গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় রূপসা নদীতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা

২৯ অক্টোবর শিল্প ও বন্দর নগরী খুলনার তীর ঘেঁষে বহমান কিংবদন্তি রূপসা নদীতে প্রতিবারের ন্যায় নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ছে।

নগর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের আয়োজনে এবং গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় ও খুলনা জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে লক্ষাধিক দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে এই ১১ম নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। গ্রামীণফোন তৃতীয়বারের মতো এই নৌকা বাইচ আয়োজনে সহায়তা দিল।

এই প্রতিযোগিতাটি ইতোমধ্যেই রূপ নিয়েছে এ অঞ্চলের মানুষের আনন্দ উৎসবের অন্যতম মিলন মেলায়। আর সে কারণেই এটি অতিক্রম করল পর পর ১১টি বছর। সকালে এই আয়োজনকে ঘিরে নগরিতে আয়োজন করা হয় একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি। পরবর্তীতে দুপুর ২ টায় ১ নং কাস্টম ঘাটে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বাইচ প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে ৫ টা ৩০ মিনিটে শেষ হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার নিবাস চন্দ্র মাঝি, জেলা পরিষদ প্রশাসক শেখ হারুনুর রশীদ, খুলনা জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান, এডিশনাল ডি আই জি হাবিবুর রহমান, এবং ডি সি (দক্ষিণ) মোল্লা জাহাঙ্গীর হোসেন, খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির মহাসচিব শেখ মোশাররফ হোসেন।

নগর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র থেকে উপস্থিত ছিলেন এর সভাপতি মোল্লা মারুফ রশীদ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনিরুজ্জামান রহিম, প্রধান উপদেষ্টা শেখ আশরাফ-উজ-জামান সহ অন্যান্যরা। গ্রামীণফোন থেকে উপস্থিত ছিলেন খুলনা সার্কেল হেড মোল্লা নাফিজ ইমতিয়াজ, খুলনা রিজিওনাল হেড (সেলস) এ এম সাজ্জাদ হোসেন, খুলনা সার্কেল হেড অব মার্কেটিং পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য এবং অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আলহাজ্জ্ব মিজানুর রহমান মিজান বলেন, ‘বাংলাদেশের বিলুপ্তপ্রায় সংস্কৃতি নৌকা বাইচকে বাঁচিয়ে রাখা জন্য খুলনাবাসীরা কাজ করে যাচ্ছে। এটা অবশ্যই প্রশংসনীয়। আর এই চেষ্টাকে নগর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং গ্রামীণফোন যে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সেজন্য তাদের আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’

অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোন খুলনা রিজিওনাল হেড (সেলস) এ এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘গ্রামীণফোন সবসময়ই বাংলাদেশের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের পৃষ্ঠপোষক। গ্রামীণফোন মনে করে যে একটি দেশের উন্নয়নে সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের বিরাট ভূমিকা আছে। বাংলাদেশের উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে গ্রামীণফোন তাই সব সময় এ ধরনের অনুষ্ঠানে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।’

মূল আয়োজক, নগর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সভাপতি মোল্লা মারুফ রশিদ বলেন, ‘নদী বাঁচলে দেশ বাঁচবে-এই স্লোগান নিয়ে আমরা র্দীঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছি। তাই এর সাথে সম্পৃক্ত আবহমান বাংলার ঐতিহ্য নৌকা বাইচ আমরা আয়োজন করছি আজ ১১ বছর। আমাদরে এই আয়োজনে খুলনাবাসীর এই বিপুল সাড়া আমাদরে অনুপ্রাণিত করে প্রতিবার।’

এবারের প্রতিযোগিতায় কয়রা, পাইকগাছা, তেরখাদা, কালিয়া, নড়াইল, গোপালগঞ্জ, মাদারিপুর ও ফরিদপুর থেকে মোট ২৮ টি বাইচ দল অংশগ্রহণ করে। নৌকার মাপভেদে বাইচকে দুইটি গ্রুপে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে বড় দল ছিল ১৯ টি আর ছোট দল নয়টি।

প্রতিযোগিতায় প্রধান বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. বেলাল হোসেন, ইউএনও, বটিয়াঘাটা, খুলনা। অন্যান্য বিচারকবৃন্দের মধ্যে ছিলেন সাবেক ক্রিকেটার মঈনুল ইসলাম শিমুল, নাগরিক ফোরামের যুগ্ম মহাসচিব মিনা আজিজুর রহমান, খুলনা উন্নয়ন কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক শিকদার আব্দুল খালেক এবং ডাঃ রেজাউল করিম। সহযোগী হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ বেতার (খুলনা) এর পরিচালক বশির আহমেদ, কে সি সি’র শিক্ষা অফিসার এস কে এম তাছাদুজ্জামান এবং এডঃ শফিউল আলম সুজন।

বড় দলের প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে এক লাখ টাকা জিতে নেয় কয়রা, খুলনার সুন্দরবন টাইগার। পুরষ্কার প্রথম রানার আপ হিসেবে ৬০ হাজার টাকা পান তেরখাদা, খুলনার ভাই ভাই জলপরী। আর দ্বিতীয় রানার আপ পুরস্কার ৩০ হাজার টাকা পান তেরখাদা, খুলনার আল্লাহ ভরসা।

ছোট গ্রুপে প্রথম হয়ে ৫০ হাজার টাকা পুরষ্কার পান কয়রার সোনার তরী । দ্বিতীয় বিজয়ী দল সাতক্ষীরার তালা’র জয় মা কালী পান ৩০ হাজার টাকা। আর তৃতীয় স্থান অধিকারী দল পাইকগাছা, খুলনার জয় মা (ঐশ্বর্য) পান ২০ হাজার টাকা।

সন্ধ্যায় রূপসা ঘাটে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয় এবং পরবর্তীতে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত শিল্পী কর্নিয়া, খুলনার ক্ষুদে গানরাজ শিল্পী রাতুল ও স্থানীয় অন্যান্য শিল্পীদের অংশগ্রহণে সংগীত পরিবেশন করা হয়।

পুরো আয়োজনটি খুলনা সিটি কর্পোরেশন, খুলনা জেলা প্রশাসন, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ, র‌্যাব, নৌ পুলিশ, বাংলাদেশ নৌ বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বন বিভাগ, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, আনসার ও ভিডিপি, বিআইডব্লিউটিএ, সড়ক ও জনপদ বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি, রূপসা সেতু কর্তৃপক্ষ ও ট্রলার মালিক সমিতির তত্ত্বাবধানে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা হয়। এ ব্যাপারে নগর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং গ্রামীণফোন উক্ত প্রতিষ্ঠান এবং এর কর্মকর্তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞ্যাপন করে।

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক

Please Share This Post.