কুয়ালালামপুরে মাইক্রোসফট এর আয়োজনে ’বেট’ সামিটে বাংলাদেশসহ এশিয়ার শিক্ষাবিদরা

শ্রেণিকক্ষে ডিজিটাল প্রযুক্তির গুরুত্ব অনুধাবন করার লক্ষ্যে সম্প্রতি মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত বেট (ব্রিটিশ এডুকেশনাল ট্রেনিং অ্যান্ড টেকনোলজি) এশিয়া সামিটে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরা। সামিটে শিক্ষাখাতে ডিজিটালে রূপান্তর এবং যুগান্তকারী উদ্ভাবন বিষয়ে আলোচনা করেন অংশগ্রহণকারীরা। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল, ডিজিটাল ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষার্থীদের কতখানি এবং কিভাবে প্রস্তুত করা যায়। এ লক্ষ্যে বেট-এর অংশীদার হিসেবে তথ্যবহুল ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণমূলক শিক্ষাগত অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দেয় মাইক্রোসফট, যা এশিয়ার শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভবিষ্যতের জন্য দক্ষতা অর্জনে ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনুন্নত শিক্ষাব্যবস্থার একটি প্রধান অন্তরায়, কারণ উন্নয়নশীল বাজারে শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ উৎপাদনশীলতা ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরিবেশের দিকে নিয়ে যায়। উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার শিক্ষার্থীদের মাঝে উচ্চমানের দক্ষতা তৈরি করে যা শ্রমবাজারে, প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনে এবং জটিল চিন্তভাবনা করার দুয়ার উন্মুক্ত করবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবকে স্বাগত জানাতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত দক্ষতা বৃদ্ধির ব্যাপারে গুরুত্ব দেন এশিয়ার শিক্ষা বিষয়ক নেতৃত্বদানকারীরা। মাইক্রোসফটের এশিয়া ডিজিটাল রূপান্তর জরিপের তথ্য মতে, ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে ৮৭ শতাংশ শিক্ষাবিদ মনে করেন, শিক্ষাব্যবস্থায় ডিজিটাল রূপান্তর অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া, মাত্র ২৩ শতাংশ মনে করেন, ইতিমধ্যে তাদের শিক্ষাব্যবস্থায় ডিজিটাল কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। তবে, সঠিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিক্ষাবিদরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে উপযুক্ত, অংশ্রগ্রহণমূলক এবং ব্যক্তিগতকৃত ডিজিটাল কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করতে পারবেন, একইসাথে শিক্ষকতা পেশায় জড়িত না এমন সব কর্মকর্তাগণও এর গুরুত্ব অনুধাবন করে ডিজিটাল রূপান্তর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবেন।

এ নিয়ে মাইক্রোসফট এশিয়া প্যাসিফিকের এডুকেশন বিভাগের ডিরেক্টর ডন কার্লসন বলেন, ‘ডিজিটাল ডিসরাপশনের ফলে কাজের ধরণ ও পরিচালনায় অনেক পরিবর্তন এসেছে এবং শিক্ষার্থীদের সৃষ্টিশীলতা ও বিশ্লেষণী চিন্তার উন্নয়ন ঘটানোর মতো বিষয়গুলো নিয়ে তাদের ভবিষ্যতের দক্ষতার বিষয়ে প্রস্তুত করে তুলতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর রূপান্তর প্রয়োজন। শিক্ষাখাতে ডিজিটাল রূপান্তর নিয়ে মাইক্রোসফটে আমাদের সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট ধরণ রয়েছে। আমাদের বিশ্বাস, চারটি মূল বিষয়ের মধ্যে এ রূপান্তর অন্তর্ভুক্ত। বিষয়গুলো হচ্ছে: শিক্ষক ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষমতায়ন, শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা, প্রতিষ্ঠানের অনুকূলকরণ এবং ডাটা ও ক্লাউড মূল চালিকাশক্তি ধরে শিক্ষার রূপান্তর।’

এ নিয়ে মাইক্রোসফট বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও লাওসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোনিয়া বশির কবির বলেন, ‘বাংলাদেশের শিক্ষাখাতে সত্যিকার অর্থেই ডিজিটালকরণের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এ গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যের ওপর আমাদের অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করা উচিৎ। এখনই সময়, ভবিষ্যতে এগিয়ে থাকার জন্য আমাদের নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করে এর সম্পূর্ণ সুবিধা গ্রহণ করা।’

শিক্ষাখাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে এ খাত থেকে আরও বেশি কিছু অর্জনের ক্ষেত্রে মাইক্রোসফট শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করছে। সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী, মাইক্রোসফট ৩৬৫ এডুকেশনে অফিসে ৩৬৫ ফর এডুকেশন, উইন্ডোজ ১০, এন্টারপ্রাইজ মবিলিটি + সিকিউরিটি এবং মাইনক্রাফট: এডুকেশন এডিশন যুক্ত করা হয়েছে। সুরক্ষিত উপায়ে নতুন কিছু সৃষ্টিতে এবং কোলাবোরেশনে এটা শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় সবকিছু দিবে। শিক্ষাবিদদের বিশ্বমানের কোলাবোরেশন ও প্রোডাকিভিটি টুলসে বিনামূল্যে সুযোগ দেয়ার মাধ্যমে মাইক্রোসফট নিশ্চিত করছে যেন এশিয়ার ভবিষ্যৎ নেতৃবৃন্দ একই সফটওয়্যারে প্রশিক্ষণ পায়, যা বিশ্বজুড়েই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সরকারকে ক্ষমতায়িত করতে কাজ করবে।

মাইক্রোসফট বিশ্বাস করে, ডিজিটাল রূপান্তর শুধুমাত্র প্রযুক্তির ব্যাপারই নয়, এজন্য প্রয়োজন, ইন্টেলিজেন্স সিস্টেমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন কিছু করতে শিক্ষাক্ষেত্রে নেতৃবৃন্দের বিদ্যমান ব্যবসায়িক মডেল নিয়ে নতুন করে ভাবা এবং ডাটা একত্র করা ও প্রসেস করার ক্ষেত্রে ভিন্ন উপায় গ্রহণ করা। এ রূপান্তরে, ডিজিটাল যুগে সফল হওয়ার ক্ষেত্রে দক্ষতাগুলো প্রদানের মাধ্যমে মাইক্রোসফট বাংলাদেশের শিক্ষাখাতে নেতৃবৃন্দের ক্ষমতায়নে সহায়তা করে আসছে।

-গোলাম দাস্তগীর তৌহিদ

Please Share This Post.