জিপি অ্যাকসেলেরেটরের দ্বিতীয় ব্যাচের যাত্রা শুরু

৬ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার, ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের উপস্থিতিতে জিপি অ্যাকসেলেরেটরের দ্বিতীয় ব্যাচ গ্রামীণফোনে তার যাত্রা শুরু করেছে।

এসডি এশিয়ার সহযোগিতায় প্রাথমিক পর্যায়ে থাকা স্থানীয় প্রযুক্তি স্টার্টআপগুলোকে সহায়তা করতে কাজ করছে জিপি অ্যাকসেলেরেটর। চার মাসের এই কর্মসূচিতে এসব উদ্যোক্তাদের অত্যন্ত কার্যকরী ও ফলপ্রসূ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। ব্যবসা শুরু করার জন্য আপগুলোকে ১১ লাখ টাকা করে আর্থিক অনুদান দেয়ার পাশাপাশি, স্টার্টআপগুলো জিপি হাউজের ভেতরে কাজ করার সুযোগ পায়। জিপি অ্যাকসেলেরেটর স্টার্টআপগুলোর ব্যবসা বিস্তৃতির জন্য এ শিল্পখাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে উদ্যোক্তাদের যোগাযোগের সুযোগ করে দেয়। নির্দিষ্ট সময়ে দলভিত্তিক এ কর্মসূচি, তরুণ উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক মডেলকে আরও কার্যকরী করে তোলা, বিনিয়োগে সমর্থ এবং ব্যবসাকে নতুন মাত্রা দেয়ারও সুযোগ করে দেয়।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, ‘এ ধরনের উদ্যোগ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে এবং এদেশের তরুণদের প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ দিতে পারে, যা তরুণদের জঙ্গীবাদের প্রভাবমুক্ত থাকতে সাহায্য করবে। সরকার তরুণ প্রজন্মকে সহায়তা দিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে এবং গ্রামীণফোনে মত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও তাদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়ুয়ে দিচ্ছে ভালো লাগছে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেন, ‘গ্রামীণফোনের মত প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের চাহিদা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখে, এই জ্ঞান জিপি একসেলারেটর এর তরুণ উদ্যোগতাদের গ্রাহক বান্ধব সেবা তৈরিতে খুবই সহায়ক হবে।’

নতুন ব্যাচকে স্বাগত জানিয়ে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব শেঠি বলেন, ‘জিপি অ্যাকসেলেরেটরের এ স্টার্টআপগুলো আমাদের প্রতিদিনই মনে করিয়ে দেয় গতি, তৎপরতা ও সকল প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে মনোনিবেশ করার দক্ষতাই আসলে সফলতার দিকে নিয়ে যায়। গ্রামীণফোন বাংলাদেশ সরকার এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে সঙ্গে নিয়ে বিশ্বের স্টার্টআপ মানচিত্রে বাংলাদেশকে দৃঢ়ভাবেতুলে ধরার ব্যাপারে অঙ্গীকারাবদ্ধ। ’

গ্রামীণফোনের হেড অব ট্র্যান্সফরমেশন কাজী মাহবুব হাসান বলেন, ‘২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রথম বিলিয়ন ডলার স্টার্টআপ তৈরির মিশনে নেমেছি আমরা। সব সহযোগীদের সাথে কাজ করার মাধ্যমেই জিপি অ্যাকসেলেরেটর এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে।’

অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক কয়েকটি ধাপের মাধ্যমে দ্বিতীয় ব্যাচের শীর্ষ পাঁচ স্টার্টআপগুলোকে জিপি অ্যাকসেলেরটের এ পর্যায়ে পৌঁছাতে হয়েছে। ৫শ’টিরও বেশি আবেদনপত্র থেকে শীর্ষ পাঁচ নির্বাচন করা নির্বাচকদের জন্যও অনেক কঠিন ছিল।

এসডি এশিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মোস্তাফিজুর আর খান, ‘আমাদের এই কর্মসূচিতে যোগ দেয়া দলগুলো চার মাস পর আরো বিনিয়োগ উপযোগী হবে, যা হয়তো তারা নিজেরা চেষ্টা করলে এক বছর লাগতো। ড়াচটি নির্বাচিত স্টার্টআপকে দ্রুত অগ্রসর হতে শেখানো এবং অারো প্রতিশ্রুতিশীল ব্যবসার সাথে একটি শিক্ষামূলক পরিবেশে কাজ করার সুযোগ দেয়া হবে , তাছাড়া তারা পাচ্ছে আমাদের সহায়তা যা এদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে বিরল।’

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণফোন ও এসডি এশিয়ার জেষ্ঠ্য সদস্যগণ, বিভিন্ন স্টার্টআপ এবং বিনিয়োগকারীরা।

অল্প সময়ের মধ্যে যেন উদ্যোক্তারা সফলভাবে তাদের কাজ সম্পন্ন করতে পারে এজন্য জিপি অ্যাকসেলেরেটর স্টার্টআপগুলোকে যোগ্যতা ও পূর্বাভিজ্ঞতা সম্পন্ন মেন্টরদের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেয়। নূন্যতম ইক্যুইটি শেয়ারের বিনিময়ে প্রত্যকটি দলকে ব্যবসা শুরু করার জন্য আর্থিক অনুদান সহ অন্যান্য সুযোগ দেয়া হয়। কর্মসূচিটি চারমাস সফলভাবে চলার পর ডেমো ডে’তে গালা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হয়। এদিন স্টার্টআপগুলো অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বিনিয়োগকারী, সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও তাদের সম্ভাব্য ক্লায়েন্টদের নিজেদের ধারণা উপস্থাপন করেন।
গ্রামীণফোন টেলিনরের লক্ষ্য অনুসরণ করে চলছে এবং বেশি বেশি ডিজিটাল কন্টেন্ট, সেবা ও ধারণা নিয়ে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সামনে এগিয়ে আসার জন্য বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে আসছে। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশের গ্রাহক সম্পর্কে গ্রামীণফোনের অভিজ্ঞতা এবং তার সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছে জিপি অ্যাকসেলেরেটর।

শীর্ষ পাঁচ স্টার্টআপ
ক্র্যামস্স্ট্যাক: একটি ডাটা অ্যানালিটিকস প্ল্যাটফর্ম। যা অ্যানালিটিকস পাইপলাইন ও মডেল ব্যবহারের মাধ্যমে এন্টারপ্রাইজ ডাটা থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে।

সোসাইন: সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে মানুষজন ব্র্যান্ড সম্পর্কে কি বলছে এবং কি ভাবছে এ নিয়ে পদ্ধতিগতভাবে তথ্য সংগ্রহ করার অ্যানালিটিক প্ল্যাটফর্ম। সোসাইন হচ্ছে, সোশ্যাল অ্যানালিটিকস।

সিএমইডি: এটি কম খরচে ও সাশ্রয়ী উপায়ে স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কে জানতে বাংলাদেশের মানুষের জন্য ক্লাউড ভিত্তিক মেডিকেল ব্যবস্থা। যা স্বাস্থ্যঝুঁকি ও মেডিকেল খরচ কমিয়ে আনবে।

বাজঅ্যালি: ব্র্যান্ডগুলোর জন্য মোবাইল মার্কেটিং নিয়ে কাজ করে। গ্রাহকদের ব্র্যান্ড সম্পর্কে আরও উন্নত অভিজ্ঞতা দিতে অডিয়েন্স টার্গেটিং নিয়ে কাজ করে। এদের প্রথম উদ্ভাবনী পণ্যটি হচ্ছে মিসড কল মার্কেটিং।

ঘুরি: বাংলাদেশ ও দেশের বাইরে ভ্রমণের ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী হোটেল ও ট্যুর প্যাকেজ রিজার্ভেশন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান।

 

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক

Please Share This Post.