কেরবাল স্পেস প্রোগ্রাম

কেরবাল স্পেস প্রোগ্রামকে ¯্রফে একটি স্পেসভিত্তিক সিম গেম বলে রায় দিলে ভুল হবে। এর একটি কারণ হচ্ছে, পরিস্থিতি যতই জটিল হোক না কেন, আপনাকে কিন্তুসবুজ রঙের ছোট ছোট কার্টুন চরিত্রের সঙ্গেই খেলতে হবে, যা গেমের উত্তরাধুনিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে আগাগোড়াই বেমানান থেকে যায়। এই গেমকে কোনো গতানুগতিক গেমের পাল্লায় তোলা যাবে না কারণ এটি ক্রমাগত উদ্ভাবন আর আবিষ্কারের এক অসাধারণ প্রতিযোগিতায় আপনাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সুযোগ করে দেয়। এখানে ভুল করাকে কখনোই শাস্তিযোগ্য কিছু বলে মনে হবে না। প্রতিটি ভুল আপনাকে নতুন কিছু শেখার সুযোগ করে দেবে। প্রতিটি ব্যর্থতা আপনার শিক্ষক হিসেবে কাজ করবে, তবে না চাইতেই আপনার হাতে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর তুলে দেবে না। আপনি যাতে উদ্ভাবনী ক্ষমতা আর কৌশল প্রয়োগকরে গেমের ভুবনটিকে আবিষ্কার করে নেন সেদিকেই আপনাকে পরিচালিত করবে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে কেরবাল স্পেস প্রোগ্রাম এমন কোনো গেম নয় যেটি অন্য আর আট দশটা গেমের মত আপনাকে বলবে ‘যদি লক্ষ্য পূরণ করতে পারেন তাহলে আপনি জিতবেন’। তার পরিবর্তে আপনাকে লক্ষ্যে অবিচল থাকার আর গেমের শতভাগ মজা জিতে নেবার সুযোগ করে দেয়।

এই গেমের একটি মজার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এটি যেন কখনোই বন্ধ হয় না এবং গোটা একটি মহাবিশ্ব আপনার আবিষ্কারের অপেক্ষায় এখানে চুপটি করে বসে থাকে। এই গেমে একটি জিনিসেরই মর্যাদা বেশি, আর তা হল: চেষ্টা। এই গেমে যত বিজ্ঞানী আর পাইলট দেখবেন সবাই কার্টুনের মত ঠোট ছোট সবুজ মানুষ বটে, তবে তা সত্ত্বেও গেমটি প্রচ-ভাবে মানবিক। এ গেমে সামনে এগোনোর একটাই পথ আছে, আর তা হল, সাহসের সাথে একটু বেশি উপরে ওঠার চেষ্টা করা, আপনার প্রজাতির প্রভাবের পরিসীমাকে আরো একটু বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া। এজন্য গতির বিশ্বরেকর্ড ভাঙার প্রযোজন হলে তাও করতে হবে। যদি কোনোমতে আরেকটু উপরে উঠতে পারেন তাহলে সেখানে একটি স্যাটেলাইট স্থাপন করতে পারবেন, পাঠাতে পারবেন নভোচারীদেরও। খেলতে খেলতে যত াভিজ্ঞতাই পান সবগুলোকেই আবার কাজে লাগাতে পারবেন। গেমের নাম থেকেই বুঝতে পারছেন, এই গেমে আপনাকে বেশির ভাগ সময়ই কাটাতে হবে একটি স্পেসপোর্টে বসে, ট্রায়াল এন্ড এরর তথা ভুল শুধরানোর এক অন্তহীন প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই স্পেসপোর্টে বসে আপনার মহাশূন্য অভিযান পরিচালনা করতে হবে। গেমটির আবহের মধ্যে এমন কিছু একটা আছে যা আপনার মনে উপভোগ্যতার এক আবেশ তৈরি করবে। এর সাউন্ডট্র্যাকটিও অসাধারণ, এটি আপনার মাথা ঘুরিয়ে দেবে না, বরং আপনাকে গেমের পরিবেশের মধ্যে নিবিষ্ট হয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগাবে। এই গেমে সোজাসাপ্টা ‘ইজি’ থেকে ‘হার্ড’ ডিফিকাল্টি সেটিং সেট করা যায়। এর স্যান্ডবক্স মোডটি গেমের সমস্ত অংশকে আপনার সামনে উন্মুক্ত করে দেয় যাতে করে আপনি নিজের মনের মত করে গেমটি খেলতে পারেন। সায়েন্স মোড ব্যবহার করে গবেষণা ও উন্নয়নের পেছনে সময় ও মেধা খরচ করতে পারবেন। আছে ক্যারিয়ার মোড নামে একটি মোডও যেখানে আপনি পরিপূর্ণ একটি স্পেস প্রোগ্রাম পরিচালনার আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন। এসব মোডের মধ্য দিয়েই এগিয়ে যাবে গেমটি, যারা স্পেসভিত্তিক গেমের ভক্ত তাদের কাছে এটি ভাল না লেগে পারবে না।

click kerba2l3
গেমটি খেলতে যা লাগবে
অপারেটিং সিস্টেম: উইন্ডোজ ৮/৭ এসপি১/ভিস্তা এসপি২
প্রসেসর: ইন্টেল কোর টু ডুয়ো ই৬৬০০, ২.৪ গিগাহার্টজ
র‌্যাম: ৩ গিগাবাইট
গ্রাফিক্স: ইন্টিগ্রেটেড গ্রাফিক্স
সাউন্ড: ইন্টিগ্রেটেড
মনিটর: ১২৮০ী৭২০ পিক্সেল ন্যূনতম
ডিরেক্টক্স: ডিএক্স৯
ফ্রি হার্ড ডিস্ক স্পেস: ২ জিবি
click kerbal3

Please Share This Post.