউ আসবে আগামী বছর বা তার পরের বছর। কিন্তু এই কারণে তো মানুষজন গ্রামীণফোন ব্যবহারে উৎসাহী হচ্ছে।

আরেকটা হচ্ছে, নতুন ধরনের পণ্য ও সেবা। যদিও এখনও খুব বেশি ব্যবহারকারী নেই কিন্তু আস্থা তৈরি হচ্ছে। যেমন মাইজিপি থেকে দেখা যাচ্ছে ব্যালেন্স সুবিধা। আমাদের নেটওয়ার্ক ইনভেস্টমেন্ট, আমাদের সিমপ্লিসিটি অ্যান্ড কাস্টমার সিমপ্লিসিটি আর আমাদের ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক। আমরা একদম প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে নেটওয়ার্ক পৌঁছে দিয়েছি। এগুলো আমাদের এ বছরের এজেন্ডা ছিল।

সি-নিউজ: আপনারা রেডিও তরঙ্গ পেয়েছেন? সেটার কাজ কি? আপনারা অনলাইন টিভি নিয়ে আসছেন কিনা?

ইয়াসির আজমান: আমাদের কোনো রেডিও বা টিভির লাইসেন্স নেই। আমাদের এখন যেটা হচ্ছে বাংলাদেশে পলিসিগত কিছু স্পষ্টতা লাগবে। ডিজিটাল স্পেসে সে কোনো কনন্টেট নিয়ে আসতে পারা সম্ভব। আমাদের যেতেতু টিভির লাইসেন্স নাই, আমাদের একজন পার্টনার আছে বঙ্গ, তাদের সাথে আমাদের বায়োস্কোপ এর পার্টনারশীপ। বঙ্গ’র কনন্টেন্ট আমরা প্রোমোট করি। আমাদের কাস্টমারদের সারা বাংলাদেশে থ্রিজি দিয়েদিলাম, কিন্তু কনন্টেন্ট যদি দিতে না পারি তাহলে তো লাভ নেই।

সি-নিউজ: আপনি একজন সফল বিপণন ব্যক্তিত্ব। তরুণদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?

ইয়াসির আজমান: পড়ালেখার পাশাপাশি পাঠক্রম-বহির্ভুত কর্মকা-ের সাথে যুক্ত থাকতে হবে তরুণদের। এখনকার যুগে ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহার করতে হবে।

সি-নিউজ: সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

ইয়াসির আজমান: আপনাকে ও সি-নিউজের পাঠকেরদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

-ে