গ্রামীণ ও রবির ব্যান্ডউইথ-ব্লক উঠিয়ে দেওয়ার নির্দেশ

গ্রামীণফোন ও রবির ব্যান্ডউইথ-ব্লক উঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে বকেয়া পাওনা পরিশোধ না করা পর্যন্ত মোবাইল কোম্পানি গ্রামীণ ও রবি ভবিষ্যতে যন্ত্রাংশ কেনায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) থেকে ছাড়পত্র (এনওসি) পাবে না। পাশাপাশি এই দুই কোম্পানি গ্রাহক ধরে রাখতে নতুন প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারবে না।
কোম্পানি দুটির ওপর বিদ্যমান ব্যান্ডউইথ-ব্লক তুলে নিয়ে নতুন ওই শর্ত আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিটিআরসি। শিগগিরই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। উল্লেখ্য, গ্রামীণ ও রবি এই দুই অপারেটরের কাছে ১৩ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে বিটিআরসির। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের কাছে ১২ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। আর রবির কাছে পাওনা প্রায় ৮৬৭ কোটি টাকা।
নিরীক্ষা আপত্তি হিসেবে এ টাকা দাবি করে বিটিআরসি। অবশ্য দুই অপারেটরই এই পাওনা নিয়ে দ্বিমত পোষণ করে আসছে। এর আগে একাধিকবার পাওনা আদায়ে দুই অপারেটরকেই চিঠি দিয়েছে বিটিআরসি। গত এপ্রিলে জাতীয় সংসদে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এই পাওনার হিসাব তুলে ধরেন। গতকাল বুধবার রাজধানীর রমনায় বিটিআরসির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক এসব তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন সংস্থাটির মিডিয়া ও কমিউনিকেশন কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন।
এ সময় সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিটিআরসির চেয়ারম্যান বলেন, তেরো দিন আগে বকেয়া টাকা পরিশোধে গড়িমসি করায় ব্যান্ডউইথ কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গ্রাহকদের ভোগান্ত্রির কথা বিবেচনা করে অপারেটর দুটির ব্যান্ডউইথ-বল্ক প্রত্যাহার হয়ে যাবে। তাহলে টাকা কীভাবে আদায় হবে? আমাদের আইনে যা আছে, তা আমরা প্রয়োগ করব, সেভাবে টাকা আদায় করা হবে। এটুকু সিদ্ধান্ত হয়েছে। টাকাটা পাবলিক ডিমান্ড। রাষ্ট্রীয় টাকা। এই টাকা মাফ করার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি আরো বলেন, এই টাকা দুই কোম্পানির না দেওয়ার সুযোগ নেই, তেমনি বিটিআরসিরও না নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নতুন শর্তারোপ হিসেবে অপারেটর দুটির এনওসি ইস্যু করা আমরা বন্ধ করে দেব। প্রসঙ্গত, সরকারকে বকেয়া অর্থ পরিশোধ না করায় গত ৪ জুলাই গ্রামীণফোন ও রবির ব্যান্ডইউথ কমিয়ে দেয় বিটিআরসি। গ্রামীণফোনের ৩০ ভাগ এবং রবির ১৫ ভাগ ব্যান্ডউইথ কমিয়ে দিতে ওই দিনই কয়েকটি আইআইজিকে (ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে) নির্দেশনা পাঠায় বিটিআরসি। এই নির্দেশনা কার্যকরের পর থেকে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা বড় ধরনের সমস্যায় পড়েন। বিভিন্ন ধরনের যোগাযোগ অ্যাপ ব্যবহারে সমস্যা হচ্ছিল গ্রাহকদের। বাফারিং ছাড়া ইউটিউব দেখা যাচ্ছিল না।
অন্যদিকে কল ড্রপের সংখ্যাও বেড়ে যায়। এ কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোয় বইতে থাকে সমালোচনার ঝড়। এদিকে, গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। মন্ত্রী, বিটিআরসির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে অপারেটর দুটির ব্যান্ডউইথ থেকে ব্লক তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় বলে জানা গেছে। ওই বৈঠকের এক দিন পরই বিটিআরসি সংবাদ সম্মেলন করে ব্যান্ডউইথ থেকে ব্লক তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। তবে বকেয়া আদায় না হওয়া পর্যন্ত অপারেটর দুটিকে এনওসি দেওয়া হবে না বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। পাওনা আদায়ে বিটিআরসি আরো কৌশল অবলম্বন করবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
-সিনিউজভয়েসডেক্স/১৮জুলাই/১৯
Please Share This Post.