চিরনিদ্রায় ইন্টারনেট কিংবদন্তী ল্যারি রবার্টস

ইন্টারনেটের জন্মের পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছিলেন যে কয়েকজন মানুষ তাঁদের একজন ল্যারি রবার্টস গত ২৬ ডিসেম্বর ৮১ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন ।
১৯৬০-এর দশকের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অ্যাডভান্সড রিসার্চ প্রজেক্ট এজেন্সি (আরপা)-এর উদ্যোগে আরপানেট নামে যে নেটওয়ার্কটি স্থাপন করা হয়েছিল তারই প্রাণপুরুষ ছিলেন ল্যারি রবার্টস। এই আরপানেটই পরবর্তীতে ইন্টারনেটে রূপলাভ করে। ইন্টারনেটের চার জনকের একজন হিসেবে স্বীকৃত তিনি। বাকি তিনজন হলেন রবার্ট কান, ভিন্ট কার্ফ ও লেন ক্লায়েনরক।

ইন্টারনেটের জন্মের পেছনে ল্যারি রবার্টসের প্রধান দুটি কৃতিত্ব হল মূল আরপানেট নেটওয়ার্কের লেআউট ডিজাইন এবং এক নোড থেকে আরেকটিতে ডাটা স্থানান্তরের কৌশল নির্ধারণ। তিনি ঠিক করেন যে, নেটওয়ার্কটি একটি কেন্দ্রীকৃত (centralised) পদ্ধতি নয়, বরং distributed পদ্ধতিতে চলবে। এছাড়া ডাটাকে উৎস থেকে গন্তব্যে পৌঁছাতে যে বিভিন্ন প্যাকেটে ভাগ করে নিতে হবে সেটিও তিনিই ঠিক করেন। এটিই পরে প্যাকেট সুইচিং সিস্টেম নামে পরিচিত হয়। ১৯৬৯ সালে আরপানেটে সর্বপ্রথম চারটি কম্পিউটার সংযুক্ত হয়, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান এতে সংযুক্ত হওয়ায় দ্রুতই এর কলেবর বড় হতে থাকে। আরপানেট ১৯৮৩ পর্যন্ত চলমান থাকে, তারপর এটির অস্তিত্ব ইন্টারনেটের মধ্যে বিলীন হয়ে যায়।

১৯৭৩ সালে আরপানেট প্রজেক্ট ত্যাগ করার পর নেটওয়ার্কিং-এর বিভিন্ন সংস্থা গড়ে তোলায় নিয়োজিত থাকেন ড. রবার্টস। প্রথমে টেলিনেট নামে একটি সংস্থা গড়ে তোলেন তিনি। জিটিই ৬০ মিলিয়ন ডলার দিয়ে টেলিনেটকে কিনে নেয়ার পর নেটএক্সপ্রেস নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন প্রায় দশ বছর।

ড. রবার্টসের জন্ম ১৯৩৭ সালে কানেটিকাটে। তিনি এমআইটি থেকে তড়িৎ প্রকৌশলে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।

 

সিনিউজভয়েস/