গ্রাহক নেই সিটিসেলের, তারপরও ফোরজি


মার্চের মধ্যেই জনগণের কাছে ফোরজি সেবা পৌঁছে দেয়া যাবে বলে জানিয়েছেন বিটিআরসি।

ফোরজি লাইসেন্সের জন্য সিটিসেল, গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি এবং টেলিটক আবেদন করেছে। যদ্ওি ফোরজির লাইসেন্স নেয়া নিয়ে কোন চমক নেই। তবে ধরা হচ্ছে সিটিসেল ফোরজির চমক।

বিটিআরসি থেকে বলা হয়েছে, সিটিসেল শেষ পর্যন্ত যদি লড়াইয়ে থেকে যায় তাহলেই স্পেকট্রামের নিলামে প্রতিযোগিতা হবে।

এছাড়া অবশ্য লাইসেন্স পাওয়ার জন্যে কোনো প্রতিযোগিতা নেই। রাষ্ট্রায়ত্ত্ব অপারেটর টেলিটকসহ যে চারটি অপারেটর এখন থ্রিজি সেবা দিচ্ছে তারা প্রত্যেকেই ফোরজির লাইসেন্স পাবে যদি তাদের আবেদন এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ঠিক থাকে।

তবে ফোরজির জন্যে সিটিসেলকে নতুন অপারেটর হিসেবে ধরা হবে। আর সে কারণে সিটিসেল কোনো স্পেকট্রাম কিনলেই কেবল তাকে ফোরজির লাইসেন্স দেওয়া হবে।

সিটিসেল ব্যতীত বাকি অপারেটরগুলোর ফোরজি পেতে তেমন সমস্যা হবে না। সন্দেহ রয়েছে শুধু সিটিসেল নিয়ে। যে সিটিসেল বকেয়া পরিশোধ না করায় বাংলাদেশের প্রথম মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেলের কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল। সে সিটিসেল পারবে কি এত অর্থ দিয়ে ফোরজি নিতে এমনটাই প্রশ্ন এখন অনেকের। বা নিলেও গ্রাহক শূন্য হয়ে পরা সিটিসেল কি লাভবান হতে পারবে। প্রশ্ন উঠার পিছনে কিছু কারণও রয়েছে, প্রায় গ্রাহক শূন্য সিটিসেল। কিছু গ্রাহক থাকলে বন্ধ ঝামেলা হওয়ায় গ্রাহক হারাতে হয় সিটিসেলকে।

ফোরজি অনুমোদিত নীতিমালায় বলা হয়, ফোরজির আবেদন করে নির্দিষ্ট অর্থ জমা দিয়ে লাইসেন্স নেয়া যাবে। অপারেটরদের আবেদন ফি হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে। লাইসেন্স পেতে দিতে হবে ১০ কোটি টাকা। আর বার্ষিক নবায়ন ফি হবে ৫ কোটি টাকা। এ লাইসেন্স নিতে অপারেটরদের ১৫০ কোটি টাকা ব্যাংক গ্যারান্টিও দিতে হবে।

লাইসেন্স নবায়ন ও বেতার তরঙ্গ ফি বকেয়ার জেরে সংকটে পরে বন্ধ হয়ে যায় দেশের প্রথম মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেল। গ্রাহকশূন্য হয়ে পড়লেও এবার চতুর্থ প্রজন্মের ফোরজি প্রযুক্তি ‘এলটিই’ লাইসেন্স নিতে আবেদন করেছে সিটিসেল।

সূত্রমতে, ২০১৬ সালের জুলাইয়ে সিটিসেলের গ্রাহক ছিল ছয় লাখ ৬৮ হাজার। প্রযুক্তিগত দুর্বলতা, তীব্র প্রতিযোগিতা আর বকেয়া ইস্যুতে যেকোনো সময় বন্ধের ঝুঁকির কারণে আগস্ট পর্যন্ত এক মাসে প্রায় পাঁচ লাখ গ্রাহক হারায় প্রতিষ্ঠানটি। আগস্ট শেষে সিটিসেলের গ্রাহকসংখ্যা এক লাখ ৪২ হাজারে দাঁড়ায়। তবে আগস্টের শেষ দিনে বিটিআরসির বন্ধে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর গ্রাহক কমতে শুরু করে। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে গ্রাহক সংকটে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। আর সে বছর সেপ্টেম্বরে সেলফোন গ্রাহকশূন্য হয়ে পড়ে সিটিসেলের।

যদিও কোম্পানির সিডিএম প্রযুক্তি চতুর্থ প্রজম্মের ‘এলটিই’ প্রযুক্তির কাছাকাছি। ফলে ফোরজি সেবা দিতে সিটিসেলের বিনিয়োগ খুব বেশি করতে হবে না। এজন্য সিটিসেল ফোরজি লাইসেন্স পেতে আগ্রহী বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা মনে করছেন,  সিটিসেলের ফোরজি লাইসেন্স পেলেও কোন কাজে আসবে না। কারণ তাদের কোন গ্রাহক নেয়। তাহলে ফোরজি নিয়ে কি ক্ষতির মুখে পারতে হবে সিটিসেলকে! নাকি তারা ফোরজি দিয়ে ঘুড়ে দাঁড়াবে। সময়ই বলে দিবে।

সিনিউজভয়েস//ডেস্ক/


Please Share This Post.