চট্টগ্রামে গ্রামীণফোনের ডিজিটাল উদ্যোক্তা কর্মশালা

চট্টগ্রামের তরুণদের উদ্যোক্তা মনোভাবের উন্নয়ন ও কার্যকর করে তুলতে গ্রামীণফোন ১৭ এপ্রিল মঙ্গলবার, দিনব্যাপী ‘ডিজিটাল উদ্যোক্তা কর্মশালা’ আয়োজন করে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং তরুণ উদ্যােক্তাগণ এই কর্মশালায় অংশ নেন।

বিশ্ব জুড়ে চলমান ডিজিটাল ট্র্যান্সফর্মেশন নিয়ে চট্টগ্রামে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্য গ্রামীণফোন শহরের বিভিন্ন মহলের সঙ্গে কাজ করছে এবং কর্মশালা এই প্রচেষ্টারই অংশ।

তরুণ অংশগ্রহণকারীদের ডিজিটাল ব্যবসার সম্ভাবনা এবং কিভাবে সফল ডিজিটাল উদ্যোক্তা হওয়া যায় ইত্যাদি বিষয়ে জানানো হয়। গ্রামীণফোনের ডিজিটাল টিম এবং কোম্পানির উদ্ভাবন সহায়ক প্ল্যাটফর্ম হোয়াইট বোর্ডের প্রদায়ক গণ বিভিন্ন তথ্যবহুল সেশন পরিচালনা করেন। দলবদ্ধভাবে কাজ করার পর অংশগ্রহণকারীদের চট্টগ্রামের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে তাদের ধারণা তুলে ধরার সুযোগ দেয়া হয়।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মাদ ইলিয়াস হোসেন সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জনপ্রশাসন বিভাগের অ্ধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ড. আমির মোহাম্মাদ নাসরুল্লাহ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন। গ্রামীণফোনের চিফ স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড ট্র্যান্সফর্মেশন অফিসার কাজী মাহবুব হাসান, চট্টগ্রাম সার্কেলের প্রধান শাওন আজাদ এবং হেড অফ কমিউনিকেশনস তালাত কামাল এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক বলেন, ‘একমাত্র সাহসী মানুষরাই উদ্যোক্তা হতে পারেন। সাহস ছাড়া এটা হয় না। জনপ্রশাসন কাজকে সহজ এবং আরো কার্যকর করতে সরকারের নতুন নতুন অ্যাপ্লিকেশন প্রয়োজন। তরুণদের ক্ষুদ্র উদ্যোগ এবং প্রচেষ্টা এই বিষয়ে আমাদের সাহায্য করতে পারে।’

অনুষ্ঠানে কাজী মাহবুব হাসান বলেন, ‘গ্রামীণফোন তার ডিজিটাল যাত্রার সুবিধা অর্জনে সঠিক অবস্থানে আছে, তবে এই যাত্রার সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে দেশটি উদ্ভাবক এবং উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা চায়। আমরা নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের লালন করতে চাই কারণ দেশের ডিজিটালাইজেশন সফল করতে অত্যাবশ্যকীয় ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে তারা আমাদের সহায়তা করতে পারবেন।’

কর্মশালায় অংশ নেয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নঈম উদ্দীন এই কর্মশালা আয়োজনের উদ্যোগ নেয়ায় গ্রামীণফোনের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামে সমাজকর্ম মনস্ক তরুণদের এধরণের সাহায্য খুব প্রয়োজন ছিল। চট্টগ্রামে অবশ্যই অনেক সমস্যা আছে তবে আজকের কর্মশালায় আমরা শিখেছি যে কিভাবে ডিজিটাল উদ্যােক্তা মনোভাব এবং উদ্ভাবনী পদ্ধতি ব্যবহার করে এসব সমস্যার সমাধান করতে হয়।’

গত বছর গ্রামীণফোন চট্টগ্রামের ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ, ট্রেড বডি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে ‘ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট: রোড টু এমপাওয়ারমেন্ট’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনার আয়োজন করে। তরুণ উদ্যােক্তাদের সহায়তা করতে গ্রামীণফোন ইতোমধ্যেই জিপি একসেলেরেটর ও হোয়াইটবোর্ডের মতো প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলেছে। এছাড়া কোম্পানি তরুণ নেতৃত্ব গড়ে তুলতে টেলিনর গ্রুপের সঙ্গে টেলিনর ইয়ুথ ফোরাম এবং ডিজিটাল উইনার্স এর মতো অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক

Please Share This Post.