জিপি অ্যাকসেলেরেটরের দ্বিতীয় ব্যাচে ৫ স্ট্যার্টআপ

৪ ডিসেম্বর, গ্রামীণফোনের করপোরেট কার্যালয় রাজধানীর বসুন্ধরার জিপি হাউজে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘জিপি অ্যাকসেলেরেটর’র দ্বিতীয় ব্যাচের ডেমো ডে।

এ দিন উপস্থিত একশ’র বেশি দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারী, বিশেষজ্ঞ এবং অ্যাকসেলেরটের আয়োজক ও সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন ও এসডি এশিয়ার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সামনে নিজেদের ব্যবসায়িক ধারণা উপস্থাপন করে অ্যাকসেলেরেটরের পাঁচটি স্টার্টআপ বাজঅ্যালি, সোশিয়ান, ক্র্যামস্ট্যাক, ঘুরি এবং সিএমইডি।

ডেমো ডে’তে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, এমপি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ‘জিপি অ্যাকসেলেরটর’ প্রোগ্রাম এবং নতুন স্টার্টআপ গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে গ্রামীণফোনের ভূমিকা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জিপি অ্যাকসেলেরেটর’র গ্রাজুয়েটদের বৈচিত্র্যময় ও পরিপক্ক সব ধারণার উপস্থাপন দেখে আমি অত্যন্ত রোমাঞ্চিত। গ্রামীণফোনের মতো করপোরেট প্রতিষ্ঠান দেশে স্টার্টআপ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নেতৃত্বদানে যে ভূমিকা রাখছে আমি তাকে স্বাগত জানাই।’ কঠোর পরিশ্রমের জন্য নির্বাচিত পাঁচটি স্টার্টআপ, এসডি এশিয়া ও গ্রামীণফোনকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি আরো বলেন যে, এই ধরনের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদী।

বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সামনের দিনগুলোতে জিপি অ্যাকসেলেরেটরের মতো এমন আরো বেশি সফল যৌথ উদ্যোগে নানা কর্মসূচির প্রত্যাশা করেন।

বক্তব্যে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পিটার বি. ফারবার্গ বলেন, ‘স্টার্টআপগুলোর স্বল্প সময়ে এ পরিমাণ অগ্রগতিতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। বাংলাদেশের ডিজিটাল জগতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে আমরা ধারাবাহিকভাবে ভূমিকা রেখে যাবো।’

গ্রামীণফোনের হেড অব ট্রান্সফরমেশন কাজী মাহবুব হোসেন বলেন, ‘একটি স্টার্টআপ গড়ে তুলতে যথাযথ ইকোসিস্টেম প্রয়োজন। ‘জিপি অ্যাকসেলেরটর’ কর্মসূচিতে সহায়তাদানের জন্য আমরা এ কর্মসূচির অংশীদার, প্রশিক্ষক, গ্রামীণফোনে আমাদের সহকর্মী এবং স্টার্টআপ সংশ্লিষ্ট সবার কাছে কৃতজ্ঞ।’

হেড অব জিপি অ্যাকসেলেরেটর মিনহজ আনোয়ার বলেন, ‘জিপি অ্যাকসেলেরেটরের উদ্দেশ্য ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ৫০টি বিশ্বমানের স্টার্টআপ গড়ে তোলা এবং এদের মধ্যে থেকে কয়েকটি স্টার্টআপকে শীর্ষস্থানীয় পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করা এবং সঠিক নির্দেশনা প্রদান করা।’

অনুষ্ঠানে এসডি এশিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘গত চার মাসে এই কর্মসূচি শূন্য থেকে শুরু করে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। বিপুল সময় ব্যয় করে উদ্যােগতাদের ব্যবসাকে গড়ে তুলতে সহায়তা করা হয়েছে এবং একটি কোম্পানি এতদূর এগিয়ে গেছে যে ২০১৬ এর শেষে তার রাজস্ব হবে প্রায় ১ লাখ ডলার। এই ধরনের সাফল্য বাংলাদেশের লাখো মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে।’

২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে বাংলাদেশের সেরা প্রযুক্তি স্টার্টআপগুলো খুঁজে বের করার উদ্দেশ্যে এসডি এশিয়ার যৌথ সহযোগিতায় ‘জিপি অ্যাকসেলেরেটর’র উদ্বোধ্ন করে গ্রামীণফোন। সফলভাবে এ কর্মসূচির প্রথম ব্যাচ শেষ হওয়ার পর এ বছর আগস্ট মাসে দ্বিতীয় ব্যাচের যাত্রা শুরু হয়।

শতাধিক আবেদন পত্রের ভেতর থেক সঠিক স্টার্টআপ নির্বাচনে সরাসরি সাক্ষাৎকার ও ডেমো উপস্থাপন সহ অত্যন্ত কঠিন পর্যবেক্ষণের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে আয়োজকদের। এরপর নির্বাচিত সফল স্টার্টআপগুলোর জন্য ছিলো চার মাসের তীব্র ও কঠোর প্রশিক্ষণ।

এছাড়াও, ‘জিপি অ্যাকসেলেরেটর’র স্টার্টআপগুলোকে ব্যবসা শুরু করার প্রাথমিক বিনিয়োগ হিসেবে ১১ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। স্টার্টআপগুলো সুযোগ পেয়েছে জিপি হাউজের ভেতর কাজ করার এবং তাদের ব্যবসার আরও দ্রুত প্রবৃদ্ধিতে এ খাত সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগের।

দলভিত্তিক ও নির্দিষ্ট মেয়াদকালীন এ কর্মসূচি স্টার্টআপগুলোকে সমর্থ ও আত্মনির্ভরশীল হওয়ার এবং পরিশেষে তাদের নিজেদের প্রচেষ্টায় দ্রুত টেকসই প্রবৃদ্ধির সুযোগ করে দিবে।

‘জিপি অ্যাকসেলেরটর’- এর দ্বিতীয় ব্যাচের গ্রাজুয়েটিং পাঁচটি স্টার্টআপ হল:

বাজঅ্যালি
বিপণন ও সম্পৃক্ততা সেবাদানকারী প্ল্যাটফর্ম বাজঅ্যালি। স্টার্টআপটি একটি মিসড কলের মাধ্যমে ব্র্যান্ডগুলোকে এর ভোক্তাদের সঙ্গে সংযুক্ত হতে সহায়তা করবে। বিলবোর্ড এবং বিজ্ঞাপনে ফোন নম্বর দেয়া থাকবে। ভোক্তা বিজ্ঞাপনের ওই নাম্বার ডায়াল করবে কিন্তু কানেক্ট হওয়ার আগেই লাইনটি কেটে যাবে। গ্রাহক তখন এসএমএস বা কল কিংবা আইভিআর এ বিজ্ঞাপন সম্পর্কে জানতে পারবে। বাজঅ্যালি অ্যাডমিন প্যানেলে একটি নম্বর নির্বাচন করে ব্যবসার জন্য মিসড কলের এ প্রচারণা চালানো যাবে। যখনই কেউ এ নম্বরে মিস কল দিবে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাকে এসএমএস, আইভিআর কল অথবা কলব্যাক করবে। গ্রাহকদের সাথে ব্র্যান্ডের যোগাযোগ স্থাপনে সম্পূর্ণ নতুন একই পদ্ধতি এটি।

সোশিয়ান
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কেন্দ্রিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যানালিটিক্স প্ল্যাটফর্ম সোশিয়ান। সোশিয়ান অত্যন্ত কম খরচে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভোক্তাদের পোস্টগুলো বিশ্লেষণ করতে। একইসাথে তারা এটাও জানতে পারবে যে বাজারে প্রতিযোগীদের তুলনায় তারা কোন অবস্থানে আছে। প্ল্যাটফর্মটি এর অন্যান্য প্রতিযোগীদের থেকে আলাদা কেননা এ সেবাদানকারী এটাই একমাত্র প্রতিষ্ঠান যারা বাংলা ভাষার তথ্য নিয়েও কাজ করে। সোচিয়ানের লক্ষ্য বৈশ্বিক পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাভাষাকে পরবর্তী স্তরে নিয়ে যাওয়া। সোশিয়ান প্ল্যাটফর্মে ৮১টি ভাষা কাজ করে যেখানে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে শুধুমাত্র ইংরেজি ভাষায় তথ্য নিয়ে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

ক্র্যামস্ট্যাক
ক্র্যামস্ট্যাক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবসা সংক্রান্ত তথ্যের উৎসের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার সুযোগ করে দিবে যার মাধ্যমে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহজ ইংরেজিতে তাদের জিজ্ঞাসা ও অনুসন্ধান জানাতে পারবেন ও তথ্যের বিশ্লেষণ করতে পারবেন এবং ব্যবসা সম্পর্কিত নানা আগাম তথ্য পাবেন তাৎক্ষণিকভাবে। ক্রামস্ট্যাকের লক্ষ্য প্রযুক্তির বাইরে থাকা মানুষদের জন্য ডাটার অ্যাকসেস করে দেয়া এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ডাটাকেন্দ্রিক করে তুলতে সহায়তা করা। এটা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্য সার্চ ড্রিভেন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে যা বিশাল ডাটাবেজকে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সামনে নিয়ে আসবে।

ঘুরি
দেশের ভেতরে কিংবা বাইরে ঘুরতে যাওয়ার ক্ষেত্রে মার্কেটপ্লেস হিসেবে কাজ করবে ঘুরি। এট গ্রাহকদের হোটেল রুম, বিমান টিকেট, ট্যুর প্যাকেজ, পরিবহন ব্যবস্থা ও অন্যান্য আকর্ষণীয় অফারের ওপর ভিত্তি করে ভ্রমণ পরিকল্পনা করতে সহায়তা করবে। এছাড়াও, দেশের ভেতরে ও বাইরে ভ্রমণ ব্যবস্থানায় ঘুরি নানা আকর্ষণীয় আফার নিয়ে আসছে। যেমন এর মধ্যে রয়েছে ঢাকায় এক বা দুই দিনের ভ্রমণ পরিকল্পনা। এছাড়াও, এ স্টার্টআপ গ্রাহকদের নিজেদের চাহিদা মতো ভ্রমণ পরিকল্পনা করতে সুযোগ করে দিবে।

সিএমইডি
বাংলাদেশিদের জন্য ক্লাউড ভিত্তিক স্মার্ট হেলথ মনিটরিং সিস্টেম সিএমইডি। প্ল্যাটফর্মটি একইসাথে সাশ্রয়ী ও পোর্টেবল। এ মনিটরিং সিস্টেম সেন্সর ডিভাইস সেন্ট্রাল সিস্টেমের সাথে ওয়্যারলেস ডিভাইসের সাথে যুক্ত যা আবার ক্লাউড দ্বারা কানেক্টেড। এ ক্লাউডে রোগীর তথ্য ও চিকিৎসা ব্যবস্থা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। এছাড়াও, তারা ইন্টেলিজেন্ট অ্যালগরিদম ডেভলপ করেছে যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পৃথক পৃথক রোগের সাধারণ চিকিসা দিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে। এমনকি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল যেখানে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া যায় না সেখানেও ব্যক্তিকেন্দ্রিকভাবে স্বাস্থ্যের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে পারবে সিএমইডি। স্বাস্থ্যকর্মীরা এ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করবে এবং ক্লাউডভিত্তিক মেডিকেল সিস্টেম ব্যবহার করে চিকিৎসা সংক্রান্ত পরামর্শ দিবে। জরুরি অবস্থায় কিংবা স্বাস্থ্যর সংকটপূর্ণ অবস্থায় সিস্টেম বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শের জন্য ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিবে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণে সহায়তা করবে। ক্লাউডের মাধ্যমে ওয়্যারলেস ইন্টারকানেক্টেড স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহার করে তথ্য সরক্ষণ ও স্বাস্থ্যের রেকর্ড রাখবে এ প্ল্যাটফর্ম। এ সিস্টেম নিয়মিতভিত্তিতে স্বাস্থ্যের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবে এবং স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে সহায়তা করবে।

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক

Please Share This Post.