ক্যাবল অপসারণ নিয়ে খুব্ধ আইএসপিএবি, বিটিআরসিকে স্মারকলিপি

ক্যাবল অপসারণ নিয়ে খুব্ধ আইএসপিএবি, বিটিআরসিকে স্মারকলিপিতে আরো তিনটি এনটিটিএন লাইসেন্স প্রদানের আবেদন  এবং শহরের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি ও সার্বক্ষনিক ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিতঃ করণের লক্ষ্যে আন্ডারগ্রাউন্ড নেটওয়ার্কে প্রবেশ করতে চাই এবং ইতিমধ্যে প্রধান প্রধান সড়ক হতে তার নামিয়ে আন্ডারগ্রাউন্ডে প্রবেশ করানো হয়েছে। কিন্তু বিগত বছরখানেক ধরে রাজধানীর উত্তরা, মীরপুর, মহাখালী, গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকায় বার বার স্বল্প সময়ের নোটিশ দিয়ে অথবা নোটিশ ছাড়াই ডেসকো ও ডিপিডিসি বৈদ্যুতিক খুঁটি হতে ঝুলন্ত তার সমূহ অপসারণকরে চলছে। যার ফলে, বৈদেশিক মুদ্রায় আমদানীকৃত কোটি কোটি টাকার ফাইবার অপটিক ক্যাবল বিনষ্ট হচ্ছে। ওভারহেড ক্যাবল ছাড়া অন্য কোন উপায় না থাকায় আইএসপির নিতান্ত বাধ্য হয়ে আবারো একই ভাবে পুনঃসংযোগ স্থাপন করছেন।

( অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আইএসপিএবি  প্রস্তাবনা: 

১.বিদ্যুৎ মন্ত্রনালয়ের টেকনিক্যাল কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক, ওভারহেড ক্যাবল ব্যবস্থাপনা গ্রহন করতে হবে। উক্ত কমিটির সংশ্লিষ্টতা ছাড়া কোন প্রকার ক্যাবল কাটা হলে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় ইন্টারনেট ও ডাটা কানেকটিভিটি (সংযোগ) বন্ধ থাকবে এবং এর দায়দায়িত্ব ডেসকো ও ডিপিডিসিকে নিতে হবে।

২. এটি এখন প্রতীয়মান যে, বেসরকারী দুই এনটিটিএন টেলিযোগাযোগ খাতের চাহিদা পূরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। সুতরাং আমাদের দীর্ঘ দিনের দাবি, ন্যূনতম আরো তিনটি অপারেটরকেএই লাইসেন্স অবিলম্বে প্রদান করতে হবে।

৩. ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট সহ সকল বিভাগীয়-জেলা শহরে এনটিটিএনদের এলডিপির সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে।

৪. এনটিটিএনের কোর প্রতি মূল্য ক্রমান্বয়ে বেড়ে মিটার প্রতি মাসিক ২ টাকা হতে ৭ টাকা হারে পৌঁছেছে। ইন্টারনেটের মূল্য কয়েক ধাপে কমলেও এনটিটিএনের মূল্য প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে। এই উচ্চমূল্য কমাতে হবে ও  সারা দেশে সকল স্থানে একদামে সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে।)

দুইটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ন্যাশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন (এনটিটিএন) লাইসেন্স প্রাপ্ত হলেও, তারা বিগত দশ বছরে এই সমস্যার কোন কার্যকরী  সমাধান প্রদান করতে ব্যর্থ হয়েছেন। যার ফলে আইএসপিসমূহ  অনন্যোপায় হয়ে শত শত কোটি টাকার ওভারহেড ক্যাবল অরক্ষিত অবস্থায় টেনে গ্রাহক পর্যায়ে স্বল্প খরচে ইন্টারনেট ও ডাটা সেবা প্রদান করে আসছেন।

এনটিটিএন অপারেটরদের এলডিপি পয়েন্টগুলো বর্তমানে যেভাবে আছে তাতে করে লাস্টমাইলে ওভারহেড ক্যাবল (ঝুলন্ত তার) অপরিহার্য। এলডিপির স্বল্পতা ও পরিকল্পনাগত ক্রটির কারণে ঝুলন্ত তার থেকে আশু মুক্তির কোনো সম্ভাবনা নেই। কিন্তু, এই বাস্তবতা আমলে না নিয়ে ওভারহেড ক্যাবল সংক্রান্ত সমস্যার সমস্ত দায়ভার ডেসকো ও ডিপিডিসি, এনটিটিএন অপারেটরদের পরিবর্তে আইএসপি অপারেটরদের ওপর চাপিয়ে আসছেন।

BTRC,002

গতকাল  বিটিআরসি চেয়ারম্যান ও কমিশনার এর সাথে আইএসপিএবি এর বৈঠক।

উল্লেখ্য, ওভারহেড ক্যাবলের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে, গত ২০১৪ সালে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের উপসচিবকে প্রধান করে একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়েছে। ডেসকো, ডিপিডিসি, বিটিআরসি, সামিট কমিউনিকেশন, ফাইবার অ্যাট হোম, বিটিসিএল, কোয়াব ও আইএসপিএবি প্রতিনিধিগণ এই কমিটির সদস্য। এই কমিটি টেকনিক্যাল সমস্যা সমূহ মনিটরিং এবং যাচাই বাছাই করে বিগত কয়েক বছর যাবৎ ঝুলন্ত  তার অপসারণের করে আসছিলেন। কিন্তু কোন এক অদৃশ্য কারণে, মন্ত্রনালয়ের এই টেকনিক্যাল কমিটিকে পাশ কাটিয়ে, ডেসকো গত এক বছর যাবত নিজেদের খেয়াল খুশি মতো ওভারহেড ক্যাবল অপসারণ করছে। আমরা উক্ত কমিটির কাছে বারংবার ধর্না দিয়েও আজ পর্যন্ত কোন সমাধান পাচ্ছি না।

তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে এক মিনিটও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে তার জন্য আমাদের সকল কার্যক্রম স্থবির হয়ে যায়, যার বিরূপ প্রভাব পড়ে দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে।

আপনারা অবগত আছেন যে, বাংলাদেশ সরকার গত দশ বছর যাবৎ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নানামুখি পদক্ষেপ গ্রহন করে আসছে। সরকারের পাশাপাশি আইএসপি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ তথ্য প্রযুক্তি খাতকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সর্বাত্মকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এর জন্য আমরা সারা দেশের গণমানুষের দোরগোড়ায় এই সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য এনটিটিএনের মাধ্যমে সংযোগ দিয়ে আসছি। যে সব এলাকায় এনটিটিএনদ্বয় আন্ডারগ্রাউন্ড সেবা চালু করেন, আমরা কাল বিলম্ব না করে, সে সব এলাকায় আমরাও  তাদের সেবা গ্রহন করি। কিন্তু বাকি সব এলাকায় আমাদের ওভারহেড ক্যাবল ব্যবহার ছাড়া আর কোন গত্যান্তর নেই।

ডিপিডিসি ও ডেসকো যদি অনাঙ্ক্ষাখিত ভাবেক্যাবল অপসারণ কার্যক্রম চালু রাখে, এবং তার ফলে ইন্টারনেট সেবার বড় ধরণের বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়- এর সম্পূর্ণ দায়ভার ডিপিডিসি ও ডেসকোর ওপরই বর্তাবে ।

এই স্মারকলিপির মাধ্যমে আমরা আবেদন করছি যে, সকলের নিকট গ্রহনযোগ্য কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা হোক। অন্যথায় যত্র-ত্রততড়িঘড়ি করে ক্যাবল কাটা হলে দেশের কর্পোরেট হাউস, ব্যাংক, বীমা, শিক্ষা ও অন্যান্য  বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ডাটা কানেকটিভিটি, আর্থিক লেন-দেন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়বে।

এই ভয়াবহ পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য আপনাদের সবার সার্বিক সহযোগিতা আশা করছি।

ডেসকো ও ডিপিডিসির ক্যাবল অপসারণের এমন হঠকারী সিদ্ধান্তের ফলে যেসব ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রভাব পড়বে তা নিম্নরূপ-

১. ব্যাংক ২. শেয়ার বাজার ৩. পোশাক শিল্প ৪. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৫. সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ৬. সফটওয়্যার শিল্প ৭. ই-মেইল, স্যোশাল নেটওয়ার্কিং ও ই-টিকেটিং ইত্যাদি।

 

-সিনিউজভয়েস ডেক্স
Please Share This Post.