কোন পথে স্মার্টফোনের ট্রেন্ড : মোহাম্মাদ রিয়াদ

স্মার্টফোনের বর্তমান অবস্থা ও বিভিন্ন ট্রেন্ড নিয়ে সম্প্রতি সিনিউজ এর সাথে কথা বলেছেন, মোহাম্মাদ রিয়াদ, ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার, মাকেটিং এডিসন গ্রুপ, সিম্পনি মোবাইল। কথোপকথন আমাদের পাঠকদের জন্য নিচে তুলে ধরা হলো : 

সিনিউজ: বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে স্মার্টফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি হয়েছে সেটিকে আপনি কিভাবে দেখছেন?

মোহাম্মাদ রিয়াদঃ এক কথায় এটি ব্যাক্তিগত এবং সামগ্রিক ভাবে অপার সম্ভাবনার পথ খুলে দেওয়ার সমতুল্য। একই সাথে, অন্যান্য বা উন্নত দেশের স্মার্টফোন এর ব্যবহারের যে হার, সে তুলনায় আমরা এখনো পিছিয়ে। তবে এক্ষেত্রে অপারেটর এবং হ্যান্ডসেট কোম্পানি গুলো আরো একসাথে কাজ করতে পারলে আরো দ্রুত স্মার্টফোন এর ব্যবহারের হাড় বাড়বে।

সিনিউজ:  স্মার্টফোন প্রযুক্তিতে আগামী পাঁচ বছরে কোন কোন নতুন মাত্রা যুক্ত হতে পারে বলে আপনার ধারণা?

মোহাম্মাদ রিয়াদঃ বলা যেতে পারে, আগামী দিনগুলো ই-কমার্স/এম-কমার্স এর। সেই দিক থেকে, স্মার্টফোনের ব্যবহার, আমাদের দৈনন্দিন জীবনের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠবে। এই প্রয়োজন মেটানোর জন্য নিত্যনতুন এ্যাপ বান্ধব আপডেটেড সফটওয়্যার সমৃদ্ধ হ্যান্ডসেট যোগ করবে নতুন মাত্রা। আর সেই বিবেচনায় আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর প্রযুক্তি খুবই গুরুতবপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সিনিউজ:  বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্মারটফোনের ব্যবহারকে আরো ফলপ্রসু করার ক্ষেত্রে আপনার পরামর্শ কী?

মোহাম্মাদ রিয়াদঃ ব্যাপারটি শুধু মাত্র টেকনোলোজী বা স্মার্টফোনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে, স্মার্টফোনের ফলপ্রসূ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। আমাদের সকলকে নীতিগতভাবে এবং প্রয়োজন মোতাবেক স্মার্টফোনের এর ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। এর সুফল গুলো মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে এবং অযাচিত বা অবৈধ ব্যবহার না করার ব্যাপারে সচেতনতা মূলক প্রচারণা চালাতে হবে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, আজকে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে রাইড শেয়ারিং বা অন্যান্য এই ধরণের পজিটিভ ব্যাপারগুলো সমাজের কাছে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরতে হবে।

সিনিউজ:  তরুণ সমাজে মাত্রাতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারের যে প্রবণতা সেটিকে আপনি কোন দৃষ্টিতে দেখছেন?

মোহাম্মাদ রিয়াদঃ দেখুন তরুনরা সব সময় নতুনের পক্ষে। আর সেই অর্থে যে কোন স্মার্টফোন এর নতুন ভার্সন তরুনরা বেশী বেশী ব্যবহার করবে এটাই স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে আপনার আগের প্রশ্নের সাথে মিলিয়ে বলবো- প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহারের ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। পারিবারিক ভাবে শুরু করে সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সব জায়গায় সচেতনতা সৃষ্টির ব্যাপারে অবদান রাখতে হবে।

সিনিউজ:  স্মার্টফোন ব্যবহারের নেতিবাচক কোনো প্রভাব কি আছে? থাকলে সেটি কী? এটিকে ইতিবাচকভাবে ব্যবহারের জন্য কী করা উচিত?

মোহাম্মাদ রিয়াদঃ সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন গবেষণায় বলা হচ্ছে স্মার্টফোন এর মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার আমাদেরকে অনেকটাই সবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে। লক্ষ্য করার বিষয় “মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার”,  এখানেই আমাদের সকলের নিজস্বতার বিষয়। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় অনেক সফল ব্যাক্তি/ব্যবসায়ী/চাকুরীজিবী আছেন যারা স্মার্টফোনের উপর নির্ভরশীল। একইসাথে সামাজিক পারিবারিক জীবনেও সমান ফ্রেন্ডস এবং ফ্যামিলি কে যথাযথ সময় দিচ্ছেন। এক অর্থে বিচ্ছিন্ন হচ্ছেন না বা হতে দিচ্ছেন না।

 

-সিনিউজ/জিডিটি/৩১অক্টো./১৯

 

 

 

 

Please Share This Post.