কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ পিকেআই ফোরাম

বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ পিকেআই ফোরাম। নতুন এই ‘বাংলাদেশ পাবলিক কী ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ (পিকেআই) ফোরাম সম্পর্কে অবহিত করতে গত ৭ জুন রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় জানানো হয় নবগঠিত এই ফোরামটি ইতিমধ্যে এশিয়া পিকেআই কনসোর্টিয়ামেরও প্রিন্সিপাল মেম্বার মনোনিত হয়েছে। গত ২৪ মে চীনের ফুজোও অনুষ্ঠিত এশিয়া পিকেআই কনসোর্টিয়ামে বাংলাদেশ এই সদস্য পদ লাভ করে।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পিকেআই ফোরামের সভাপতি এ কে এম শামসুদ্দোহা জানান, মূলত বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত বেসিক নিরাপত্তা ইস্যুগুলো নিয়ে কাজ করবে বাংলাদেশ পিকেআই ফোরাম। তিনি জানান, সরকারের কন্ট্রোলার অফ সার্টিফাইং অথরিটি (সিসিএ) সার্টিফাইং অথরিটি এ পর্যন্ত ৬টি লাইসেন্স ইস্যু করেছে। এই ৬টি কোম্পানী বাংলাদেশ পিকেআই ফোরামের সদস্য। এছাড়া শিক্ষাবিদ ও পেশাজীবিরাও এই ফেরামের সদস্য রয়েছে।

আরো উপস্থিত ছিলেন ইলেক্ট্রনিক স্বাক্ষর সার্টিফিকেট প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ (সিসিএ) এর কন্ট্রোলার আবুল মনসুর মোহাম্মদ শরফুদ্দিন, ডেপুটি কন্ট্রোলার আবদুল্লাহ আল-মামুন ফারুক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয় (বুয়েট) এর কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল ডিপার্টমেন্টের ডীন অধ্যাপক ড. মোঃ কায়কোবাদ, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. সুরাইয়া পারভীন, পিকেআই ফোরামের সাধারন সম্পাদক ও ডাটাএজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশিফুজ্জামান প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় সরকার ই-টেন্ডারিং, কাস্টমস ক্লিয়ারিং ডকুমেন্টস, জয়েন্ট স্টক কোম্পানীর রিটার্ন জমা, আয়কর রিটার্ন, ন্যাশনাল আইডি স্মার্ট কার্ড ইত্যাদি কাজে পিকেআই কার্যকর করতে আগ্রহী। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ২০১২ সালে সার্টিফাইং অথরিটি কার্যক্রম শুরু করলেও এখনো পর্যন্ত সরকারি পর্যায়েও এর কোন উল্লেখ্যযোগ্য ব্যবহার নাই। এখনো পর্যন্ত প্রায় ৫৫ হাজারের মতো ডিজিটাল সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে। বর্তমান সময়ে দিন দিন সাইবার হামলার আশংকা বাড়ছে,  এ প্রেক্ষিতে ডিজিটাল সার্টিফিকেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন একটি বিষয় বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিমত প্রকাশ করা হয়।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের এ সময় সিসিএ এর কন্ট্রোলার আবুল মনসুর মোহাম্মদ শরফুদ্দিন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকারী কার্যক্রমে শ্রীঘ্রই ই-নথি ও ডিজিটাল সার্টিফিকেট ব্যবহার শুরু করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন পিকেআই বিষয়ে জনগনকে আরও ভালোভাবে সচেতন করতে হবে, তাহলে সহজে সফলতা পাওয়া সম্ভব হবে। তিনি দক্ষিন কোরিয়ার উদাহরন দিয়ে বলেন, নাগরিক ই-সেবায় দক্ষিন কোরিয়া এখন এক নম্বর তারা কয়েক বছর আগে এ বিষয়ক সচেতনতা গৃহিনীদের মধ্যে সচেতনতার ম্যাধমে শুরু করেছিলো। এখন তাদের সব নাগরিক সেবা অনলাইনের মাধ্যমে নিরাপদভাবে পাওয়া যাচ্ছে এবং নাগরিকরা তা ব্যবহার করছে।

সংবাদ সম্মেলনে সিএ লাইসেন্স ইস্যু করার পরও এত দীর্ঘ সময় ডিজিটাল সার্টিফিকেট ব্যবহারের হার অত্যন্ত কম থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। এ বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জাননো হয় এ সময়।

-সিনিউজভয়েস

Please Share This Post.