টিসিপি/আইপি কি এবং কেন

আমাদের যাদের কম্পিউটার এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নিয়ে জানাটা ততটা পরিপূর্ণ নয় তারাও সম্ভবত টিসিপি/আইপি-র নাম শুনেছি। এর পূর্ণ মানে হচ্ছে: ট্রান্সমিশন কন্ট্রোল প্রটোকল/ইন্টারনেট প্রটোকল। এটি হচ্ছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্য আদান প্রদান করার জন্য একটি যোগাযোগ প্রটোকল বা যোগাযোগের নিয়ম কানুনের সেট। প্রটোকল ঠিক করা না থাকলে ইন্টারনেটের বা নেটওয়ার্ক-এর মাধ্যমে দুটো কম্পিউটার একে অন্যের সঙ্গে তথ্য আদান প্রদান বা যোগাযোগ করতে পারে না। কীভাবে কম্পিউটার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস ইন্টারনেটে সংযুক্ত থাকবে এবং একটি আরেকটির সঙ্গে তথ্য উপাত্তের বিনিময় সংঘটিত করবে সেটিই ঠিক করে টিসিপি/আইপি। টিসিপি/আইপি কি- একক কোনো বা একটিমাত্র প্রটোকল নয়। এর মধ্যে আছে বেশ কয়েকটি প্রটোকল, কাজেই এটি হচ্ছে প্রটোকলের একটি সংগ্রহ বা স্যুইট।

এর মধ্যে উপাত্ত যোগাযোগের বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃতযেসব বিভিন্ন প্রটোকল আছে সেগুলো হচ্ছে:

  •  টিসিপি (ট্রান্সমিশন কন্ট্রোল প্রটোকল) বিভিন্ন সফটঅয়্যার অ্যাপ্লিকেশনের মধ্যে যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হয়।
  •  ইউডিপি (ইউজার ডাটাগ্রাম প্রটোকল) ব্যবহৃত হয় বিভিন্ন সফটঅয়্যার অ্যাপ্লিকেশনের মধ্যে সাধারণ (simple) যোগাযোগের জন্য।
  • আইপি (ইন্টারনেট প্রটোকল) ব্যবহৃত হয় বিভিন্ন কম্পিউটারের মধ্যে যোগাযোগের জন্য।
  • আইএসএমপি (ইন্টারনেট কন্ট্রোল মেসেজ প্রটোকল) ব্যবহৃত হয় ভুলভ্রান্তি নির্ধারণ এবং পরিসংখ্যানগত কাজ করার জন্য।

ডিএইচসিপি (ডায়নামিক হোস্ট কনফিগারেশন প্রটোকল)-এর কাজ হচ্ছে ডায়নামিক অ্যাড্রেসিং।
যখন একটি সফটঅয়্যার অ্যাপ্লিকেশন আরেকটি সফটঅয়্যার অ্যাপ্লিকেশনের সঙ্গে টিসিপি-র মাধ্যমে যোগাযোগ করতে চায় তখন এটি একটি কমিউনিকেশন রিকোয়েস্ট বা যোগাযোগ অনুরোধ পাঠায়। এই রিকোয়েস্ট অবশ্যই নির্দিষ্ট একটি ঠিকানার কাছে পাঠাতে হবে। দুটো অ্যাপ্লিকেশনের মধ্যে যোগাযোগে বা ‘হ্যান্ডশেক’ ঘটে গেলে টিসিপি তখন ঐ দুটি অ্যাপ্লিকেশনের মধ্যে একটি যোগাযোগ প্রক্রিয়ার সূচনা করবে। ইউডিপি-ও টিসিপি-র মতই একটি প্রটোকল, তবে এটি প্রক্রিয়াগতভাবে অনেক বেশি সহজ সরল এবং এটি তেমন একটা নির্ভরযোগ্য নয়। আগেই বলেছি, আইপি হচ্ছে কম্পিউটার টু কম্পিউটার কমিউনিকেশনের জন্য। টিসিপি যোগাযোগের জন্য কমিউনিকেশন লাইনকে পুরোপুরি দখল (occupy) করে রাখে, কিন্তু আইপি সেটি করে না। প্রতিটি যোগাযোগে চ্যানেল বা লাইন একই সঙ্গে প্রচুর সংখ্যক কম্পিউটারের মধ্যে যোগাযোগের জন্যও ব্যবহৃত হতে পারে।

এভাবে নেটওয়ার্ককে ভারাক্রান্ত বা ‘কনজেশান’-এর হাত থেকে রক্ষা করে আইপি। আইপি বিভিন্ন মেসেজকে ছোট ছোট স্বাধথীন প্যাকেটে ভেঙে নেয় এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে এসব প্যাকেটকে এক কম্পিটউটার থেকে আরেক কম্পিউটারে পাঠায়। একটি কম্পিউটার থেকে যখন কোনো আইপি প্যাকেট আরেকটি কম্পিউটারে পাঠানো হয় তখন এটি প্রথমে পৌঁছায় একটি আইপি রাউটারের কাছে। এই আইপি রাউটার প্যাকেটটিকে তার গন্তব্যে পাঠানোর দায়িত্ব পালন করে, হয় সরাসরি বা আরেকটি রাউটারের সাহায্যে।

একই মেসেজের বিভিন্ন প্যাকেট বিভিন্ন পথ দিয়ে গন্তব্যে যেতে পারে, এতে মেসেজ পাঠানোর বা গন্তব্যে পৌঁছানোর পর সেটিকে বোঝার ব্যাপারে কোনো সমস্যা হয় না। প্রতিটি কম্পিউটার ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত হবার জন্য এর একটি আইপি ঠিকানা বা IP Address থাকতে হবে। আবার প্রতিটি আইপি প্যাকেটকে অন্য কম্পিউটারে পাঠানোর জন্য তারও একটি নিজস্ব ঠিকানা থাকতে হবে। একটি আইপি অ্যাড্রেসের চেহারা হতে পারে এমন: ১২৩.৪৯.৪০.১৪০। কোনো কম্পিউটারের আইপি ঠিকানা হিসেবে টিসিপি/আইপি উপরোক্ত ৪ সংখ্যার এমন একটি ঠিকানা তৈরি করে। ইন্টারনেটভুক্ত প্রতিটি কম্পিউটারেরই উপরের মত এমন একটি ৪ সংখ্যার ইউনিক ঠিকানা থাকতে হবে। ইউনিক মানে হচ্ছে অনন্য, একই ঠিকানা দুটো কম্পিউটারের থাকতে পারবে না। সংখ্যাগুলো সবসময়ই ০ থেকে শুরু করে ২৫৫-র মধ্যে থাকতে হবে।

টিসিপি/আইপি ৩২ বিটের ঠিকানা পদ্ধতি ব্যবহার করে। আমরা জানি, প্রতিটি কম্পিউটার বাইটের আয়তন হচ্ছে ৮ বিট। কাজেই দেখা যাচ্ছে, টিসিপি/আইপি ৪ বাইটের ঠিকানা ব্যবহার করে (প্রতিটি সংখ্যা একটি বাইটি)। প্রতিটি কম্পিউটার বাইট ২৫৬টি আলাদা আলাদা ভ্যালু ধারণ করতে পারে: ০০০০০০০০, ০০০০০০০১, ০০০০০০১০, ০০০০০০১১, ০০০০০১০০, ০০০০০১০১, ০০০০০১১০, ০০০০০১১১, ০০০০১০০০ …….এভাবে ১১১১১১১১ পর্যন্ত। কাজেই আপনি বুঝতে পারছেন, কেন টিসিপি/আইপি ঠিকানার ৪টি সংখ্যা ০ থেকে ২৫৫-র মধ্য হতে হবে?

আইপি ক্লাস কি?
টিসিপি/আইপি নেটওয়ার্কে প্রতিটি হোস্টকে একটি নম্বর দিয়ে নির্দেশ করা হয়। এই নম্বরেই হলো আইপি যা ৩২ বিটের হয়ে থাকে ।এই ৩২ বিট, ৮ বিট করে ৪টি ভাগে ভাগ করা থাকে ।

ক্লাস-এ
নেট হোস্ট হোস্ট হোস্ট
৮ বিট ৮ বিট ৮ বিট ৮ বিট
শুরু : ০০০০০০০০=০
শেষ : ০১০০০০০০=১২৭
যেসব আইপি অ্যাড্রেসের প্রথম বিট শূন্য (০) সেগুলো ক্লাস-এ এর অন্তর্গত। এ ধরনের আইপি এর ক্ষেত্রে প্রথম ৮ বিট নেটওয়ার্ক আইডি আর বাকি ২৪ বিট হোস্ট আইডি।

ক্লাস-বি
নেট নেট হোস্ট হোস্ট
৮ বিট ৮ বিট ৮ বিট ৮ বিট
শুরু : ১০০০০০০০=১২৮
শেষ : ১০১১১১১১=১৯১

এই ক্লাসের আইপি অ্যাড্রেসের প্রথম দুইটি বিটের মান হবে ১০। এধরনের আইপি এর ক্ষেত্রে প্রথম ১৬ বিট নেটওয়ার্ক আইডি আর বাকি ১৬ বিট হোস্ট আইডি।

ক্লাস-সি
নেট নেট নেট হোস্ট
৮ বিট ৮ বিট ৮ বিট ৮ বিট
শুরু : ১১০০০০০০=১৯২
শেষ : ১১০১১১১১=২২৩
এই ক্লাসের আইপি এড্রেসের প্রথম তিনটি বিটের মান হবে ১১০। এধরনের আইপি এর ক্ষেত্রে প্রথম ২৪ বিট নেটওয়ার্ক আইডি আর বাকি ৮ বিট হোস্ট আইডি।
ক্লাস-ডি
এটি একটি বিশেষ ধরনের ক্লাস যাকে বলা হয়া মাল্টিকাস্ট নেটওয়াার্ক। কোন হোস্ট নেটওয়ার্কেও সকল রাউটারকে খুঁজে পাওয়ার জন্য এ ধরনের আইপি ব্যবহৃত হয়। এই ক্লাস ২২৪ থেকে ২৩৯ পর্যন্ত।
ক্লাস-ই
এই ক্লাসের আইপি গুলো সাধারণত বৈজ্ঞানিক গবেষণা কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এই ক্লাস ২৪০ থেকে ২৫৫ পর্যন্ত।

-সিনিউজভয়েস ডেক্স