খুলনায় ই-কমার্স ডাক মেলায় ব্যবসায়ের নতুন দ্বার উন্মোচন

মোবাইলে অ্যাপ ডাউনলোড করেই যে এক লিটার তেল পাওয়া যাবে, এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না- বলছিলেন, নগরীর প্রধান ডাকঘরে (বয়রা) অনুষ্ঠিত জাতীয় ই-কমার্স মেলায় আসা ষাটোর্ধ্ব অবসর প্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা রাশেদ রায়হান। একটু ঢোক গিলে আরও বললেন, আরে সকাল সকাল এসে ভালোই হইছে। আমার ডায়াবেটিস সুগারও মেপে দিয়েছে। উসখুস করতে থাকা রাশেদ রায়হানের সঙ্গী নাতি জেলা স্কুল শিক্ষার্থী রাকিব রায়হান হাতে একটি কাগজ দেখিয়ে জানালো আমিও একটি গিফট ভাউচার পাইছি।

শহর-গ্রাম-নগরের দূরত্ব ঘুচে দেয়ার অভিপ্রায়ে চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটের পর শনিবার সকালে দেশের দ্বিতীয় বন্দর নগরী খুলনায় প্রথমবারের মতো নোঙর করে জাতীয় ই-কমার্স মেলা।

সকালে ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ডাক বিভাগের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত মহাপরিচালক সুশান্ত কুমার মন্ডল। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান অধ্যাপক মমতাজ বেগম, ই-ক্যাব সাধারণ সম্পাদক মো: আবদুল ওয়াহেদ তমাল, খুলনা জিপিও এর পরিচালক আবু তালেব ও মেলার আহ্ববায়ক আসিফ আহনাফ এবং সঞ্চালক জাহাঙ্গীর আলম শোভন ।

মেলা প্রাঙ্গণে শুরু থেকেই দর্শনার্থীদের ফ্রি ডায়াবেটিকস চেকআপ করে দিনরাত্রি। এর ফলে তরুণদের পাশাপাশি বয়সীরাও লাইন ধরে হাজির হন মেলা প্রাঙ্গণ বয়রায়।

অ্যাপ ডাউনলোড করে ১০০ টাকার শপিং ভাউচার এবং খুলনার মধ্যে ফ্রি হোম ডেলিভারি সুবিধা নিতে ঘরের কাজ চুকিয়ে দুপুরের দিকে অনেক গৃহিনীকেই দেখা যায় প্রিয়শপ স্টলের সামন জটলা করতে। অনেক মহিলাকেই দেখা গেছে সোনার নাকফুল জিততে লেইসফিতা.কম স্টলে। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্যাশ ডিসকাউন্ট সুবিধা নিতে সিঙ্গারের স্টল থেকে সেলাইমেশিন, ফ্যান কিনতেও দেখা গেছে অনেককে।

প্রতি ঘণ্টায় ২টি করে বই উপহার ও ৩০% মূল্য ছাড় সুবিধা পেতে দিনভর রকমারি.কম এর স্টল ছিলো স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের ভিড়ে ঠাসা। আবার ২০% ছাড়ে ‘খাস ফুড’ থেকে খাবার কিনতেও দেখা গেছে কাউকে কাউকে।

মেলায় ওয়ান টাইম ওটিসি চার্জে ৫০% ছাড় দেয় এসএসএল কমার্জ। ডোমেইন ও হোস্টিংয়ে ৫০০ এমবি থেকে ২জিবি এবং ইজিয়ার অ্যাপে ৫০০ থেকে ২০০০ টাকা ছাড় দেয় রেজিস্ট্রো। গ্রাফিক্স নকশা, ওয়েব তৈরির ফ্রি প্রশিক্ষণ দেয় ক্রিয়েটিভ আইটি।

এভাবেই দিনব্যাপী স্থায়ী মেলাটি কেবল নগরীর প্রযুক্তি প্রেমী তরুণই নন, ভীড় জমান প্রযুক্তির সঙ্গে খুব একটা সংযোগ নেই এমন বয়সী মানুষও। মেলার নানা আয়োজন উৎসুক দর্শনার্থীদের সামনে খুলে দিয়েছে ডিজিটাল বাংলার নতুন রূপ।

সন্ধ্যা পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গনের ২টি প্যাভিলিয়ন ও ৩টি মিনি প্যাভিলিয়নসহ ৩১ স্টলে দর্শনার্থীদের সমাগমে মুখরিত ছিলো। উদ্যোক্তা আর বিনিয়োগকারীদের সতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত ছিলো মেলা উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারও।

অনলাইন বা ই শপে পণ্য সেবা প্রদর্শনের পাশাপাশি চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রেক্ষাপটে এই সময়ের গ্লোবল ভিলেজের ব্যবসায়ের ডিজিটাল রুাপন্তরে আমাদের প্রস্তুতির বিষয়ে নানা দিক নির্দেশনা উঠে আসে সেমিনারে অংশগ্রহণকারী বক্তাদের কণ্ঠে।

সকাল সাড়ে ১১টায়হবে ‘গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে ই-কমার্স’, ‘নারী উদ্যোক্তাদের ই-কমার্স সেবায় তথ্যআপা’ দুপুর ১২:০০ টায় এবং বিকেল৩টায় অনুষ্ঠিত হবে ‘প্রফেশনাল আইটি স্কীলড ক্যরিয়ার’ শীর্ষক সেমিনার।

এটুআই এর আয়োজেনে সাড়ে ১১টায় ‘গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে ই-কমার্স’ সেমিনারে প্রধান আলোচক ছিলেন জনাব, শাহরিয়ার হাসান জিসান, জাতীয় পরামর্শদাতা, ই-কমার্স, ডিজিটাল অ্যাক্সেস টিম, এটুআই । অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ই-ক্যাব সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াহেদ তমাল।

দুপুরে আয়োজিত ‘নারী উদ্যোক্তাদের ই-কমার্স সেবায় তথ্যআপা শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচক ছিলেন জনাব সাইফুল ইসলাম, ওয়েব অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, তথ্য আপা প্রকল্প( ২য় পর্যায় )। ই-কমার্স সেবায় তথ্যআপার নানা দিক উপস্থাপন করার পাশাপাশি আলোচনায় নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ই-কমার্স বিষয়ক আলোচনা করেন ই-ক্যাব সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াহেদ তমাল, ই-ক্যাব উপদেষ্টা অধ্যাপক মমতাজ বেগম এবং বাংলাদেশ ডাক বিভাগের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত মহা পরিচালক সুশান্ত কুমার মণ্ডল ।

সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রেফেল ড্র বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে শেষ হয় খুলনাতে দিনব্যাপী বিভাগী পর্যায়ের ই-কমার্স মেলা।

 

সিনিউজভয়েস/জিডিটি/২১এপি/১৯

Please Share This Post.