জাতীয় সাইবার নিরাপত্তায় ৮ সুপারিশ

শুরু হচ্ছে সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা মাস অক্টোবর-২০১৭। রোববার থেকে এ উপলক্ষে সারা দেশে সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে ও সামাজিক সংগঠনগুলোর প্রতি সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা। একইসঙ্গে গণসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাইবার ঝুঁকি নির্ধারণ ও জাতীয় সাইবার নিরাপত্তায় দক্ষ জনশক্তি তৈরিসহ সরকারের প্রতি আটটি সুপারিশ দেয়া হয়েছে।

শুক্রবার সকাল ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন। সেখানে এসব সুপারিশ তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানের সহযোগিতায় ছিল প্রযুক্তিবিদদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ইনফরমেশন সিস্টেমস অডিট অ্যান্ড কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশনের (আইসাকা) ঢাকা চ্যাপ্টার।

সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন আয়োজক সংগঠনের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ হাসান। আরো বক্তব্য দেন আইসাকা ঢাকা চ্যাপ্টারের সেক্রেটারি ওমর ফারুক খন্দকার, আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক ও প্রধান সমন্বয়ক কাজী মুস্তাফিজ, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক প্রকৌশলী সৈয়দ জাহিদ হোসেন, সংগঠনের উপদেষ্টা মোহাম্মদ কাওসার উদ্দিন, সদস্য জাহিদুল ইসলাম ও তানজিয়া খানম।

২০০৪ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ২০১১ থেকে নরওয়ে এবং ২০১২ থেকে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশ অক্টোবরকে ‘সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা মাস’ হিসেবে পালন করে আসছে। সাইবার দস্যুতা থেকে নিরাপদে থাকতে মাসব্যাপী নানা কর্মসূচি নেওয়া হয় এ মাসে।  বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ২০১৬ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অক্টোবর মাসটি পালনের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন। এ বছর সংগঠনটি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি অ্যলায়েন্সের (এনসিএসএ) সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা মাস-২০১৭ কার্যক্রমের অফিসিয়াল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

দেশের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের প্রতি আটটি সুপারিশ উপস্থাপনা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে, জনসচেতনতা তৈরি, এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা, সাইবার নিরাপত্তায় দক্ষ জনশক্তি তৈরি, গণসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাইবার ঝুঁকি চিহ্নিত, সাইবার নিরাপত্তার কাজে দেশি প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্ব দেয়া, গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে প্রশিক্ষিত জনবল  বাড়ানো ও ইন্টারনেটের আইপি লগ সংরক্ষণে তথ্যপ্রযুক্তি আইন হালনাগাদ করা।

সংবাদ আইসাকা সেক্রেটারি ওমর ফারুক খন্দকার বলেন, সাইবার নিরাপত্তায় দেশের বিপুল জনশক্তি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কাজে লাগানো যেতে পারে। এতে তারা সাইবার নিরাপত্তার বিভিন্ন টুলস তৈরি করে সেগুলো আন্তর্জাতিকভাবে বাজারজাত করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন করা সম্ভব।

তিনি বলেন, দেশের শিশুরা সাইবার অপরাধের ভুক্তভোগী হচ্ছে। দেশে আমদানি হওয়া স্মার্টফোনগুলো বয়সভিত্তিক ব্যবহারিক নিয়ন্ত্রণ সুবিধা তৈরি করা গেলে এ থেকে নিস্তার পাওয়া সম্ভব। এজন্য পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের গ্রাহকের নেয়া ব্যক্তিগত তথ্য কিভাবে সংরক্ষণ করবে সে বিষয়েও বাধ্যবাধকতার প্রয়োজন আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক প্রকৌশলী সৈয়দ জাহিদ হোসেন বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ভুলের কারণে সাইবার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় শতকরা ৮০ ভাগ। এজন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

জাতীয় সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রযুক্তির উৎকর্ষের সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকিও বাড়ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের কার্যক্রমে যতো অগ্রগতি হবে ততো বেশি সাইবার নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

সিনিউজভয়েস/ডেস্ক/

Please Share This Post.