ইএটিএল-প্রথম আলো অ্যাপস প্রতিযোগিতা শুরু

আবারো জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে শুরু হলো ‘ইএটিএল-প্রথম আলো অ্যাপস প্রতিযোগিতা ২০১৬’।

২৪ মে মঙ্গলবার,  রাজধানীর একটি হোটেলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ‘ইএটিএল-প্রথম আলো অ্যাপস প্রতিযোগিতা ২০১৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘এই প্রতিযোগিতা তরুণ প্রজন্মকে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে কাজ করতে উৎসাহিত করছে। তরুণেরা নিজেদের ধারণা দিয়ে তৈরি করছে স্মার্টফোন অ্যাপ্লিকেশন (অ্যাপ)। বিশ্বের প্রযুক্তি বাজারে যাওয়ার জন্য আমাদের প্রস্তুতির একটি অংশই বলা যায় এ আয়োজনকে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা চাই বর্তমান প্রজন্ম প্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে উঠুক। এজন্য আমরা প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে আইসিটি বিষয়কে বাধ্যতামূলক করেছি।’

অনুষ্ঠানে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘এই ধরনের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশকে বিশ্বের দুয়ারে তুলে ধরা সম্ভব। ১৬ কোটি মানুষ নিয়ে বাংলাদেশও হতে পারে অ্যাপের বড় বাজার। এ ধরনের প্রতিযোগিতা অ্যাপ তৈরিতে তরুণদের উদ্বুদ্ধ করবে।’

এথিকস অ্যাডভান্স টেকনোলজিস লিমিটেড (ইএটিএল) এবং প্রথম আলো আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা এবারে চতুর্থবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবারের আয়োজনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক বিশ্বব্যাংক ও কানাডা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও দক্ষিণ এশিয়ায় বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর কিমিয়াও ফেন বলেন, ‘বাংলাদেশের শিক্ষা ও আইসিটি খাতের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বব্যাংক। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।’

কানাডার হাইকমিশনার বেনইত পিয়েরে লারামি বলেন, ‘কানাডা মোবাইল অ্যাপ তৈরিতে তরুণদের বিশেষভাবে সহযোগিতা করছে। বাংলাদেশের জন্য বাস লোকেটর নামের একটি অ্যাপ তৈরিতে সহায়তা করেছে কানাডা।

ইএটিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ মুবিন খান বলেন, ‘অ্যাপ নির্মাণ করে অর্থনীতিতে পরিবর্তন আনা যাবে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিং করবে অ্যাপ।’

প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, ‘ভবিষ্যতে এই প্রতিযোগিতায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করা হবে।’

পূজা সেনগুপ্তের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ইএটিএলের প্রধান কারিগরি উপদেষ্টা রাজেশ পালিত বক্তব্য দেন।

এবারের প্রতিযোগিতা চলবে সাত মাস ধরে। ধাপে ধাপে প্রতিযোগিতা এগোবে। প্রতিযোগিতায় সেরা অ্যাপের জন্য রয়েছে ১০ লাখ টাকা পুরস্কার। সঙ্গে এবার যোগ হচ্ছে ট্রফি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই ট্রফি উন্মোচন করা হয়। এছাড়া প্রতি বিভাগের প্রথম পুরস্কারপ্রাপ্ত অ্যাপ পাবে দুই লাখ টাকা করে।

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দলগতভাবে অ্যাপের ধারণা জমা দিতে পারবেন। পরে ধাপে ধাপে অ্যাপ তৈরি করতে হবে। তিন বিভাগে কৃষি ও পশুপালন, শিক্ষা, অর্থব্যবস্থা, ব্যবসা, প্রোডাক্টিভিটি, টুলস, স্বাস্থ্য ও জীবনযাপন, খবর ও বিনোদন, পরিবার ও সামাজিক, ব্লগিং, খাদ্য, কেনাকাটা, গেম ইত্যাদি বিষয়ে অ্যাপ জমা দেওয়া হবে।

www.eatlapps.com/contest2016 ঠিকানার ওয়েবসাইটে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত জমা দেওয়া যাবে অ্যাপের ধারণাপত্র। প্রতিযোগিতা আয়োজনে সহযোগিতা করছে আইসিটি বিভাগ, গ্রামীণফোন, চ্যানেল আই।

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক

Please Share This Post.