কেমন দেখতে হবে ভবিষ্যতের কম্পিউটার: বিশেষজ্ঞদের চোখে

আমার মতে ভবিষ্যতে পারসোনাল কম্পিউটার হয়ে যাবে খুব বেশি পারসোনাল। বর্তমানে আমাদের কম্পিউটার ইন্টারফেসগুলো স্পর্শ ও কণ্ঠস্বরের মতো পেরিফেরাল নার্ভাস সিস্টেম, আর আউটপুট হচ্ছে কান এবং চোখ। ভবিষ্যতের পারসোনাল জগতে আমরা সরাসরি আমাদের মস্তিষ্ক থেকে কাজ করব, থ্রিডি ন্যানোইলেকট্রনিক্স আমাদের নিজেদের নিউরাল নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হয়ে কাজ করবে। আমরা এরই মধ্যে সাইবর্গ টিস্যুর ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করে ফেলেছি এবং ইলেকট্রনিক্সকে কীভাবে ব্রেইনের সাথে যুক্ত করা যেতে পারে তার প্রদর্শসীও হয়ে গেছে। কাজেই দেকার্তের কগিটো আরগো সাম এর অনুকরণে আমি বলতে পারি, আমার দৃষ্টিতে ভবিষ্যতের কম্পিউটিং হচ্ছে -আমি ভাবি, কাজেই এটি ঘটে। চার্লস এম. লাইবার
অধ্যাপক, রসায়ন, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি

অ্যান্ডি অ্যাডামাট্জকি
ডিরেক্টর, আনকনভেনশানাল কম্পিউটিং সেন্টার, ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্ট ইংল্যান্ড

আমার মতে, ভবিষ্যতে পারসোনাল কম্পিউটিং হবে অনেক বেশি ইন্ট্রা পারসোনাল ও ইন্ট্রা সেলুলার। মানবশরীরের প্রতিটি নিউরন নিজে নিজে বাড়তে পারে, নিজেকে মেরামত করতে পারে এমন একটি মলিকিউলার নেটওয়ার্কের হাতে হাইজ্যাক হয়ে যাবে। তখনকার কম্পিউটারগুলো হবে পলিমার ফিলামেন্ট যেগুলো মানবশরীরের ভেতরে এবং মানবশরীরের সাথে সাথে বাড়তে থাকবে। এসব নেটওয়ার্কের বীজকে শিশুর ভ্রুণের মধ্যে প্রবিষ্ট করানো হবে। এক পর্যায়ে তারা মানুষের শরীরের ভেতর একটি বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরি করবে। কাজেই কম্পিউটার তখন আমাদের শরীরের ভেতরেই অবস্থান করবে। তারা সমস্ত জীবিত বস্তুর মধ্যে অবস্থান করে একটি যৌথ কম্পিউটার নেটওয়ার্ক স্থাপন করবে।

রানা এল-কালিউবি
চিফ স্ট্র্যাটেজি এন্ড সায়েন্স অফিসার, অ্যাফেক্টিভা

আমাদের ডিভাইসগুলোর মধ্যে থাকবে একটি ইমোশন চিপ, অনেকটা হাল আমলের জিপিএস লোকেশন চিপের মত। এটি অপটিক্যাল সেন্সরসহ নানা রকমের সেন্সর ব্যবহার করে আমাদের আবেগকে পড়বে। আমাদের চেহারার নানা মনোভাব, কণ্ঠস্বর ইত্যাদিকে বিশ্লেষণ করবে। এছাড়া আমাদের আবেগের প্রতিক্রিয়ায় এরা নানা কাজও করবে। ধরুন আমার আয়না আমার চেহারা দেখে বুঝল আমার মনমেজাজ খারাপ, তখন সে আমার সোশ্যাল রোবট, আমার গাড়ি এবং ওয়্যারাবল ফোন ওয়াচ হেল্থ ডিভাইস-এর সাথে যোগাযোগ করবে, যতে করে তারা আমার এই বদলে যাওয়া মেজাজের সাথে খাপ খাওয়ায়। এই মুড-সচেতন ইন্টারনেট অব থিংস-এর জগতে এই ইমোশন চিপ – যে কিনা আমাদের কথামত সবসময় কাজ করবে -প্রযুক্তির সাথে আমাদের মিথস্ক্রিয়াকে করবে আরো বেশি নির্ভেজাল ও মানবিক।

উইনফ্রেড হেনসিঙ্গার
অধ্যাপক, কোয়ান্টাম টেকনোলজিস, ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স

ওয়্যারলেস ইন্টারনেটের গতি যে হারে বাড়ছে তাতে করে ডাটা প্রসেসিং আর আপনার পারসোনাল কম্পিউটারের ভেতর হবে না, হবে দূরবর্তী কোনো শক্তিশালী মেশিনে, যেটি ক্লাউডের সাথে আপনার কম্পিউটারের সাথে যুক্ত থাকবে। এসব কম্পিউটার হবে কোয়ান্টাম শক্তিতে পরিচালিত, যেগুলো আজ থেকে ১০ বা বিশ বছরের মধ্যেই উদ্ভাবিত হবে। মাত্র কয়েক মিলিসেকেন্ডের মধ্যেই এসব কম্পিউটার কঠিন সব সমস্যা সমাধান করে ফেলবে যেগুলো সমাধান করতে প্রথাগত একটি কম্পিউটারের হাজার বছর লাগবে। কোড ভাঙা থেকে শুরু করে ডাটা সেট খুঁজে বের করা বা নতুন পদার্থ তৈরির মতো সব কাজই ভবিষ্যতে করা যবে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে।

ডেনিস গার্শবাইন
এক্সিকিউটিভ ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর, ফ্রগ ডিজাইন

পারসোনাল কম্পিউটিং প্রথমে ইন্টারনেটে ব্যক্তির অনন্য সামাজিক অ্যাকসেস এবং তারপর যে ডিভাইস তারা ব্যবহার করে সেটির মাধ্যমে চিহ্নিত হয়েছে। এখন থেকে পরবর্তী দশ বছরে পারসোনাল কম্পিউটিং ডিভাইসগুলো একক বা পারসোনাল কিছুই থাকবে না। তারা হবে পয়েন্ট অব অ্যাকসেস এবং থাকবে নানা জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে। স্ক্রিন, সেন্সর, ডাটা, প্রসেস ও প্লাটফর্ম – এ সবের মধ্যে ছড়িয়ে থাকবে তারা। এটি আপনার হাতে থাকা ঘড়ি বা পকেটে থাকা ফোনের মত হবে না। আপনার ডিভাইস হবে আপনার ডিজিটাল আইডেন্টিটি -যে কোনো স্ক্রিন ও অ্যাকশন থেকে সিস্টেমে প্রবেশের কাজে এটি ব্যবহৃত হবে।

-সিনিউজভয়েস/জিডিটি/২১আগস্ট/১৯ 

Please Share This Post.