চিলড্রেন সায়েন্স ওয়ার্ল্ড ২০১৬ অনুষ্ঠিত

ঢাকা, গোপালগঞ্জ, বগুড়া, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ এবং নোয়াখালীতে বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি (এসপিএসবি) এবং সায়েন্স ফোরাম ২১ এর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে চিলড্রেন সায়েন্স ওয়ার্ল্ড (সিএসডাব্লিউ) এর ১০টি পর্ব। দশটি স্কুলের প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী এই আয়োজনে অংশ নিয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, বিজ্ঞানী এবং বিশেষজ্ঞরা এখানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তৃতা করেন। ১১ মে থেকে শুরু হয়ে  ৬ জুন এই আয়োজনগুলো শেষ হয়।

বগুড়ার প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে গত ১১ মে অনুষ্ঠিত হয়েছে সিএসডাব্লিউ এর প্রথম পর্বটি। Elcetronics: Backbone of the Modern Era বিষয়টি নিয়ে এতে বক্তৃতা দেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের লেকচারার মোঃ রেজাউল ইসলাম। বগুড়ার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান- বগুড়া জিলা স্কুল, বগুড়া সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, আর্মড পুলিশ ব্যাটেলিয়ন স্কুল এন্ড কলেজ, বিয়াম মডেল স্কুল, পুলিশ লাইনস স্কুল এন্ড কলেজ এবং ইয়াকুবিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রায় তিনশো শিক্ষার্থী আয়োজনটিতে অংশ নেয়। বক্তৃতায় ইলেকট্রনিক্সের প্রাথমিক ধারণা, পরমাণু এবং তার শক্তিস্তর, সেমিকন্ডাক্টর, ট্রানজিস্টর, লাইট এমিটিং ডায়োড (এলইডি), কম্পিউটারের লজিক, মেশিন ল্যাংগুয়েজ, প্রোগ্রামি্ং, আগামী দিনে ইলেক্ট্রনিক্সের চ্যলেঞ্জ এবং এই সংক্রান্ত সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।

দ্বিতীয় পর্বটি অনুষ্ঠিত হয় গত ১২ মে, দিনাজপুরের চেরাডাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ে। ICT in Our Daily Life বিষয়টি নিয়ে এতে বক্তৃতা দেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ আহসান হাবীব। স্কুলটির চার শতাধিক শিক্ষার্থী এতে অংশ নেয়।

তৃতীয় পর্বে ঢাকার বারিধারার মার্টিন লুথার কলেজে Nanotechnology: A Bridge to the Future বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. এম নূরুজ্জামান খান। ন্যানোটেকনোলজি কী, প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে ন্যানোটেকনোলজির ব্যবহার, প্রকৃতি থেকে অনুপ্রাণিত বিভিন্ন ন্যানোটেক, যেমন সেলফ ক্লিনিং ম্যাটেরিয়াল, ন্যানোটেকনোলজি নিয়ে বর্তমান গবেষণা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে ড. নূরুজ্জামান আলোচনা করেন।

চতুর্থ ও পঞ্চম পর্ব অনুষ্ঠিত হয় ৪ জুন, গোপালগঞ্জের শেখ হাসিনা সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এবং এস এম মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে। The Age of ICT Revolution বিষয়টি নিয়ে পর্ব দুটিতে কথা বলেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক সজল হালদার। প্রতিটি স্কুলেই একশোর বেশি শিক্ষার্থী এতে অংশ নেয়। বর্তমান যুগে তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তৃত ব্যবহার, ইন্টারনেট, সার্চ ইঞ্জিন, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমসমূহ, সাইবার ক্রাইম, কম্পিউটার এবং মোবাইল ফোনের বিভিন্ন ধরণের অপারেটিং সিস্টেম, প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের ধারণাসহ বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয় আয়োজন দুটিতে।

ষষ্ঠ ও সপ্তম পর্ব পর্ব দুটি অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ৪ ও ৫ জুন, ময়মনসিংহের জিলা পরিষদ উচ্চ বিদ্যালয় ও মুগালটুলা উচ্চ বিদ্যালয়ে। Scientific Inventions in Twentieth Century বিষয়টি নিয়ে এতে কথা বলেন

ফ্রিল্যান্স আইটি ল্যাব, ময়মনসিংহের সিইও প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান। গত শতাব্দীর প্রধান প্রধান বৈজ্ঞানিক আবিস্কারগুলো এবং বিজ্ঞানীদের অবদান নিয়ে এতে আলোচনা করা হয়। এছাড়া আমাদের চারপাশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার, বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা এবং গবেষণা করার পেছনের কারণগুলো নিয়েও মাহমুদুল হাসান কথা বলেন।

নোয়াখালীর অরুণ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়, নোয়াখালী উচ্চ বিদ্যালয় এবং নোয়াখালী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে গতকাল ৬ জুন অনুষ্ঠিত হয়েছে চিলড্রেন সায়েন্স ওয়ার্ল্ডের শেষ তিনটি পর্ব। Artificial Intelligence: Future of the Computing বিষয়টি নিয়ে অরুণ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে আলোচনা করেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) তথ্য ও যোগাযোগ প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক মোঃ সাইফুর রহমান। নোয়াখালী উচ্চ বিদ্যালয়ে Computers: Shaping the Future of the World বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন নোবিপ্রবির একই বিভাগের শিক্ষক মোঃ আমজাদ হোসেন। শেষ পর্বে Computers: A Machine beyond Imagination বিষয়টি নিয়ে নোয়াখালী ইউনিয়ন হাই স্কুলে আলোচনা করেন নোবিপ্রবির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও টেলিকমিউনিকেশন প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক মোঃ ইয়াসিন কবির। প্রতিটি স্কুলেই একশোর বেশি শিক্ষার্থী আয়োজনগুলোতে অংশ নেয়।

চিলড্রেন সায়েন্স ওয়ার্ল্ডের প্রতিটি পর্বেই মূল বক্তৃতার পর শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করার সুযোগ পেয়েছে। বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্নের জন্য ছিল পুরস্কারের ব্যবস্থা।

ঢাকার মার্টিন লুথার কলেজের শিক্ষার্থী তিথি জানায়, “আমি আগে ভাবতাম যে ন্যানোটেকনোলজি অনেক দামী প্রযুক্তি। কিন্তু আমাদের আশেপাশে প্রকৃতির মাঝেই যে ন্যানোটেকনোলজির এতোসব উদাহরণ লুকিয়ে আছে, সেটা জানতাম না। আজকে জানতে পেরে খুব অবাক লাগছে। আমি সবসময় বিজ্ঞানী হতে চাইতাম, এখন ভাবছি যে গবেষণাটা ন্যানোটেক নিয়েই করবো।”

গোপালগঞ্জের একজ অভিভাবক বলেন, “এমন আয়োজন তো আমাদের বাচ্চাদের জন্য সহজে হয় না। আয়োজকদের ধন্যবাদ যে ঢাকার বাইরের স্কুলে এসেও তারা এ আয়োজন করছেন।”

পুরো আয়োজনটি সমন্বয়ের কাজ করেছে টিম এসপিএসবির সদস্যবৃন্দ। এসপিএসবির সহকারী অ্যাকাডেমিক সমন্বয়ক ইব্রাহিম মুদ্দাসসের এবছরের চিলড্রেন সায়েন্স ওয়ার্ল্ড নিয়ে জানান, “ঢাকার স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য বিজ্ঞান বিষয়ক নানা আয়োজন করা হয়। তাই দেখা যায় ঢাকার শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানে অনেক বেশি আগ্রহী। ঢাকার বাইরে চিত্রটা একেবারেই উল্টো। তাই আমরা চেষ্টা করছি ঢাকার বাইরেও কিছু করতে। এজন্য এবছর নব্বই শতাংশ সিএসডাব্লিউ আমরা অন্য জেলাগুলোতে আয়োজন করি। কয়েকটি ছিল মফস্বলে। আমরা ঢাকার বাইরের স্কুলগুলোতে শিক্ষক এবং ছাত্রছাত্রীদের বেশ ভালো সাড়া পেয়েছি।”

পুরো আয়োজনটির পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ছিল পাই নেট, জাপান।

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক

Please Share This Post.