টেকনোলজি স্টার্টআপ ও বাংলাদেশ: দরকার কমিটমেন্ট ও প্রস্তুতি

এ মুহূর্তে টেকনোলজি স্টার্টআপের জন্য বাংলাদেশকে একটি উর্বর ক্ষেত্র বলা যায়। চোখের সামনে টুইটার, উবার, স্ন্যাপ, হোয়াটসঅ্যাপ ইত্যাদি প্রযুক্তিভিত্তিক স্টার্টআপের বৈশ্বিক সাফল্য দেখে বাংলাদেশি তরুণরাও স্বপ্নে মায়াঞ্জন আঁকছে চোখে। যদিও তারা জানে, স্টার্টআপ শুরু করার মানেই সফলতা নয় এবং যেকোনো সময়ই বরণ করতে হতে পারে ব্যর্থতার গ্লানি- তারপরও স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের খাতায় নাম লেখানোর প্রতিযোগিতা মোটেই থামছে না। এদেশে বর্তমানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রযুক্তিভিত্তিক স্টার্ট আপ আছে এবং প্রতিদিনই নতুন নতুন স্টার্টআপের আইডিয়া জন্ম নিচ্ছে। তবে এগুলোর প্রায় সবই ঢাকাভিত্তিক এবং সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ও ইকমার্স স্টার্টআপের দিকেই তরুণদের নজর বেশি। এদেশর মধ্যবিত্ত শ্রেণির আকার ক্রমশ বাড়ছে এবং এই মধ্যবিত্তরা স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের প্রধানতম টার্গেট। এই মধ্যবিত্ত শ্রেণি অনলাইন শপিং পছন্দ করে- যা ই-কমার্সভিত্তিক স্টার্টআপের সংখ্যাবৃদ্ধির প্রধান কারণ। কিন্তু এটি এমন একটি কাজ যেটি হুজুগে গা ভাসিয়ে করলে ব্যর্থ হবার আশঙ্কা ষোল আনা। এ কারণেই অনেকে স্টার্টআপ শুরু করে আবার অল্পদিনেই রণেভঙ্গ দিচ্ছে।এতে স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। ভবিষ্যতে যারা এই খাতে ক্যারিয়ার গড়তে চায় তাদের জায়গাটাও নষ্ট হচ্ছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্টার্টআপ সেক্টরের চ্যালেঞ্জগুলো সম্বন্ধে ভালো করে জেনে না আসার কারণেই মাঝপথে রণেভঙ্গ দেয়ার এই ঘটনাটা ঘটছে। তো এই চ্যালেঞ্জগুলো কী? উদ্ভাবনী সক্ষমতার অভাব, জ্ঞানের ঘাটতি, তথ্যের অভাব, অবকাঠামোগত সমস্যা, আর্থিক অসামর্থ্য, নীতিগত সহায়তার অভাব, নেতৃত্বের সমস্যা ও সাংস্কৃতিক বাধা এবং অ্যাটিচুড তথা মনোভাবের সমস্যা।

অথচ আমরা যদি বৈশ্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করি তাহলে দেখব, সারা বিশ্বজুড়েই কিন্তু টেকনোলজি স্টার্টআপ একটি শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছে গেছে। এটিকে একটি প্রতিশ্রুতিশীল ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এটি রাতারাতি ঘটেনি।যাঁরা এই খাতে নাম লিখিয়েছেন তাঁদের দৃঢ় সংকল্প ছিল সব বাধা জয় করে এক্ষেত্রে সফল হবার। একজন জ্যাক ডরসি বা ইভান স্পিগেল-এর জন্ম একদিনে হয় না। আমরা যদি স্টার্টআপ সংক্রান্ত কিছু সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানের দিকে তাকাই তাহলে দেখব:

  • ২০১২ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে স্টার্টআপের পেছনে তহবিল জোগানো ৫০ শতাংশ হারে বেড়েছে।
  • ৯০ শতাংশের মতো নতুন স্টার্টআপ ব্যর্থ হয়।
  • জরিপ বলছে, স্টার্টআপের ব্যর্থতার পেছনে প্রধান কারণ বাজার চাহদিার অভাব, তারপরের কারণগুলো হচ্ছে যথাক্রমে-তহবিলের অভাব, প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে হেরে যাওয়া, সেবার উচ্চ দাম, ইউজার ফ্রেন্ডলি প্রোডাক্ট তৈরি করতে না পারা, বিজনেস মডেল না থাকা, মার্কেটিংয়ের দুর্বলতা, কাস্টমারদের অবহেলা করা, ভুল সময়ের ভুল প্রোডাক্ট নিয়ে আসা ইত্যাদি।

তবে, আগেই বলেছি, যদি গুছিয়ে, পরিকল্পনা অনুসারে কাজ করা যায় তাহলে এ সময়টি বাংলাদেশ স্টার্টআপ শুরুর জন্য ভালো একটি সময়। এর অন্যতম কারণ, দেশের প্রযুক্তি অবকাঠামো ক্রমেই শক্তিশালী হওয়া, সরকারের সহায়তামূলক নীতিসহায়তা, মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিকাশ, জনগণের সচেতনতা বাড়া ইত্যাদি। অতএব, যারা মোটামুটি প্রস্তুতি নিয়ে ও পরিকল্পনা করে স্টার্টআপে আসতে চান তাদের এ খাতে আসা উচিত। তবে আসতে হবে লম্বা দৌড়ের পরিকল্পনা নিয়ে। মাঝপথে হাল ছেড়ে দিয়ে ফিরে গেলে কেবল তার নিজেরই ক্ষতি হবে না, ভবিষ্যতে যারা আসতে চাচ্ছেন তাদেরও ক্ষতি করা হবে।

সিনিউজভয়েসডেক্স/জিডিটি/অক্টো./১৯

Please Share This Post.