টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সহায়তা করবে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল

বিশ্বের যেসব দেশ উদ্ভাবনীমূলক প্রযুক্তি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তারা আন্তর্জাতিক প্রেক্ষিতে সর্বাগ্রে এগিয়ে থাকছে। সমগ্র বিশ্বের উদ্ভাধনীমূলক প্রযুক্তি মেইনস্ট্রিম হওয়ার আগেই বাংলাদেশে এর ক্রমবিকাশ এবং যথাযথ প্রয়োগ হওয়া উচিত যা বাংলাদেশকে সমগ্র বিশ্বের গ্রাহক, ব্যবসা ও সাধারণের জন্য ব্যতিক্রম সমাধান তৈরিতে সক্ষম করে তুলবে। এর মাধ্যমে এমন কিছু ইউনিক উদ্ভাবন আসবে যা শুধুমাত্র বিনিয়োগ সম্ভাবনাই নয়, স্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসাকে উন্নত ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করবে। ৮ ডিসেম্বর, ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৭-এ ভিআইপি গোলটেবিল বৈঠকে আলোচকরা এসব কথা বলেন।

এএআইসি ভেঞ্চারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও টাই হংকংয়ের পরিচালক ইমানুয়েল আর ব্রেইটার, লোগোস ইনফরমেটিক জিএমবিএইচের চেয়ারম্যান এক্সেল অ্যানজেলি, টাই সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার প্রতিষ্ঠাতা নাভনিত এস চাগ, মাসলিন ক্যাপিটালের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়ালি-উল-মারুফ মতিন বৈঠকে ইমার্জিং টেকনোলজিস, ডিজিটাল ফিউচার ও বাংলাদেশে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ডিং বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের গ্রিন ভিউ হলে টাই ঢাকা এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটাল অ্যান্ড প্রাইভেট ইকুইটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ভিসিপিয়াব) যৌথভাবে ‘ডিসরাপ্টিভ টেকনোলজিস ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট আর ইনভেস্টিং ইন’ শীর্ষক এই ভিআইপি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টেকশই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এর প্রধান সমন্নয়ক আবুল কালাম আজাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিডা) এর নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন টাই ঢাকার সভাপতি ও ভিসিপিয়াব চেয়ারম্যান শামীম আহসান। এছাড়া বিভিন্ন খাতের শীর্ষস্থানীয়রা এই ভিআইপি গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠকে টাই ঢাকার সভাপতি ও ভিসিপিয়াব চেয়ারম্যান শামীম আহসান বৈঠকের শুভেচ্ছা বক্তব্যে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এবং উদ্ভাবনীমূলক প্রযুক্তি সহায়তার মাধ্যমে এসডিজি পূরণের বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, উদ্ভাবনীমূলক প্রযুক্তি যথাসময়ে ও যথাযথ প্রোগ্রাম গ্রহণের মাধ্যমে টেকশই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব। বিশ্বব্যাপী উদ্ভাবনীমূলক প্রযুক্তি যেমন এআই, মেশিন লার্নিং, আইওটিসহ এ ধরণের অনেক প্রযুক্তির প্রসার বাড়ছে, যার মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন সমস্যা সমাধানসহ এসডিজি বাস্তবায়নের গতি ত্বরান্নিত করা যাবে।

ভিসিপিয়াব’র মহাসচিব শওকত হোসেন বলেন, যদিও সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক ভেঞ্চার ক্যাপিটালের সহায়তায় বিভিন্ন নীতিমালা করেছে কিন্তু বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ফান্ড সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা পূরণে অন্যতম সহায়ক হলো উদ্যোগ আর উদ্যোগের জন্য ভেঞ্চার ক্যাপিটাল আবশ্যক।

অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মনজুর রিটেইল ইন্ডাস্ট্রিতে প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা ও এক্ষেত্রে ভেঞ্চার ক্যাপিটালকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

কাজী এম আমিনুল ইসলাম বলেন, অদূর ভবিষৎ-এ উন্নত বাংলাদেশ গড়তে আমাদের নতুন প্রচন্মের উদ্যোক্তা ও অ্যাক্সিলারেটর প্রয়োজন। সরকার বিষয়টিকে উপলব্ধি করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণদের মাঝ থেকে উদ্যোক্তা তৈরিতে কাজ করছে। এসডিজি বাস্তবায়নে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ইন্ডাস্ট্রির প্রচুর চাহিদা রয়েছে। আমরা ইন্ডাস্ট্রির কাছ থেকে বিষয়গুলো শুনছি এবং তাদের প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ ও সহায়তা প্রদানে কাজ করবো।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, কয়েক বছর আগের তুলনায় বাংলাদেশ এখন জিডিপিতে তিনগুন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৪ গুন এগিয়ে গেছে। আমাদেরকে দেশের অগ্রযাত্রায় বিভিন্ন উদ্যোগ তৈরি ও বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিতে হবে। ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ইকোসিস্টেম তৈরিতে নিয়মিত আলোচনায় বসতে হবে। দেশে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

টাই ঢাকা একটি অলাভজনক সংগঠন, যারা উদ্যোক্তাদের মানোন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ, নেটওয়ার্কিং ইভেন্ট আয়োজন ও স্টাটআপ প্রতিষ্ঠাতাদের মেন্টরিং সহায়তা প্রদান করে থাকে। ১৯৯২ সালে সিলিকন ভ্যালিতে দ্য ইন্ডাস এন্ট্রারপ্রেওনারস (টাই) প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে সংগঠনটির প্রায় ১৩ হাজার সদস্য, ১৮টি দেশে ৬১টি চ্যাপ্টারে ২ হাজার ৫০০ এর অধিক চার্টার সদস্য রয়েছে। অন্যদিকে, ভিসিপিয়াব স্থানীয় ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও প্রাইভেট ইকুইটি ইন্ডাস্ট্রির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পলিসি তৈরি ও বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে কাজ করে।

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক

Please Share This Post.