ক্যাবল টিভি সার্ভিস ডিজিটাল করন নিয়ে কাজ করছে জাদু ডিজিটাল

টিভি গ্রাহকদের জন্য ক্রিস্টাল ক্লিয়ার বা আন্তর্জাতিক মানের বিনোদন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষে জাদু ডিজিটাল এই সেক্টরে বড় ধরনের পরিবর্তনের লক্ষে এমন উদ্যোগ নিয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠারটির হেড অফ মার্কেটিং ইশরাক ঢালী এবং ওয়াল্ড ক্লাস ডাটা সেন্টার ও টেকনিক্যাল বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হয় হেড অফ সিস্টেম সাইফ রহমান এর সাথে। জাদু ডিজিটাল ব্রড ব্যান্ড লিমিটেড মুলত এসডি ও এইচডি সেট টপ বক্সসহ ডিজিটাল ক্যবল সার্ভিস প্রোভাইডার। গত ১২ই মে জাদু ডিজিটালের আমন্ত্রনে জাদু ডিজিটালের ডেটা সেন্টার ও তাদের ব্যবসায়িক বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা নিয়ে তথ্য প্রযুক্তি সাংবাদিকদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করেন তারা। বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও নেটওয়ার্ক সমৃদ্ধ জাদু ডিজিটালের ২৩০ টি চ্যানেলে ঝকঝকে/ এইচডি ছবি ও ক্রিস্টাল ক্লিয়ার সাউন্ডে ২৪ ঘন্টা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিনোদন যোগাযোগের সব খবর জানাতে তাদের এই প্রয়াস। হাই ডেফিনিশন প্রিমিয়াম টিভি সার্ভিস এবং ইন্টারনেটভিত্তিক সেবা নিয়ে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ডিজিটাল ক্যাবল সার্ভিস নিয়ে সম্প্রতি কাজ শুরু করছে জাদুর ডিজিটাল বক্র গ্রাহকদের জন্য এসডি ও এইচডি সেট টপ বক্স সহ ৪টা প্যাকেজে নিয়ে কাজ শুরু করেছে: জাদু প্রিমিয়াম এইচডি, মূল্য ৩৫০০ টাকা ২৩০ টি চ্যানেল ও ৩০টি এইচডি চ্যানেল যার মাসিক ফি ৬০০ টাকা, জাদু সুপার সেভার মূল্য ৩৫০০ টাকা ১৫০টি এইসডি চ্যানেল, মাসিক ফি ৫০০ টাকা, জাদু সেভার এসডি যার মূল্য ২৫০০ টাকা ১৫০টি চ্যানেল, মাসিক ফি ৩০০ টাকা, জাদু ভেলু এসডি ১৭৫ চ্যানেল মূল্য ২৫০০টাকা, মাসিক ফি ৪০০ টাকা । জাদু ডিজিটাল সমন্ধে জানতে ভিজিট করুন www.jadoodigital.com । এটি মূলত মোহাম্মদি গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান।

Management Team

                                                     জাদু ডিজিটাল এর পরিচালনা টিম
জাদু ডিজিটাল এর বিস্তারিত:
বিগত দুই যুগ ধরে বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ অ্যানালগ ক্যাবল টিভি দেখে আসছে। এই মুহূর্তে দুই জন প্রধান বিতরণকারী সংস্থা এবং প্রায় এক হাজারের বেশী বৈধ ক্যাবল টিভি অপারেটর দেশের সর্বত্র ১৬ কোটি মানুষের দোরগোড়ায় এই ক্যাবল টিভি সেবা পৌঁছে দিচ্ছে । এদের নিরলস প্রচেষ্টার ফলে সারাদেশে আজ আনুমানিক দুই কোটি টেলিভিশান ক্যাবল টিভি সংযোগ এর আওতাভুক্ত রয়েছে।

বলাই বাহুল্য যে এই অ্যানালগ ক্যাবল টিভির মাধ্যমে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে ৮০ হতে ৯০টি টিভি চ্যানেল প্রদর্শনের সামর্থ্য থাকলেও জিলা, থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে এই সংখ্যা কমে নিম্নে ২৫ হতে ৪০টি টিভি চ্যানেল পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। এর ফলে অনেক জরুরী সংবাদ ও দেশী টিভি চ্যানেল গ্রাহকদের দোরগোড়ায় পৌঁছানো সম্ভব হয় না। এর মূল কারণ হিসাবে অ্যানালগ ক্যাবল টিভি ভিত্তিক বিতরন ব্যাবস্থার প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতাকে চিহ্নিত করা যেতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় এসে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে প্রযুক্তিখাতকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছেন। এর ফলে আজ সারাদেশের মানুষের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছানোর পাশাপাশি বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সেবার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের মেলিনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল (এম ডি জি) অর্জনে এবং সাম্প্রতিকালে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনের ফলে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ হতে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের টেলিযোগাযোগ শিল্পের বিকাশ বিশেষভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। কিন্তু বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের কেব্ল টিভি বিতরন ব্যাবস্থার তেমন কোন উন্নয়ন করা হয়নি।

অ্যানালগ ক্যাবল টিভি বিতরন পদ্ধতিতে ছবি ও সিগন্যালের মান খুবই নিম্নমানের হয়ে থাকে যার মূল কারণ হল আমাদের কেব্ল টিভির তার, তারের কানেকটার, স্পিলটার এবং আম্পিফাইয়ার। অ্যানালগ পদ্ধতিতে ক্যাবল টিভির তারের ভিতর দিয়ে এক গিগাহার্টজ তরঙ্গ ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ১০৬ টি চ্যানেল বিতরণ সম্ভব থাকলেও বাস্তবে তা ৯০ হতে ৯৬ টির বেশী নয়। তাছাড়া এই পদ্ধতিতে কিছু উচ্চ তরঙ্গ বিশিষ্ট চ্যানেল ধারন করা সম্ভব হয় না যার ফলে সুযোগ থাকা সত্তেও ক্ষমতার তুলনায় অনেক কম চ্যানেল পরিবেশন করা হয়। অ্যানালগ ক্যাবল টিভি বিতরন ব্যবস্থা ২০ বছর আগের প্রযুক্তি যার পরিবর্তে বিশ্বব্যাপী এখন ডিজিটাল বিতরন ব্যবস্থা প্রতীয়মান।

এ মুহূর্তে সারাদেশে আনুমানিক দুই কোটি টিভি সংযোগ থাকলেও বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব আয় হয় প্রায় ১০ কোটি টাকা যা সম্মিলিত সংযোগের শতকরা ১% আয়। এই অঙ্কের শতকরা ৪০% জোগান দেয় মাত্র দুই জন প্রধান বিতরণকারী সংস্থা এবং বাকি ৬০% আসে অন্য এক হাজারের ও বেশী ছোট বড় কেব্ল টিভি অপারেটরদের কাছ থেকে। প্রচলিত অ্যানালগ প্রযুক্তি হতে উন্নত ডিজিটাল ক্যাবল টিভি প্রযুক্তির প্রবর্তন ঘটলে শতকরা ১৫% হারে এই খাত থেকে বছরে আনুমানিক ১,০৮০ কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহ সম্ভব।

Jadoo Digital Data Center (Headend) 1

                                                                                 আন্তর্জাতিক মানের ডাটা সেন্টার 

ডিজিটাল ক্যাবল টিভি প্রযুক্তির কিছু সুবিধা:

১। অ্যানালগ ক্যাবল টিভি প্রযুক্তির তুলনায় ডিজিটাল ক্যাবল টিভি প্রযুক্তিতে দেখা ছবি ও শব্দের মান অত্যন্ত পরিষ্কার ও স্পষ্ট। ২। ডিজিটাল প্রযুক্তির ফলে ছবির সিগন্যালের সর্বচ্চ গুণগত মান নিশ্চিত করা সম্ভব যার ফলে হয় ছবি আসবে নাহলে ছবি আসবে না, কিন্তু ছবির মান খারাপ হবার কোন সম্ভাবনা থাকবে না। ৩। ক্যাবল টিভি অপারেটরদের বিদেশী চ্যানেল সিগন্যাল পাইরেসির ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, ডিজিটাল কেবল টিভি প্রযুক্তি সংযোজনের ফলে পাইরেসি বন্ধ করা সম্ভব। ৪। ডিজিটাল কেবল টিভির প্রযুক্তির মাধ্যমে সরকার সকল গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে পারবে, যা টেলিযোগাযোগ খাতে প্রতীয়মান। ৫। সরকার ক্যাবল টিভি খাতের উপর নিয়ন্ত্রন আরোপ করতে পারবে এই ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্বারা। ৬। এই ডিজিটাল ক্যাবল টিভি প্রযুক্তির ফলে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে সকল চ্যানেলের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ সম্ভব। ৭। যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করতে সকল টিভি চ্যানেলব্যাপী জরুরি তথ্য সম্প্রচার করা সম্ভব।৮। বিদেশী টিভি চ্যানেল ডাউনলিঙ্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের একটি নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতি আরোপ করা সম্ভব।৯। জাতিয় সম্প্রচার নিতিমালার পূর্ণাঙ্গ জোরদারকরন সম্ভব। ১০। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত সহ এর পাশাপাশি সিঙ্গাপুর, হংকং, পাকিস্থান, দুবাই ও পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশে ডিজিটাল ক্যাবল টিভি প্রযুক্তি সংযোজনের ফলে দেশের তথ্যপ্রযুক্তিগত ব্যবহারের আন্তর্জাতিক সূচক বাড়বে।১১। ক্যাবল টিভি ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের আরও স্বচ্ছতা যাচাই করা সম্ভব।১২। বিদেশী টিভি চ্যানেল গুলোর পাশাপাশি আমাদের দেশীয় টিভি চ্যানেলগুলোর সক্ষমতা ও স্বকীয়তা নিশ্চিতকরণ সম্ভব। ১৩। শিশু ও তরুণদের হাতের নাগাল থেকে আপ্রাপ্তবয়স্ক টিভি চ্যানেলগুলোর প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব যা পাশ্চাত্তের অপসংস্কৃতি হতে আমাদের তরুণ সমাজকে রক্ষা করবে। ১৪। শিশুদের মানসিক বিকাশের পাশাপাশি শিক্ষার হার বৃদ্ধির লক্ষে শিক্ষামূলক টিভি অনুষ্ঠান সম্প্রচার সম্ভব। ১৫। ডিজিটাল ক্যাবল টিভি প্রযুক্তির মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সমগ্র বাংলাদেশব্যাপী রাস্তার উপর ঝুলন্ত তারের পরিমাণ কমানো সম্ভব। ১৬। এলাকাভিত্তিক ক্যাবল শিল্পকে ঘিরে সন্ত্রাসীমূলক কর্মকান্ড অনেকাংশে সাহায্য করবে এই ডিজিটাল প্রযুক্তি। নিয়মতান্ত্রিক ভাবে লাইসেন্স ধারী ছোট ও বড় এলাকা ভিত্তিক ক্যাবল টিভি অপারেটরদের সুবিধা দেওয়ার সম্ভব। ১৭। তাছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ২০২১ এর আদলে প্রযুক্তিগত আধুনিকতা নির্ভরশীল ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে ডিজিটাল ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্কের বিকল্প নেই।

-গোলাম দাস্তগীর তৌহিদ

Please Share This Post.