কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও শিক্ষাই আনবে শান্তি: টেলিনর গ্রুপের জরিপে

রূপান্তর, অন্তর্ভূক্তি, সামাজিক ন্যায়বিচার ও টেকশই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষে তরুণদের কাজগুলো নিয়ে ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ ডে উদযাপন করে বিশ্বব্যাপি বিভিন্ন সংস্থা। টেলিনর গ্রুপ সম্প্রতি এসব বিষয়ে তরুণদের মতামত জানতে চেয়েছিল  তাতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও শিক্ষার সুযোগ তৈরি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে টেলিনরের জরিপে মতামত দিয়েছে এশিয়ার সাতটি দেশের অধিকাংশ তরুণ প্রজন্ম। এশিয়ার তরুণদের উপর মূলত দুটি জরিপ পরিচালনা করেছে টেলিনর।

শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে তরুণদের মনোভাব, সামাজিক উন্নয়নের লক্ষে প্রযুুক্তির ব্যবহার এবং ভবিষ্যতের জন্য চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিৎ করার উপর জরিপ দুটি পরিচালনা করা হয়। এশিয়ার সাতটি দেশে ১৫-৩০ বছর বয়সী প্রায় ৭,০০০ তরুণদের নিয়ে জরিপ করেছে টেলিনর। গত বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে একটি এবং চলতি বছরের মে মাসে আরেকটি অনলাইন জরিপ চালানো হয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: শান্তি প্রতিষ্ঠায় সর্বোৎকৃষ্ট প্রযুক্তি শান্তি প্রতিষ্ঠায় কোন প্রযুক্তিটি সবচেয়ে কার্যকর বলে মনে হয় এমন প্রশ্ন করা হলে তরুণরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে বেশি গুরুত্ব দেয় ৩২ শতাংশ। এছাড়া ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) ৩০ শতাংশ এবং ভার্চুয়াল রিয়ালিটির পক্ষে ২৮ শতাংশ তরুণ মতামতা দিয়েছে। মতামতের ভিত্তিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) এবং ভার্চুয়াল রিয়ালিটি ছিলো জরিপের শীর্ষ তিনটি বিষয় যেগুলো ভবিষ্যতে সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

তরুণ নেতৃত্ব: আরো বেশি শিক্ষা, আরো বেশি অন্তর্ভূক্তি সামাজিক যে সকল কারণে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে পরিবেশগত নিরাপত্তা, বেকারত্ব কমানো, শিক্ষায় অন্তর্ভূক্তি এবং নাগরিক অধিকার। এগুলোর মধ্যে ৩৭ শতাংশ তরুণ শিক্ষার উপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। ৪৭ শতাংশ তরুণ মনে করে নেতৃত্বদানকারীদের শিক্ষার অন্তর্ভূক্তি বিষয়টির উপর বেশি মনোযোগী হতে হবে যার মাধ্যমে সমান অধিকার ও সুযোগ সৃষ্টির পরিবেশ তৈরি হবে।  তরুণদের মধ্যে ২১ শতাংশ মনে করে জলবায়ু পরিবর্তন ও গ্লোবাল ওয়ার্মিং দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এশিয়ার মিলেনিয়াল রা আরো যেসব বৈশ্বিক ইস্যুকে গুরুত্ব দিয়েছে সেগুলো হলো মানসিক স্বাস্থ্য (১৭%), তরুণদের বেকারত্ব (১৭%) এবং লৈঙ্গিক অসমতা (৮%)।

উদ্ভাবনী, উদ্যোক্তা মনষ্কতা পৃথিবীতে নিজেদের স্থান সম্পর্কে সকল দেশের তরুণই একমত। জরিপের প্রায় ৪০ শতাংশ তরুণ নিজেদেরকে ইতিহাসের সবচেয়ে উদ্ভাবনী এবং উদ্যোক্ত মনস্ক প্রজন্ম হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান ভবিষ্যতে কি ধরনের চাকরিতে তরুণরা নিজেদের দেখতে চায় সে মনোভাব জানতে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ, ভারত, মায়ানমার ও পাকিস্তানের তরুণদের উপর টেলিনর দ্বিতীয় জরিপটি পরিচালনা করেছে। আর এ জন্যে কি ধরনের প্রযুক্তি জ্ঞান ও দক্ষতা দরকার সে ব্যাপারটিও জরিপটিতে উঠে এসেছে। এশিয়ার তরুণরা যেখানে প্রযুক্তিকে আলিঙ্গন করে নিচ্ছে সেখানে প্রযুক্তি বহির্ভূত মানবিক গুনাবলী এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বাংলাদেশ (৩৪ শতাংশ), ভারত (৩৬ শতাংশ) ও পাকিস্তানের (৩৭ শতাংশ) তরুণরা মনে করে ভবিষ্যৎ ভালো একটি কাজ পেতে অন্যদের উজ্জীবিত করা এবং নেতৃত্ব প্রদানের ক্ষমতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ব্যবস্থাপনা ও আবেগপ্রবণ বুদ্ধিমত্তার বিষয়টিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন সিঙ্গাপুরের (২৭ শতাংশ) তরুণরা। অন্যদিকে ২৯ শতাংশ মিয়ানমারের তরুণ মনে করে সৃষ্টিশীলতা ও জ্ঞানভিত্তিক নমনীয়তা বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। মালয়শিয়ার তরুণরা এক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্ন  তাদের ২৪ শতাংশের  মতে মোবাইল ও ওয়েবভিত্তিক উন্নয়ন এবং কোডিং-এ দক্ষতাকে প্রাধান্য দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে টেলিনর গ্রুপের হেড অব স্যোশাল রেসপন্সিবিলিটি ওলা জো তন্দ্রে বলেন, পূর্বের যে কোনো প্রজন্ম থেকে আজকের তরুণরা উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গঠনের ক্ষেত্রে অনেক বেশি সুযোগ পাচ্ছে। তারা সংযুক্ত একটি পৃথিবীতে জন্ম নিয়েছে, আর আমরা জানতে চাই যে তাদের জীবন ও চার পাশের দুনিয়ার উন্নয়নে প্রযুক্তির ভূমিকা সম্পর্কে তাদের কি ধারণা। জীবনের উন্নয়নে ডিজিটাল সেবা ও সংযুক্ততা মৌলিক ভূমিকা পালন করে বলে বিশ্বাস করে টেলিনর। এশিয়ার তরুণরা এ উদ্দেশ্য পূরণে আমাদের সঙ্গে থাকায় আমরা উদ্বুদ্ধ।

তিনি আরো বলেন, টেলিরন ইয়ুথ ফোরামের মাধ্যমে তরুণদের সঙ্গে কাজ করার এটিই মূল কারণ, যেখানে বর্তমান প্রজন্ম যে সব সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছে তা নিরসনে অভিনব সল্যুশনস তৈরির ব্যাপারে আমরা তাদের সহযোগিতা করে থাকি।

-সিনিউজভয়েস

Please Share This Post.