গেম জ্যাম: বিশ্ব দেখবে বাংলার সম্ভাবনা

ইন্টারনেট বা ডিজিটাল ডিভাইস ভিত্তিক গেমস বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। তবে এই বিস্তারের পেছনে মোবাইল ডিভাইসের অবদানই বেশি। এখন আমাদের দেশেও গভীর মনোযোগে মোবাইলে গেমস খেলতে দেখা যায় কিশোর কিশোরী থেকে নানা বয়সের মানুষকে। বয়স ভেদে তাদের পছন্দের গেমসও হয় ভিন্ন ভিন্ন।

তবে দেশীয় পটভূমিকায় তৈরি গেমসের অভাবে তাদের বিদেশী গেমসই বেছে নিতে হয়। যদিও আমাদের দেশেও গেম তৈরি সম্ভব আর ইতোমধ্যে বেশ কিছু জনপ্রিয় গেমসও তৈরি হয়েছে।

আর গেমিং শুধু বিনোদনের উৎসই না। এটি বাণিজ্যিকভাবেও লাভজনক। ২০১৬ সালে গেমের বৈশ্বিক গেমের বাজার ৯১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছায়। আর এ বাজার দিনে দিনে বড়ই হচ্ছে।

আমাদের জন্য আনন্দের খবর হচ্ছে, আমাদের এখানেও সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে মোবাইল গেম নিয়ে। সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সহায়তায় বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো বিশ্বমানের মোবাইল গেম তৈরিতে ‘গেম জ্যাম’ প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন করেছে গ্রামীণফোনের হোয়াইট-বোর্ড।

দেশের সর্ববৃহৎ এ মোবাইল গেম তৈরির প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আগ্রহীদের আবেদন গ্রহণ শুরু হয় গত ২৩ মার্চ। অসংখ্য আবেদন পত্রের মধ্যে থেকে ২৫টি দলকে মূল প্রতিযোগিতার জন্য মনোনীত করা হয়। মনোনীত এ ২৫টি দলকে নিয়ে ২৯ এপ্রিল দিনব্যাপী বুট ক্যাম্পের আয়োজন করে হোয়াইট-বোর্ড।
বুটক্যাম্পে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে বিভিন্ন সেশন নেন বিশেষজ্ঞরা। এদের মধ্যে ছিলেন গেমওভার স্টুডিওর প্রধান নির্বাহী ও প্রতিষ্ঠাতা জামিলুর রশিদ এবং পোর্টব্লিসের প্রধান নির্বাহী মাশা মুস্তাকিম। দিনব্যাপী এ বুট ক্যাম্পের বিভিন্ন সেশনে অংশ নেয় দেশের নানা বিশ্ববিদ্যালয়, গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি বিষয়ক নানা প্রতিষ্ঠান থেকে ১শ’ ৫০ জন অংশগ্রহণকারী।

এই বুট ক্যাম্পের মূল লক্ষ্য ছিল অংশ গ্রহণকারী গেম ডেভেলপারদের আধুনিক গেমিং সম্পর্কে ধারণা দেয়া যাতে তারা তীব্র প্রতিযোগিতাময় গেমের বাজারের উপযোগী গেম তৈরির একটি রূপরেখা পায়।
প্রাথমিকভাবে মনোনীত ২৫টি দল ‘গেম জ্যাম’-এ ৪৮ ঘণ্টাব্যাপী একে অপরের সঙ্গে লড়াই করবে শীর্ষ তিনে পৌঁছানোর জন্য।

চলতি বছরের জুলাই মাসের মধ্যে অ্যাপ স্টোরের জন্য পূর্ণাঙ্গ গেম তৈরি করে ফেলতে হবে বিজয়ী দলগুলোকে, যেগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করবে গ্রামীণফোন। শীর্ষ তিন বিজয়ী দলগুলো যাতে বিশ্বব্যাপী গেমারদের চাহিদা অনুযায়ী গেম তৈরি করতে পারে এজন্য তারা পাবে সবরকম আর্থিক এবং প্রযুক্তি বিষেশজ্ঞদের সহযোগিতা।

এ নিয়ে হোয়াইট বোর্ডের সৈয়দ আশিকুর রহমান বলেন, ‘গেম জ্যাম’র মতো একটা আয়োজনের পৃষ্ঠপোষকতা করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত এবং একইসাথে গর্বিত। আমরা দেশের মোবাইল গেম ইন্ডাস্ট্রিকে পরবর্তী স্তরে নিয়ে যেতে চাই। এক্ষেত্রে, র আমাদের অনেক মেধাবী গেমাররা রয়েছে যারা সুযোগ পেলে বিশ্বমানের মোবাইল গেম তৈরি করতে পারবে। তাদের সে যোগ্যতা ও সামর্থ রয়েছে। হোয়াইট বোর্ড তাদের জন্য সে প্ল্যাটফর্মটাই তৈরি করে দিতে চায়।’

‘গেম জ্যাম’ আয়োজনে গ্রামীণফোনের হোয়াইট-বোর্ডের পাশাপাশি, অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে এমল্যাব, স্যামসাং, অপেরা, ওয়াওবক্স ও অ্যাপনোমেট্রি।

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক