ক্রোমের গতি যেভাবে বাড়াবেন

উচ্ছ্বাস মজুমদার : ২০০৮ সালে প্রথম বেটা রিলিজ হবার পর থেকে হাঁটি হাঁটি পা পা করে গুগল ক্রোম আজ বহুদূর চলে এসেছে। ডেস্কটপ আর মোবাইল মার্কেট দুই জায়গাতেই ভালো একটা অবস্থান দখল করে আছে এটি। গুগলের তৈরি এই ব্রাউজার চরিত্রের দিক দিয়ে নমনীয়, এতে আছে নানা রকম ফিচার এবং এটি নানা প্লাটফর্মে ব্যবহার করা যায়।

তবে যতই জনপ্রিয়তা থাকুক, ক্রোমের একটি বদনাম হচ্ছে, এটি প্রচুর পরিমাণে র‌্যাম ব্যবহার করে এবং এর কারণে ল্যাপটপের ব্যাটারির চার্জও দ্রুত ফুরিয়ে যায়। যে কারণে ক্রোমের ক্ষেত্রে এটি ঘটে, তাকে বলা হয় ‘প্রসেস আইসোলেশন’, যেটি করা করা হয়েছিল ক্রোমকে আরো নিরাপদ ও শক্তিশালী করার জন্য। প্রতিটি ট্যাব, প্লাগইন ও এক্সটেনশনকে তার নিজস্ব প্রসেস-এর মধ্যে আটকে রাখা তথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলার কারণে সবচেয়ে বড় সুবিধা যেটি হয় – একটিমাত্র প্রসেস বা প্লাগইন যদি ক্র্যাশ করে তাহলে তার সঙ্গে সঙ্গে গোটা ব্রাউজার ক্র্যাশ করে না। একইভাবে একটি ট্যাবের ওপর কোনো আক্রমণ হলে অন্য ট্যাবের ডাটা তাতে আক্রান্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।

এ কারণেই আপনার কম্পিউটারের ‘টাস্ক ম্যানেজার’ খুললে ক্রোম-এর জন্য অনেকগুলো এন্ট্রি দেখতে পাবেন। ব্রাউজারকে যেহেতু প্রতিটি ট্যাবের জন্য কিছু কাজ একাধিকবার করতে হয়, সব মিলিয়ে ক্রোমের প্রচুর রিসোর্স প্রয়োজন হয়। কিছু কিছু প্লাগইন আর এক্সটেনশনের জন্য বেশি মেমোরি ব্যবহার করার প্রয়োজন হয়। কম্পিউটারে প্রচুর মেমোরি থাকলে ততটা সমস্যা হবে না। কিন্তু সমস্যা তারপরও হয়, কারণ অন্য অ্যাপের জন্য বরাদ্দ মেমোরিও ক্রোমের অতিরিক্ত র‌্যাম ব্যবহারের কারণে হাতছাড়া হয়ে যায়।

গুগল চেষ্টা করে চলেছে এই সমস্যা সমাধানের, তবে ব্যবহারকারী হিসেবে আপনি নিজেও এ ব্যাপারে কিছু কাজ করতে পারেন, যাতে ক্রোমের র‌্যাম ব্যবহারে রাশ টানা যায়। আসুন, এরকম কিছু পদ্ধতি এই ফাঁকে জেনে নিই।

 

প্রসেস বন্ধ করুন ম্যানুয়ালি
এটিই হওয়া উচিত আপনার প্রথম কাজ, বিশেষ করে ক্রোমের গতি যখন কমতে শুরু করবে তখন। বর্তমানে কোন কোন প্রসেস চলছে (running processes) তার তালিকা দেখার জন্য আপনার উইন্ডোজ কম্পিউটারে Shift + Esc প্রেস করে টাস্ক ম্যানেজারে চলে যান। মেমোরি ব্যবহারের হার দেখে দেখে প্রসেসগুলোকে বেছে নিন এবং যেটি আপনার দরকার নেই সেটিকে বন্ধ করে দিন।
অপ্রয়োজনীয় এক্সটেনশন সরিয়ে ফেলুন
কবে কোন কালে একটা এমবেডেড ভিডিও ডাউনলোড করেছিলেন, সেজন্য সবসময় একটা এক্সটেনশন চলতে থাকবে এটি মানা যায় না। কম্পিউটারে কোন কোন এক্সটেনশন ইনস্টল করবেন তা ভেবেচিন্তে ঠিক করুন। সত্যি বলতে কি, আপনার হাতে গোনা কয়েকটি এক্সটেনশনেরই কেবল দরকার হবে। অতএব, অ্যাড্রেস বারে টাইপ করুন ‘chrome://extensions’, এবং যেসব এক্সটেনশন নিয়মিতভাবে দরকার হয় না সেগুলো ডিজঅ্যাবল করে রাখুন, আর যেগুলো একেবারেই দরকার হয় না সেগুলো মুছে ফেলুন।

 

প্রতিটি প্লাগইনকে ‘ক্লিক-টু-প্লে’ করে ফেলুন
ক্রোম এরই মধ্যে ফ্ল্যাশ অ্যাড ব্লক করতে শুরু করেছে, আর হাতে গোনা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়েব সাইট ছাড়া সবগুলোর জন্যই এ বছরের মধ্যেই বাই ডিফল্ট ফ্ল্যাশ ব্লক করে ফেলবে। তবে ব্রাউজারটিতে বর্তমানে একটি বিল্ট-ইন ক্লিক-টু-প্লে ফিচার আছে যেটি সব প্লাগইনের সাথে কাজ করে। এটিকে এনাবল করার জন্য যেতে হবে chrome://settings-এ। এবার ক্লিক করুন Show advanced settings-এ, তারপর Privacy-এর অধীনে Content settings-এ। নিচের দিকে স্ক্রল করে চলে যান Plugins সেকশনে, এবং তারপর সিলেক্ট করুন ‘Let me choose when to run plugin content’।

নিশ্চিত হয়ে নিন যে, chrome://plugins-এ “always allowed to run” এনাবলড করা নেই। কারণ এটি এনাবল করা থাকলে এটি ক্লিক-টু-প্লে সেটিংয়ে বিঘ্ন সৃষ্টি করে। এছাড়াও, আপনরা প্লাগইন লিস্টে খুব প্রয়োজনীয় কিছু না থাকলে সেগুলোকেও প্রয়োজনমত ডিজঅ্যাবল বা ডিলিট করে দিন।

 

‘ওয়ান ট্যাব’

আপনার যদি অনেকগুলো ট্যাব খোলা রেখে কাজ করার অভ্যাস থাকে তাহলে এ ব্যাপারে কয়েকটি এক্সটেনশন আপনাকে সাহায্য করতে পারে। তার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়টি হচ্ছে ‘ওয়ান ট্যাব’ (One Tab)। ‘ওয়ান ট্যাব’ দিয়ে প্রতিটি খোলা ট্যাবকে এক ক্লিকে বন্ধ করে সেটিকে একটি তালিকায় রূপান্তরিত করা যায়। ট্যাবে আবার অ্যাকসেস নেয়ার দরকার হলে সেগুলোকে লিংকের ওপর ক্লিক করে মুহূর্তে ফিরিয়ে আসতে পারেন। আবার আপনার ট্যাবগুলোকে URL-এর একটি তালিকা হিসেবে এক্সপোর্ট/ইমপোর্টও করতে পারেন। আপনি কতগুলো ট্যাব এবং প্রতিটি ট্যাবের ভেতর কতগুলো স্ক্রিপ্ট রান করছেন তার ওপর ভিত্তি করে সেগুলোকে ওয়ান ট্রাবে নিয়ে আসা ক্রোমের পারফরমেন্সকে প্রচুর পরিমাণে বাড়াতে সাহায্য করবে।

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক

Please Share This Post.