জিপির ২৭৬০ কোটি টাকা আয়, গতবছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি ৯.৫ %

গ্রামীণফোন লিঃ ২০১৬ সালের ১ম প্রান্তিকে ২৭৬০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করেছে যা পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯.৫% বেশি । আগের বছরের তুলনায় নতুন গ্রাহক ও সেবা (আন্তসংযোগ আয় বাদে) থেকে অর্জিত রাজস্ব বেড়েছে ১১.৮%, যাতে ডাটা ও মূল্য সংযোজিত সেবার ভূমিকা বর্ধনশীল। ডাটা থেকে অর্জিত রাজস্ব বেড়েছে ৭.১% আর মূল্য সংযোজিত সেবা থেকে আয় বেড়েছে ২০.৫%(আগের বছরের তুলনায়)। ভয়েস কল থেকে অর্জিত রাজস্বও গত বছরের তুলনায় ৪.৮%।

প্রথম প্রান্তিক শেষে গ্রামীণফোনে গ্রাহক সংখ্যা দাড়িয়েছে ৫ কোটি ৬৩ লক্ষতে যা ডিসেম্বর ২০১৫ এর তুলনায় ০.৭% কম। তবে গত বছরের তুলনায় গ্রাহক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮.২% এবং মার্চের শেষে সিম মার্কেট শেয়ার হয়েছে ৪৩.০%। এই প্রান্তিকে ৪১ লক্ষ নতুন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী যোগ হওয়ায় মোট ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা দাড়িয়েছে ১ কোটি ৯৯ লক্ষ।

গ্রামীণফোনের সিইও রাজিব শেঠি বলেন,”দুই ডিজিটের গ্রাহক ও সেবা থেকে অর্জিত রাজস্ব প্রবৃদ্ধি নিয়ে আমরা একটি ভালো প্রান্তিক পার করেছি। আমাদের ভয়েজ থেকে অর্জিত রাজস্বও বেড়েছে, যা খুবই উৎসাহব্যঞ্জক এবং এতে বোঝা যায় যে আমাদের প্রতিযোগিতামূলক ও সরল অফারগুলো বাজারে দৃষ্টি আকর্ষন করতে সক্ষম হয়েছে।” তিনি আরো বলেন, “প্রথম প্রান্তিকে আমরা ৪১ রক্স নতুন ইন্টারনেট গ্রাহক যোগ করেছি এবং ১৮০৪টি নতুন ৩জি সাইট চালু করেছি, যার ফলে মোট জনসংখ্যার ৮০% এখন ৩জি সেবার আওতায় চলে এসেছে।”

আয়কর প্রদানের পর ২০১৫ এর ১ম প্রান্তিকে ২১.৩% মার্জিন সহ ৫৪০ কোটি টাকা মুনাফার তুলনায় ২০১৬ এর ১ম প্রান্তিকে নিট মুনাফা হয়েছে ২০.৪% মার্জিন সহ ৫৬০ কোটি টাকা। দক্ষ পরিচলন ব্যয় ব্যবস্থাপনার কারণে এই প্রান্তিকে EBITDA (অন্যান্য আইটেমের আগে) হয়েছে ১৫৩০ কোটি টাকা এবং মার্জিন দাড়িয়েছে  ৫৫.৩%। এই প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৪.১৫ টাকা।

গ্রামীণফোনের সিএফও দিলীপ পাল বলেন,” আমরা পর পর চারটি প্রান্তিকে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি দক্ষভাবে বানিজ্যিক কার্যক্রম বাস্তবায়নের ফলে এবং একই সাথে ৩জির আওতা বাড়াতে বিনিয়োগও অব্যাহত ছিল। ভালো রাজস্ব আয় এবং দক্ষ ব্যয় ব্যবস্থাপনার কারণে EBITDA মার্জিনের উন্নতি হয়েছে। উচ্চতর অবচয় এবং অ্যামোর্টাইজেশনের পরও শেয়ার প্রতি আয় বেড়েছে।“

গ্রামীণফোন প্রথম প্রান্তিকে ৩জি নেটওয়ার্ক স্থাপন, ২জি নেটওয়ার্ক এর মানোন্নয়ন এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে ৯১০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এর ফলে আরো বেশি কল ও ডাটা ব্যবহার এবং নতুন নতুন সেবা প্রদানের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। এদিকে দেশের বৃহত্তম করদাতা গ্রামীণফোন ২০১৬ এর ১ম প্রান্তিকে সালে সরকারী কোষাগারে কর, ভ্যাট, শুল্ক ও লাইসেন্স ফি হিসেবে ১৪২০ কোটি টাকা দিয়েছে যা কোম্পানির মোট রাজস্ব আয়ের ৫১.৬শতাংশ।

গ্রামীণফোন গত ১৯ এপ্রিল ২০১৬ তে তার ১৯তম বার্ষিক সাধারণ সভার আয়োজন করে। সভায় অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি শেয়ারহোর্ডারগণ  ২০১৫ সালের জন্য ১৪০ শতাংশ  মোট নগদ লভ্যাংশ (৮০% অন্তবর্তী নগদ লভ্যাংশ সহ) অনুমোদন করেন।

সিনিউজভয়েস/ডেক্স

Please Share This Post.