জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় শতাধিক বিজয়ী

জমজমাট আয়োজনে শেষ হল তৃতীয় বারের মতো আয়োজিত ‘জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা ২০১৭’। ৭ এপ্রিল শুক্রবার, রাজধানীর ফার্মগেটের খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (কেআইবি) অনুষ্ঠিত হয় চূড়ান্ত জাতীয় পর্ব। সারা দেশে মোট ১৯টি আঞ্চলিক পবের্র ১ হাজার ২০০জন বিজয়ী শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই জাতীয় পর্বের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল ৯টায় প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, এমপি। এ সময় তিনি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‌তোমরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। আগামী দিনের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার তোমরাই।

তিনি আরো বলেন, ২০০৯ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করছি। এ জন্য নানামুখি কার্যক্রম হাতে নেওয়া হচ্ছে যার একটি হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে তোলা। সে ধারাবাহিকতায় আয়োজন করা হয় প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা। প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ৬ষ্ঠ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত তথ্যপ্রযুক্তি বিষয় সকলকে অধ্যয়ন করতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান বিষয়কে আরও জোরদার করার জন্যও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পর শুরু হয় জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার মূল পর্ব। সকালে সাড়ে ৯টায় থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইটিতে এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি’র শুক্রবাদ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয় প্রোগ্রামিং কনটেস্ট। এরপর সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে ১০টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত মূল ভেন্যু কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) তে অনুষ্ঠিত হয় কুইজ প্রতিযোগিতা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব। প্রোগ্রামিং ও কুইজ প্রতিযোগিতা পরে প্রতিযোগিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় প্রশ্নত্তোর পর্ব। পর্বটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের (বিডিওএসএন) সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান লাফিফা জামাল। সমাপণী অনুষ্ঠানের আগে সংগীত পরিবেশন করেন মাহমুদুজ্জামান বাবু ও সন্ধি।

বিকাল ৪টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) তে অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণী ও সমাপণী অনুষ্ঠান। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাগোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, এমপি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হারুনুর রশিদ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদসহ আরও অনেকে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে পৃথিবী পরিবর্তন হচ্ছে। বর্তমানে প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভালো করা অনেক সুযোগ রয়েছে। জিপিএ পাঁচ পাওয়া পাশাপাশি ভালো মানুষ হওয়াও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। মুহম্মাদ জাফর ইকবাল জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য বলেন, আনন্দ নিয়ে পড়তে হবে। কষ্ট করে মুখস্থ করার দরকার নাই। আনন্দসহ পড়লে এমনিতেই তোমাদের পড়া মনে থাকবে।

সমাপণী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আমরা যদি আগামী দিনগুলোতে এই কার্যক্রমকে আরো বড় আকারে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে পারি তাহলে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আমাদের দেশে বিশ্বমানের প্রোগ্রামার তৈরির সংস্কৃতি আরো
বিকশিত ও বড় হবে। কেবল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা নয় বড় ইন্ডাস্ট্রিতেও আমাদের সাফল্যে ধারাবাহিক হবে। সমাপণী ও পুরস্কার বিতরণী পর্বে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয় আমন্ত্রিত অতিথিরা। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রোগ্রামিং ও কুইজ প্রতিযোগিতা দুই ক্যাটাগরিতে মোট ১১০ জনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

প্রসঙ্গত, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, চট্টগ্রাম, বরিশাল, ঢাকা, গোপালগঞ্জ, দিনাজপুর, পাবনা, পটুয়াখালী, টাঙ্গাইল, নোয়াখালী, কুমিল্লা, যশোর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা’র আঞ্চলিক পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে। সবগুলো ভেন্যুতে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগের তত্ত্বাবাধানে।

আঞ্চলিক প্রতিযোগিতাসমূহ গত ০৯ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেটে অবস্থিত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহের ত্রিশালের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লার সেনানিবাসে অবস্থিত বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে।

এ ছাড়াও চট্টগ্রামের আনোয়ারা, নাটোরের সিংড়া, নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলায় জাতীয় হাই স্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আয়োজনে প্রয়োজনীয় কারিগরি, ইভেন্ট ও নলেজ সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন)। প্রতিযোগিতার বিচার কাজের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে দেশে তৈরি আন্তর্জাতিক জাজ ইঞ্জিন কোডমার্শালকে। প্রতিযোগিতার সকল আপডেট পাওয়া যাবে ফেসবুক পেজে (www.facebook.com/nhspcbd) এবং ফেসবুক গ্রুপ www.facebook.com/groups/NHSPC

 

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক

Please Share This Post.