কয়েকটি অতি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সফটঅয়্যার

কম্পিউটিং-এর ক্ষেত্রে একটি বিষয়ে সব সময়ই জোর দেয়া হয়, আর তা হচ্ছে নিরাপত্তা। এ কারণে বাজারে এমন অনেক সিকিউরিটি সফটঅয়্যার পাওয়া যায় যাদের কাজ হচ্ছে নতুন নতুন সব বিপদ থেকে আপনার কম্পিউটারকে নিরাপদ রাখা। নিচে যে অ্যাপ্লিকেশনগুলোর কথা আলোচনা করা হল সেগুলো ক্রমশ নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকা আপনার কম্পিউটার তথা আপনাকে রাখবে অনেকটাই সুরক্ষিত। আসুন জেনে নেয়া যাক এগুলো সম্বন্ধে
১। বিটলকার (BitLocker) প্রাত্যহিক ব্যবহারের জন্য সব সেরা সিকিউরিটি অ্যাপ্লিকেশনগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে বিটলকার। উইন্ডোজ ৭ এবং উইন্ডোজ ভিস্তা এন্টারপ্রাইজ ও আল্টিমেট এডিশনের সঙ্গে ফ্রি দেয়া এই বিটলকার এক্সটার্নার হার্ড ড্রাইভ এবং ইউএসবি থাম্বড্রাইভের সঙ্গে দ্রুত এবং ঝামেলামুক্তভাবে এনক্রিপশন যুক্ত করার সুযোগ করে দেয়। এসব ড্রাইভকে কোথাও পাঠানোর সময় বা দীর্ঘ সময়ের মধ্যে এগুলোকে সংরক্ষণ করে রাখার সময় আপনি বিটলকারের সাহায্যে এগুলোকে লক করে রাখতে পারেন।

২। কর্পোরেশন সিক্রেট ১২৩ (Secret 123) নিরাপত্তা ক্ষেত্রে অন্যতম বড় সমস্যা হচ্ছে অসঙ্কেতায়িত বা আনএনক্রিপ্টেড ইমেইল। প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা অনেক সময় কোনোরকম এনক্রিপশনের ধার না ধেরে ইমেইলে স্পর্শকাতর বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক উপাত্ত পাঠিয়ে দেয় এবং এর ফলে হ্যাকারদের পক্ষে তথ্য চুরি করা খুব সহজ হয়ে যায়। সিক্রেট ১২৩ একটি ফ্রি আউটলুক প্লাগইন যার সাহায্যে আউটগোয়িং ইমেইলে এনক্রিপশন সংযুক্ত করা যায়। এর প্রধান সুবিধা হচ্ছে ব্যবহার সহজতা।
৩। ইনভিন্সিয়া ব্রাউজার প্রটেকশন (Invincea Browser Protection) এটি হচ্ছে সর্বপ্রথম ওয়েব ব্রাউজার যেটি ভার্চুয়াল এনভায়রনমেন্টে চলে। ক্রমাগত সফটঅয়্যার আপডেটের যে বিপদ তা থেকে ইনভিন্সিয়া পুরোপুরি মুক্ত, এটি অনেকটা ঠগধিৎব-কে আপনার ভার্চুয়াল অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে ব্যবহার করার মত, তবে পার্থক্যটা হল, এটিকে ব্যবহার করা হবে কেবলমাত্র ওয়েব ব্রাউজিং করার জন্য। এর মূল সুবিধা হচ্ছে, আপনার কম্পিউটারকে যখনই কোনো ভাইরাস বা ম্যালঅয়্যার আক্রমণ করবে, আপনার মূল অপারেটিং সিস্টেম থাকবে পুরোপুরি সুরক্ষিত। ইনভিন্সিয়া ম্যালঅয়্যার এবং ভাইরাস-সদৃশ আচরণকে মনিটর করে, সম্ভাব্য আক্রমণ সম্বন্ধে হুঁশিয়ারী দেয় এবং আক্রমণগুলোকে ঠেকিয়ে দেয়।
৪। ট্র্যাক অ্যান্ড প্রটেক্ট (Track and Protect) আপনার অতি প্রিয় দামী মোবাইল ফোনটি যদি হারিয়ে যায় তাহলে মনটা খারাপ হওয়াই স্বাভাবিক। সব মোবাইল ফোনের জন্য না হলেও সিমবিয়ান এবং অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমে চালিত মোবাইল ফোনের নিরাপত্তার জন্য দরকারি সফটঅয়্যার হচ্ছে ট্র্যাক অ্যান্ড প্রটেক্ট। এটির সাহায্যে আপনি আপনার ফোনে দূরবর্তী স্থান থেকে কমান্ড পাঠাতে পারবেন। এসব কমান্ডের মধ্যে রযেছে ছবি তোলা, বর্তমান লোকেশন বের করা, অডিও শোনা ইত্যাদি। অর্থাৎ, আপনার ফোন যদি চুরি হয়ে বা হারিয়ে যায় তাহলে সেটি এখন কোথায় কী অবস্থা আছে তা জানাটা খুবই সহজ হয়ে যাবে এর মাধ্যমে।
৫। টোনচেক (ToneCheck) প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সুরক্ষার জন্য আরেকটি আউটলুক প্লাগ-ইন হচ্ছে টোনচেক। এটি সমস্ত আউটগোয়িং মেইল পরীক্ষা করে এবং ব্যবহারকারীকে জানায় মেইলগুলোর ধরন অনুপযুক্ত, অযথাযথ, অপমানজনক বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ক্ষতিকর কি না। অ্যাপ্লিকেশনটি বেশির ভাগ অনাকাক্সিক্ষত শব্দকেই চিহ্নিত করতে এবং এমনকি ব্যবহারকারীদের আচরণ থেকেও শিখতে পারে।
৬। এভিজি (AVG) এভিজিকে অনেকেই চেনেন এবং ভাইরাস ও ক্ষতিকর প্রোগ্রামের হাত থেকে ডাটাকে সুরক্ষা দিতে ব্যবহার করে থাকেন। এটির কোনো ক্লাউডভিত্তিক সিগনেচার আপডেট না থাকায় এবং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে ভাইরাস ট্র্যাক করার জন্য অ্যাডমিন কনসোল না থাকায় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে এভিজি-র সমালোচনা করেন অনেকে। তবে পরিচিত ভাইরাস, ম্যালঅয়্যার এবং স্পাইঅয়্যার সংক্রান্ত হুমকির একটি আপ-টু-ডেট রেজিস্ট্রি রক্ষণাবেক্ষণ করার কারণে কম্পিউটারের নিরাপত্তা বিধানে এভিজি-র ভূমিকা অনেকের কাছে প্রশংসনীয়ও।
৭। অ্যাডভান্সড রেজিস্ট্রি অপটিমাইজার (Advanced Registry Optimizer) রেজিস্ট্রি সংক্রান্ত সমস্যার কারণে কম্পিউটারের গতি ধীর হয়ে যায়, তবে নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে রেজিস্ট্রি কি করাপ্ট ও ক্ষতিকর সফটঅ্যারের অন্যতম চারণভূমিও বটে। অ্যাডভান্সড রেজিস্ট্রি অপটিমাইজার একটি ক্লিনিং টুল, যার কাজ হচ্ছে করাপ্ট ও সন্দেহজনক এন্ট্রিকে খুঁজে বের করা। এটির আরেকটি বড় গুণ হচ্ছে, এটি ব্যাকগ্রাউন্ডে রান করে, ফলে আপনার রেজিস্ট্রি তার সম্ভাব্য সর্বোচ্চ গতিতেই কাজ করতে পারে।
৭। গোগোস্ট্যাট প্যারেন্টাল গাইডেন্স (GoGoStat Parental Guidance) এটি হচ্ছে ফেসবুকের জন্য বিশেষভাবে তৈরি একটি ফ্রি সফটঅ্যার। যেসব বাবা মা নিশ্চিত হতে চান যে তাঁর সন্তান ফেসবুকে কোনোরকম অনাকাক্সিক্ষত কর্মকাণ্ড বা আচরণে লিপ্ত নেই তাঁরা এটি ব্যবহার করতে পারেন। এজন্য বাবা মাকে তাঁদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে গোগোস্ট্যাট (www.gogostat.com) ইনস্টল করতে হবে, তারপর সন্তানদেরকে অ্যাড করতে হবে। এরপর সন্তানদের চ্যাট মেসেজ, ছবি আপলোড এবং নতুন কনটাক্টের ব্যাপারে সবসময় পিতামাতাকে অ্যালার্ট করে দেয়া হবে।
৮। পিজিপ (PeaZip) পিজিপ ডাটা এনক্রিনপশনের কাজটিকে অনেকটাই সহজ করে দেবে। যাঁরা ফাইলের আকার কমানো জন্য এগুলোকে কমপ্রেস করতে এবং কমপ্রেসড ফাইলের নিরাপত্তা বিধানের জন এর সঙ্গে বাড়তি এনক্রিপশন ব্যবস্থা যোগ করে দিতে চান তাদের জন্য পিজিপ আর্কাইভিং টুলটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এ ZIP, ARC, GZ , এত এবং TAR-সহ সমস্ত কমপ্রেশন ফরম্যাট সমর্থন করে এবং উইন্ডোজ ও লিনাক্স উভয় অপারেটিং সিস্টেমেই সমান দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে।

সিনিউজ

Please Share This Post.