গ্রামীণফোনে ১৩ মাসে ১০৩ কোটি কলড্রপ

মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনে ১৩ মাসে ১০৩ কোটি ৪৩ লাখ কলড্রপ হয়েছে। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর হতে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কলড্রপের এ ঘটনা ঘটে। একই সময়ে রবির কলড্রপ ৭৬ কোটি ১৮ লাখ, বাংলালিংকের ৩৬ কোটি ৫৪ লাখ আর টেলিটকের আনুমানিক ৬ কোটি।

সোমবার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গ্রামীণফোনের কলড্রপ নিয়ে সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ প্রকাশের একদিন পরেই প্রতিবেদন প্রকাশ করল বিটিআরসি।

বিটিআরসির নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি কলড্রপের জন্য গ্রাহককে ১ মিনিট টকটাইম ফেরত দেয়ার কথা। তবে অপারেটরগুলো সে নিয়ম মানছে না। গ্রামীণফোনের ১০৩ কোটি ৪৩ লাখ বার কলড্রপ হলেও গ্রাহকরা রিটার্ন কল মিনিট ফেরত পেয়েছে মাত্র ১০ কোটি ৩০ লাখ। আর রবির কলড্রপ ৭৬ কোটি ১৮ লাখ বার হলেও গ্রাহকরা রিটার্ন কল মিনিট ফেরত পেয়েছেন ৬ কোটি ৮২ লাখ মিনিট। আর বাংলালিংক গ্রাহকরা ফেরত পেয়েছেন ৪ কোটি ৯৪ লাখ মিনিট।

কলড্রপের কারণে গ্রাহকের গ্রাপ্য ৪৭ দশমিক ৩২ কোটি মিনিট টকটাইম ফেরত দেয়নি জিপি, রবি ও বাংলালিংক। বিটিআরসির নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিদিন একজন গ্রাহকের একটির বেশি কলড্রপের প্রতিটিতে এক মিনিট করে টকটাইম ফেরত দিতে হবে। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর হতে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রামীণফোনের একের অধিক কলড্রপ হয়েছে ২৭ কোটি ৭৭ লাখ। এরমধ্যে অপারেটরটি ফেরত দিয়েছে ১০ কোটি ৩০ লাখ মিনিট। তারা ১৭ দশমিক ৪৭ কোটি মিনিটই ফেরত দেয়নি গ্রাহককে।

রবির একের অধিক কলড্রপ ২৪ কোটি ৪৭ লাখ। এরমধ্যে ৬ কোটি ৮২ লাখ ফেরত দিয়েছে তারা। বাকি ১৭ দশমিক ৬৫ কোটি মিনিট ফেরত দেয়নি অপারেটরটি। বাংলালিংকের একাধিক কলড্রপ ১৭ কোটি ১৪ লাখ। তারা ফেরত দিয়েছে ৪ কোটি ৯৪ লাখ মিনিট। ১২ দশমিক ২ কোটি মিনিটই ফেরত দেয়নি অপারেটরটি। সরকারি মোবাইল অপারেটর টেলিটকের একের অধিক কলড্রপ নেই। মোবাইল ফোন অপারেটরদের প্রকৃত কলড্রপের অবস্থা এবং এ সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা চেয়েছে বিটিআরসি। জাতীয় সংসদ অধিবেশনে একটি মোবাইল ফোন অপারেটরের বিরুদ্ধে কলড্রপ নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বক্তব্যের একদিন পর এ ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। রোববার সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে বাণিজ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গ্রামীণফোন ব্যবসার জন্য কলড্রপ করে। একটা কলে ৪ থেকে ৫ বার ড্রপ হয়, এটা বাস্তবসম্মত না। এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে। অনেক সময় দেখা যায় একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলছি হঠাৎ কলড্রপ। এছাড়া আমাদের রোমিং করা সিম দেখা যায় বিদেশে একটা ফোন করলে হঠাৎ কলড্রপ। বিষয়টি গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষসহ ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারকে দেখার জন্য অনুরোধ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। পরদিনই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়ে অপারেটরদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি।

বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের পরিচালক গোলাম রাজ্জাক স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি মোবাইল অপারেটরদের কলড্রপ সংক্রান্ত অভিযোগ অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদেও আলোচনা হয়েছে। দিন দিন টেলিযোগাযোগ সেবার মান নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সেবার মাননিয়ন্ত্রণ বর্তমানে বিটিআরসির একটি অগ্রাধিকারযোগ্য কার্যক্রম। বিটিআরসি ইতোমধ্যে ড্রাইভ টেস্টের মাধ্যমে বিভিন্ন অপারেটরের সেবার মান নিয়মিত পরিমাপ করছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, গ্রাহক স্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কলড্রপের পরিমাণ বিটিআরসি কর্তৃক নির্ধারিত সীমার (২ শতাংশ) মধ্যে থাকা আবশ্যক। অপারেটরের দাখিল করা মাসিক রিপোর্টে তাদের কলড্রপ নির্ধারিত সীমার মধ্যেই আছে দাবি করলেও সম্প্রতি এ বিষয়ে গ্রাহক পর্যায়ে অনেক অভিযোগ আছে। এছাড়াও কোনো কোনো অপারেটরের নেটওয়ার্কে একটি কলে ৪ থেকে ৫ বার কলড্রপ হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এমতাবস্থায়, এ সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে বিটিআরসিতে পাঠাতে হবে।

সিনিউজভয়েস//ডেস্ক/

Please Share This Post.