কোভিড-১৯: সুরক্ষা ও সেবায় মডেল গ্রুপের নানা উদ্যোগ

করোনা ভাইসরাস থেকে নিজ কারখানার শ্রমিকদের সুরক্ষার পাশাপাশি জনগণের সেবার এগিয়ে এসেছে নারায়ণগঞ্জস্থ পোশাক তৈরি ও রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান মডেল গ্রুপ।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এ সব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা আমলে নিয়ে ক্রেতাদের চাহিদা অনুসারে পোশাক সরবাহের জন্য সরকারের দেওয়া নির্দেশনা মেনেই কারখানা চালু করা হয়েছে। শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিতে সব রকমের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক।

ইতিমধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে পরিদর্শনে আগত সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাসান-বিন-মুহাম্মদ আলী প্রশংসা করেছেন বলেও জানিয়েছে আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এ প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মাসুদুজ্জামান বলেন, “সরকারি নির্দেশনা অনুসারে আমরা আমাদের কারখানা পরিচালনা করছি, এবং এর ওপর ভিত্তি করে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ)-এর সাবেক সহ-সভাপতি জনাব মাসুদুজ্জামান আরও বলেন, “শ্রমিকদের দোর গোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে আমরা একটি দল গঠন করেছি। ডাক্তার ও নার্সদের সম্বনয়ে তৈরি এ দলটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ মানুষদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।”

নারায়ণগঞ্জের কৃতি সন্তান, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সিসিডিএম’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মাসুদুজ্জামানের নিজ হাতে গড়া মডেল গ্রুপ সব সময়ই আপামর জন সাধারণের সেবায় এগিয়ে এসেছে। এবার করোনা সংক্রমণের সময়েও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি।

প্রতিষ্ঠানটির নেওয়া একগুচ্ছ বহুমুখী উদ্যোগগুলো হচ্ছে- কারখানার কর্মীদের সুরক্ষায় সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্য বিধি মোতাবেক বিশেষত কারখানায় অভ্যন্তরে ও প্রবেশমুখী সব রকমের সব রকমের জীবাণু প্রতিরোধী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কর্মীরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কারখানায় প্রবেশ নিশ্চিত করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বহিরাগতদের কারখানায় প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষিত করা হয়েছে।

শ্রমঘন শিল্প হলেও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারখানার ভেতরের উৎপাদন ব্যবস্থা, খাবার ঘর, ক্যান্টিনে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

শুধু কারখানায় নয়, কর্মীদের নিজ নিজ বাড়িতে সুরক্ষিত থাকাও সব দিক থেকে জরুরি। কর্মীরা নিজ নিজ বাড়িতে কীভাবে সুরক্ষিত থাকবেন এবং পরিবারের সদস্যদেরও কীভাবে সুরক্ষিত রাখবেন সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তদুপরি, সাধারণ ছুটি দেওয়া হয়েছে গর্ভবতী কর্মীদের।

রাজধানী ঢাকার পর সবচেয়ে বেশি সংক্রমিত জেলা নারায়ণগঞ্জের পোশাক কর্মীসহ ১৫ হাজার পরিবারের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করতে প্রতিষ্ঠানটি দেড় কোটি টাকা ব্যয় করছে।

দেড় কোটি টাকা ব্যয় করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মান অনুসারে পিপিই, সার্জিক্যাল মাস্ক, থার্মোমিটার গগলস ও প্রোটেকটিভ শিল্ড, এবং হ্যান্ড গ্লাভস আমদানি করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এই সব চিকিৎসা সহায়ক সামগ্রীগুলো তারা নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরবরাহ করেছে।

এছাড়া, জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে সঙ্গনিরোধকরণ (আইসোলেশন) সুবিধাসহ সব ধরনের সরঞ্জাম সম্বলিত মেডিকেল সেন্টার তৈরি করা হয়েছে নিজেদের কারখানাতেই এবং সন্দেহভাজন রোগীদের সেবায় মানসম্পন্ন পিপিইসহ ডাক্তার ও ক্লিনারদের একটি টিমও গঠন করা হয়েছে।

মহামারী থেকে বাঁচতে সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা অপরিহার্য, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বাংলাদেশের মহামারী বিশেজ্ঞরাও এমনটিই বলছেন। মানুষের মধ্যে সচেতনা সৃষ্টি ও সার্বিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালাতে ইতিমধ্যে নিজেদের স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী ও জন সাধারণের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তারা নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন রাস্তাঘাট ও এলাকাগুলোতে জীবাণুমুক্তকরণ ও পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে।

জরুরি ও আপদকালীন এই সময়ে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে দেড় কোটি টাকারও বেশি অর্থ বিতরণ করেছে মডেল গ্রুপ।

 

-সিনিউজভয়েস/ডেক্স/১৭মে/২০

Please Share This Post.