চতুর্থ ব্যাচকে স্বাগত জানাল গ্রামীণফোন অ্যাক্সিলেরেটর

গত ৯ আগস্ট, জিপি হাউজে গ্রামীণফোন অ্যাক্সিলেরেটর (জিপিএ)-এর ডেমো ডে-তে মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে তৃতীয় ব্যাচকে বিদায় সম্বর্ধনা এবং একই সঙ্গে চতুর্থ ব্যাচকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়েছে।

গ্রামীণফোনের সঙ্গে চার মাসের অ্যাক্সিলেরেটর যাত্রা সফলভাবে সম্পন্ন করে তৃতীয় ব্যাচের স্টার্টআপগুলো বিনিয়োগকারীদের কাছে তাদের ব্যবসাকে উপস্থাপন করে। একই প্ল্যাটফর্মে চতুর্থ ব্যাচের নতুন পাঁচটি স্টার্টআপকে স্বাগত জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে যেয়ে তিনি স্টার্টআপদের সহায়তা করার জন্য গ্রামীণফোন ও এসডি এশিয়াকে ধন্যবাদ দেন। তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল দেশ গঠন এবং ডিজিটাল লাইফস্টাইল এর জন্য ডিজিটাল পণ্য ও সেবা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সরকার এক্ষেত্রে সহায়তা করার চেষ্টা করছে এবং আপনারাও এতে সহায়তা করছেন দেখে আমি আনন্দিত।’

প্রাথমিক পর্যায়ে তরুণ স্টার্টআপদের প্রযুক্তি বিষয়ক সহযোগিতা প্রদানের লক্ষে এসডি এশিয়ার সঙ্গে মিলে দ্য জিপি অ্যাক্সিলেরেটর প্রোগ্রামটি সাজানো হয়েছে। প্রতিটি ব্যাচের স্টার্টআপদের চার মাসব্যাপি আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিশেষজ্ঞ দ্বারা কারিকুলামভিত্তিক মেন্টশিপ প্রদান করা হয়। নির্বাচিত প্রতিটি স্টার্টআপকে সিড ফান্ড হিসেবে ১২ লাখ টাকা, প্রায় ১০০০ মার্কিন ডলার মূল্যের অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিস (এডব্লিউএস) ক্রেডিট এবং চার মাসব্যাপী জিপি হাউজে কাজ করার জন্য বিশাল জায়গা দেয়া হয়ে থাকে। একই সঙ্গে এ সময়ের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের নজরে আসা, খাত সংশ্লিষ্ট পেশাদারদের দ্বারা যাচাই-বাছাই  এবং নিজেদের প্রকল্পটি বাণিজ্যিককরণের লক্ষে সবরকম আর্থিক সহযোগিতা পাওয়ার সুযোগ পেয়ে থাকে স্টার্টআপগুলো।

এদের মধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠান আগামী সেপ্টেম্বরে টেলিনর গ্রুপ আয়োজিত ডিজিটাল উইনার এশিয়ায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে এশিয়ার অন্যান্য দেশে নিজেদের ব্যবসা বিস্তারের সুযোগ পাবে।  তৃতীয় ব্যাচের তিনটি স্টার্টআপ- জলপাই, মাইক্রোটেক ও ব্যাংককম্পেয়ারবিডি  স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী, পেশাদার প্রযুক্তিবিদ, গ্রামীণফোন ও এসডি এশিয়ার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণসহ এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্বসহ আমন্ত্রিত প্রায় ২০০জনের সামনে যার যার ব্যবসায়িক ধারণা প্রদর্শন করে।

চতুর্থ ব্যাচের স্টার্টআপরাও অতিথিদের সামনে নিজেদের পরিচিতি তুলে ধরে।  চতুর্থ ব্যাচের শীর্ষস্থানীয় স্টার্টআপগুলো হচ্ছে- অল্টারইউথ, ফুডটং,অভিযাত্রিক, মার্স এবং আমারউদ্যোগ। দেশের বিভিন্ন খাতের জটিল সমস্যা সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে এবারের প্রোগ্রামটি পরিচালনা করা হবে।

নতুন ব্যাচকে স্বাগত জানিয়ে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইকেল ফোলি বলেন, ‘নতুন বাস্তবতার সঙ্গে তাল মেলাতে আমরা আমাদের ব্যবসার জন্য একটি ইকো সিস্টেম গড়ে তুলতে চেষ্টা করছি এবং আপনাদের উদ্ভাবিত সেবাগুলো আমাদের নেটওয়ার্কে চলে এবং গ্রাহকদের নতুন চাহিদা মেটাতে সাহায্য করে।’

অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের ট্রান্সফরমেশন বিভাগের প্রধান কাজি মাহবুব হোসেন বলেন, ‘আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের সমস্যাগুলো যেভাবে স্টার্টআপগুলো সমধান করছে তা আমাকে উদ্বুদ্ধ করে। মাত্র চার মাসের এই প্রোগ্রামে স্টার্টআপগুলোর মূল্য চারগুণ বাড়ানোর এই যাত্রায় সহযোগী হতে পেরে আমরা গর্বিত।’

একটি প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে সবগুলো স্টার্টআপ নির্বাচিত হয়েছে। এবারে প্রায় ৭০০টি আবেদন জমা পড়েছে, যার মধ্য থেকে ২৫টি স্টার্টআপকে দুই দিনব্যাপী জিপি অ্যাক্সিলেরেটর বুট ক্যাম্পে ডাকা হয়। এদের মধ্যে থেকে ১১টি স্টার্টআপকে পর্যবেক্ষণ, প্রত্যক্ষ স্বাক্ষাতকার ও প্রতিযোগিতামূলক প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে কঠোর মূল্যায়ন করা হয়। অবশেষে শীর্ষ পাঁচটি স্টার্টআপ চতুর্থ ব্যাচের জন্য নির্বাচিত হয়।

নতুন ব্যাচটিকে নিয়ে জিপি অ্যাক্সিলেরেটরের প্রধান মিনহাজ আনোয়ার বেশ উচ্ছসিত। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম যখন পরিণত হচ্ছে তখন চতুর্থ ব্যাচকে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা উচ্ছসিত। এখন আরো বাস্তবমূখী ও ভিন্নধর্মী সমস্যা নিয়ে স্টার্টআপগুলো কাজ করছে যেমন শস্য রক্ষার্থে আবহাওয়ার পূর্বাভাস, শিশুদের স্কুল থেকে ঝরে পরা বন্ধ করা বা কমিউনিটি ট্যুরিজমের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রচারণা ইত্যাদি।’

বিদায়ী ব্যাচ ও নতুন ব্যাচ নিয়ে উচ্ছসিত এসডি এশিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর আর খান বলেন, ‘ডেমো ডে-তে তৃতীয় ব্যাচের অসাধারণ প্রদর্শনীর পর আমরা চতুর্থ ব্যাচকে স্বাগত জানাতে পেরে আনন্দিত। নতুন ব্যাচটি ইতিমধ্যে বেশ কিছু চমৎকার ব্যবসায়িক মডেল প্রদর্শন করেছে যেগুলো বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’

তৃতীয় ব্যাচের  ছয়টি স্টার্টআপদের সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেয়া হলো-

* ক্রাউডওয়্যার: উন্নয়নশীল দেশে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্রাউডসোর্স নেটওয়ার্কিং-এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান নিয়ে কাজ করছে ক্রাউডওয়্যার। অটোমেট বিজনেস প্রসেসের মাধ্যমে বেকার জনগোষ্ঠীদের কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে এ পদ্ধতিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

* জলপাই ইলেক্ট্রনিক্স: রান্নাঘরের গ্যাসের লাইনে কোনো ধরনের ছিদ্র থাকলে তা স্বয়ংক্রীয়ভাবে অ্যালার্মের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়ে জলপাই ইলেক্ট্রনিক্সের তৈরিকৃত প্রযুক্তি ‘স্নিফার’।

* ডাক্তারকই ডটকম: স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সহজেই ডাক্তারকই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে রোগীর চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সেবা ও তথ্য প্রদান করতে পারবে।

* ব্যাংককম্পেয়ারবিডি: দেশের বিভিন্ন ব্যাংকের সুবিধা-অসুবিধা, আর্থিক লেনদেনের হার তুলনা করে উপযুক্ত ব্যাংক থেকে সেবা নেয়ার ক্ষেত্রে সাহায্য করবে ব্যাংককম্পেয়ারবিডি।

* মাইক্রোটেক: প্রথমবারের মতো দেশে শিশুদের জন্য ইন্টারেক্টিভ প্লেবুক অ্যাপ্লিকেশন ‘বিনো’ তৈরি করেছে মাইক্রোটেক। এটি একটি অগমেন্টেড রিয়ালিটি (এআর) ভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন। খেলার ছলে শিশুরা যেনো স্বতঃফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে সে লক্ষেই অ্যাপ্লিকেশনটি তৈরি করেছে মাইক্রোটেক।

* বাড়িকই: স্মার্ট অ্যাড্রেসিং সিস্টেমের মাধ্যমে যে কোনো অবস্থান খুঁজে বের করতে হাইপার লোকাল লোকেশনভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম বাড়িকই। পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সহজেই এ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যে কোনো লোকেশনের অবস্থান খুঁজে বের করতে পারবে।

জিপি অ্যাক্সিলেরেটরে চতুর্থ ব্যাচের শীর্ষস্থানীয় পাঁচটি স্মার্টআপগুলো হচ্ছে: 

অল্টারইয়ুথ : বাংলাদেশকে ১০০% শিক্ষিতের দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সিটুসি স্কলারশীপ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে অল্টারইয়ুথ। এর মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চাইলেই যে কেউ সরাসরি স্কলারশিপ বা বৃত্তি প্রদান করতে পারবে।

মার্স : আবহাওয়ার সামগ্রিক তথ্য পর্যবেক্ষণ করে এ সম্পর্কিত উপদেশ প্রদানকারী হিসেবে মার্স উপস্থাপিত হয়েছে। সময়মতো বিস্তারিত আবহাওয়া পূর্বাভাস প্রদানের মাধ্যমে জীবন ও সম্পদ রক্ষা করে টেকশই অর্থনীতি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করবে মার্স।

ফুডটং :  হোমমেড বা বাসায় তৈরিকৃত খাবার বিক্রেতার সঙ্গে ক্রেতাকে সংযুক্ত করতে প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে ফুডটং। ফুডটং-এর অ্যাপ কিংবা ওয়েবসাইট ব্যবহার করে সাশ্রয়ী দামে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার ক্রেতাদের বাসায় পৌঁছে দিতে পারবেন বিক্রেতারা।

অভিযাত্রিক : এটি একটি অনলাইন কমিউনিটি ভিত্তিক পর্যটন বিষয়ক প্ল্যাটফর্ম। বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে দেশীয় স্থানীয় প্রশিক্ষিত অতিথিসেবকদের সঙ্গে ভ্রমণকারীদের সংযুক্ত করে থাকে অভিযাত্রিক।

আমার উদ্যোগ : ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ক্রয়-বিক্রয়, স্টক, ভ্যাট, অ্যাকাউন্টস ও সিআরএম-এর হিসাব সুক্ষ্মভাবে সম্পাদনের জন্য সহজে ব্যবহারযোগ্য একটি অ্যান্ড্রয়েডভিত্তিক সল্যুশন হচ্ছে আমারউদ্যোগ।

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক

Please Share This Post.