জাপানে উচ্চ শিক্ষা নিতে করনীয় নিয়ে কাজ করছে ডিজেআইটি

বিভিন্ন দেশ থেকে জাপানে পড়াশুনা করতে যাওয়া ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। কয়েক বছর ধরে অনেক বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রীরাও উচ্চ শিক্ষার জন্য জাপানে পাড়ি জমাচ্ছেন। বর্তমানে জাপানের অর্থনীতি বিশ্বের মধ্যে তৃতীয় বৃহত্তম। কিন্তু গত একদশক ধরে ক্রমাগত হারে জনসংখ্যার নিম্নগতি জাপানের অর্থনীতির জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব জনসংখ্যা রিভিউইয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১০ সালে জাপানের জনসংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৭৫ লক্ষ যা ২০১৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৬৫ লক্ষ তে। গত ৫ বছরেই কমে গেছে প্রায় ১০ লক্ষ লোক। এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে কতটা মারাত্মক হয়ে দাড়িয়েছে এই জনসংখ্যা সমস্যাটি। এই চলমান পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করতে জাপান সরকার উদ্যোগ নিয়েছে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো থেকে সম্ভাবনাময় দক্ষ জনশক্তি কে জাপানে চাকুরী ও শিক্ষা অর্জনে উৎসাহিত করতে। এই দেশগুলোর তালিকার মধ্যে রয়েছে ভিয়েতনাম, বাংলাদেশ, ভারত, মালয়েশিয়া, নেপাল, ফিলিপাইনের নাম।
কেন জাপান –
জাপানের শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক মানের। প্রায় ৭৮০টির মত বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামুলকভাবে অনেক কম খরচে পড়াশোনা করার সুযোগ রয়েছে ছাত্রছাত্রীদের। পড়াশোনার পাশাপাশি সাপ্তাহিক ২৮ ঘন্টা পার্টটাইম জবের সুযোগ দিচ্ছে জাপান সরকার যা ইউরোপ বা আমেরিকার কোন উন্নত দেশেই নেই । তাছাড়া বাৎসরিক অবকাশকালীন সময়ে পার্ট-টাইম জবের সময় নিয়ে কোন বাধ্যবাধকতা নেই। জাপানে প্রতি ঘন্টায় পার্ট-টাইম জবের বেতন সর্বনিন্ম ৮০০ জাপানিজ ইয়েন। কাজ ও ভাষার দক্ষতা বাড়ার সাথে সাথে এই বেতনও বাড়ে। এভাবে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করে নিজের পড়াশোনার খরচ মিটিয়ে দেশে টাকা পাঠাচ্ছেন অনেকে। তাছাড়া পড়াশোনা শেষেই ফুলটাইম চাকুরীর সুযোগ মিলছে জাপানে এবং ৫ বছর ওয়ার্ক ভিসা থাকার পরই আবেদন করা যায় পারমানেন্ট রেসিডেন্স স্ট্যাটাসের জন্য। তাছাড়া জাপান দূতাবাস এখন ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে অনেক নমনীয়।
কোন কোন বিষয়ে পড়াশোনা করতে পারবেন –
জাপানে প্রায় সকল বিষয়েই পড়াশুনার সুযোগ রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে – হিউম্যান স্ট্যাডিজ, লিঙ্গুইস্টিক স্টাডিজ, হিস্টোরিকেল স্টাডিজ, হিউম্যান সায়েন্স, এডুকেশনাল সায়েন্স, ল এন্ড সোসাইটি, পাবলিক ল এন্ড পলিসি, ইকনোমিক্স, ম্যানেজমেন্ট, একাউন্ট্যান্সি, ফিজিক্স, এস্ট্রোনমি, জিওফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, আর্থ সায়েন্স, মেডিক্যাল সায়েন্স, ডিজেবিলিটি সায়েন্স, ডেন্টিস্ট্রি, ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি, বায়োফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্স, লাইফ সায়েন্স, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকানিক্যাল সিস্টেমস এন্ড ডিজাইন, ন্যানোম্যাকানিক্স, এ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং, কোয়ান্টাম সায়েন্স এন্ড এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং, এপ্লাইড ফিজিক্স, এপ্লাইড কেমিস্ট্রি, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োসলিকিউলার ইঞ্জিনিয়ারিং, মেটেরিয়াল সায়েন্স, মেটেরিয়ালস প্রসেসিং, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার এন্ড বিল্ডিং সায়েন্স, ম্যানেজমেন্ট অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি, বায়োইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড রোবটিক্স, বায়োলজিক্যাল রিসোর্সেস সায়েন্স, বায়োসায়েন্স এন্ড বায়োটেকনোলজি, এরিয়া স্টাডিজ, ইন্টারকালচারাল রিলেশন্স, কম্পিউটার এন্ড ম্যাথমেটিকেল সায়েন্স, সিস্টেম ইনফরমেশন সায়েন্স ও এডুকেশনাল ইনফরমেটিক্স ইত্যাদি।
কোর্সের মেয়াদ –
ল্যাঙ্গুয়েজ এন্ড কালচারাল কোর্স ১ বছর ৩ মাস থেকে ২ বছর মেয়াদী। ব্যাচেলর্স ডিগ্রি বেশীর ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়েই চার বছর মেয়াদী। মাস্টার্স ডিগ্রি দুই বছর মেয়াদী।
ভর্তির যোগ্যতা –
এইচএসসি/ডিপ্লোমা/স্নাতক/স্নাতকোত্তর বা সমমানের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। পাশাপাশি জাপানিজ ভাষায় দক্ষতার প্রয়োজন।
কিভাবে যাবেন জাপানে –
শুরুতে জাপানিজ ল্যাংগুয়েজ ইনস্টিটিউটগুলোতে ইন্টারভিউ দিতে হবে। ইন্টারভিউতে পাশ করলে প্রয়োজনীয় কাগজ-পত্র জাপান ইমিগ্রেশনে জমা দিতে হবে। ইমিগ্রেশন থেকে ইলিজিবিলিটি লেটার ইস্যু করার পর ১ বছরের টিউশন ফি জমা দিতে হবে। এরপর বাংলাদেশের জাপান এমব্যাসিতে প্রয়োজনীয় কাগজ-পত্র জমা দিয়ে ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। এমব্যাসি সবকিছু দেখে ভিসা ইস্যু করবে।
আরো জানতে –
বাংলাদেশী ছাত্রছাত্রীদের ইন্টারভিউ নিতে ইউনিটাস জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুলের প্রতিনিধিরা আগামী ২৬ এপ্রিল ঢাকা আসছেন। জাপানে বাংলাদেশী ছাত্রছাত্রীদের পড়াশুনা, চাকুরী ও স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ নিয়ে ২৬ এপ্রিল বিকেল ৪টায় একটি সেমিনার করবে এই প্রতিনিধি দলটি। ড্যাফোডিল জাপান আইটি এই সেমিনারটি আয়োজন করবে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ৮ম তলার ব্যাঙ্কুয়েট হলে। সেমিনারটি সবার জন্য উন্মুক্ত ও ফ্রি। তবে আগে থেকে সিট বুক করে আসা ভালো। সেমিনারে সিট বুক করতে পারেন এই লিঙ্কেঃ djit.ac/japan_reg/
জাপানে পড়াশোনা বিষয়ে সহায়তা করার জন্য বাংলাদেশে ড্যাফোডিল জাপান আইটি ২০১৩ সাল থেকে কাজ করছে। তাদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলতে গিয়ে ড্যাফোডিল জাপান আইটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর “তরু অকাজাকি” জানান তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে জাপানিজ ভাষার কোর্স করে চলতি বছর এপ্রিলে সাজ্জাদ, মিরাজ, সাদিকুর, মাইদুল, হাবিব, ফয়সাল, রনি, অনিকসহ বেশ কিছু বাংলাদেশী ছাত্রছাত্রী পাড়ি জমিয়েছেন জাপানে। প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার সুইয়সি ইওয়াসাকি জানান, যেহেতু জাপানে যাওয়ার জন্য জাপানিজ ভাষা জানাটা আবশ্যক, সেহেতু ড্যাফোডিল জাপান আইটির রয়েছে স্পেশাল জাপানিজ ল্যাংগুয়েজ কোর্স। এসব কোর্সের ক্লাস নেন জাপানিজ ও বাংলাদেশি শিক্ষকরা।
ড্যাফোডিল জাপান আইটির অফিস পশ্চিম পান্থপথের কেএফসি ভবনের ৮তম তলাতে অবস্থিত (স্কয়ার হাসপাতালের পাশে)। যোগাযোগের করতে পারেন ০১৮৪৭১৪০১১১ ও ০১৭১৩৪৯৩২৮২।
যারা ভাবছেন দেশের বাহিরে চাকুরী বা পড়াশোনা করে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার, তাদের জন্য জাপান হতে পাড়ে উত্তম পছন্দ।

-সিনিউজভয়েস/ডেক্স

Please Share This Post.