চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও ভবিষ্যত পেশা নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, ইউএসএইড এবং ইউএনডিপি’র সহায়তায় পরিচালিত এটুআই এবং জাতিসংঘের শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইউএনআইডিও) এর যৌথ উদ্যোগে ০৪ আগস্ট, ২০১৯ রাজধানী ঢাকার হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত হলো ‘ন্যাশনাল কনসালটেশন অন ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল এ্যান্ড ফিউচার অব ওয়ার্ক’।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এমপি এবং সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এমপি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও ভবিষ্যত পেশা নিয়ে ‘ফিউচার স্কিলস: ফাইন্ডিং ইমার্জিং স্কিলস টু ট্যাকেল দি চ্যালেঞ্জেস অব অটোমেশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি গবেষণা প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী মধ্যম আয়ের রাষ্ট্র, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রের মর্যাদা লাভের জন্য দক্ষ যুবশক্তির কোন বিকল্প নেই। তারুণ্যের শক্তি’কে যথাযথ ভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্যে ‘জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতিমালা ২০১১’ ও ‘জাতীয় যুব নীতিমালা ২০১৭’ এর আলোকে এটুআই তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর নানাবিধ দক্ষতা উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে অধিক কর্মক্ষম জনশক্তি তৈরি করতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশের যুব সমাজকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব উপযোগী ভবিষ্যত কর্মদক্ষতা অর্জন এবং সময়োপযোগী কর্ম পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে পাঁচটি বিশেষায়িত সেক্টর- বস্ত্র ও তৈরি পোশাক শিল্প, কৃষি ও খাদ্য, ফার্ণিচার শিল্প, ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি এবং চামড়া ও পাদুকা শিল্পের উপর চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রভাব ও ভবিষ্যত কর্মদক্ষতা বিষয়ক নিবিড় গবেষণা করেছে এটুআই। এই গবেষণায় উঠে এসেছে পাঁচটি সেক্টরে অটোমেশনের ফলে বিদ্যমান কর্মীরা চাকুরি হারাবে পাশাপাশি প্রযুক্তি ভিত্তিক নতুন নতুন পেশায় চাকুরির সুযোগ তৈরি হবে। বাংলাদেশে অটোমেশন ব্যবস্থা চালু হলে কর্মসংস্থান ও ব্যবসা খাতে কী প্রভাব পড়তে পারে নিয়ে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন আলোচকগণ। একই সঙ্গে, এই প্রভাবের বিপরীতে মানুষকে কীভাবে রি-স্কিলড ও আপ-স্কিলড করা যায় তা নিয়ে আলোকপাত করা হয়।

এটুআই-এর পলিসি অ্যাডভাইজার আনীর চৌধুরীর সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মোঃ আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) মোঃ ফারুক হোসেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক, ইউএনআইডিও-এর রিজিওনাল রিপ্রেজেন্টেটিভ ভ্যান বার্কেল রেনে, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি নিহাদ কবির এবং আইএলও এর প্রধান কারিগরি উপদেষ্টা কিশোর কুমার সিং।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউএনআইডিও-এর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইন বাংলাদেশ জাকি-উজ-জামান পিএইচডি। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

-সিনিউজভয়েস/জিডিটি/০৫আগস্ট/১৯

Please Share This Post.