কর্মসৃজনে উদ্যোক্তাদের পাশে দাড়ানোর আহবান

দেশের ক্রমবর্ধমান চাকরি প্রত্যাশী তরুণদের জন্য কর্মসৃজণের বড় অধ্যায় হতে পারে উদ্যোক্তা সৃস্টি। কারণ উদ্যোক্তা কেবল তার নিজের কর্মসংস্থান করে না, বরং অন্যদেরও কাজের সুযোগ তৈরি করে দেয়। এজন্য প্রতিবছরই তরুণদের একটি অংশ যেন উদ্যোক্তা হতে পারে সে জন্য সরকার ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর এগিয়ে আসা প্রয়োজন। ৫ মে ঢাকার ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠিত এক উদ্যোক্তা সম্মাননা অনুষ্ঠানে এ অভিমত ব্যক্ত করেন নীতি নির্ধারক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও সম্মাননাপ্রাপ্ত উদ্যোক্তাগন। “চাকরি খুঁজব না, চাকরি দেব” নামের বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন)-এর একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়েনর এন্ট্রারপ্রিনিয়নর বিভাগ এতে সহযোগিতা করেন। মোট ২৫ জন উদ্যোক্তা সম্মাননা লাভ করেন।

সম্মাননায় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজি এম আমিনুল ইসলাম বলেন ২০৪১ সাল বাংলাদেশকে উন্নত দেশের কাতারে নেওয়ার জন্য দরকার নতুন নেতৃত্ব এবং নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তা। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন তাদের হাত ধরে কেবল কর্মসৃজনই হবে না দেশের অর্থনীতির আকারও ১২ গুণ বৃদ্ধি পাবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত মোহাম্মদী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবানা হক মনে করেন বর্ষীয়ান ও সফল উদ্যোক্তারা তরুণ উদ্যোক্তাদের পাশে তহবিল ও মেন্টরিং নিয়ে পাশে দাড়াতে পারেন। তাদের সহযোগিতা পেলে অনেকেই আগামীতে সফল হতে পারবে। ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান উদ্যোক্তাদের সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, আমাদের নিজেদের বাজার অনেক বড়। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সবার পক্ষে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। চাকরি দেওয়ার পাশাপাশি তিনি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের দক্ষতা ও কর্মকুশলতা বৃদ্ধির জন্য উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার অনুরোধ করেন। অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তাদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়ার জন্য আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও প্রাইভেট ইকুইটি এসোসিয়েশনের সহ সভাপতি জিয়া আহমেদ, এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরোর সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামান, অন্যরকম গ্রুপের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান, ই-কমার্স সাইট চালডালের প্রধান কারিগরি কর্মকর্তা জিয়া আশরাফ, জুমশেপারের প্রধান নির্বাহী কাওসার আহমেদ, ই-কুরিয়ারের সিইও বিপ্লব ঘোষ রাহুল, উইডেভসের সিইও আসিফ রহমান, ডিপার্টমেন্ট অব অন্ট্রারপ্রিনিয়রশীপের বিভাগীয় প্রধান শিবলি সারোয়ার, থিমবাকেটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা  হাসিন হায়দার, ইসকিমির কান্ট্রি ম্যানেজার লুতফি চৌধুরী, দেশের প্রথম বাণিজ্যিক কুমির খামারের উদ্যোক্তা মোস্তাক আহমেদ, ব্রেইন স্টেশনের উদ্যোক্তা রাইসুল কবীর, এসএমই ফাউন্ডেশনের মো. রকিব খান, ফয়েজ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সালেহ মজিদ প্রমূখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিডিওএসএনের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান।

দেশীয় নৃত্যর প্রচার, প্রসার এবং নৃত্যকে কেন্দ্র করে বিশেষ উদ্যোগ তুরঙ্গমী রেপারিটরি ড্যান্স থিয়েটার প্রতিষ্ঠার জন্য  নুরুল কাদের সম্মাননা-২০১৭ লাভ করেন পূজা সেনগুপ্ত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থ বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর করার পর পদার্থবিজ্ঞানী হওয়ার সুযোগ ছেড়ে দিয়ে পূজা তাঁর ভালবাসার নাচকেই গ্রহণ করেন পেশা হিসাবে এবং দেশে ও বিদেশে দেশীয় নৃত্যগীতের নতুন ধারা প্রবর্তনের জন্য তুরঙ্গমী গড়ে তুলেন। সম্মাননা পাওয়ার পর পূজা তার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন – বাক্সের বাইরে চিন্তা করা এবং সেটিকে কাজে নামিয়ে দেওয়ার পর এই সম্মাননা প্রাপ্তি তাঁকে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। চট্টগ্রামে ভিন্ন ধারার রেস্তোরা প্রতিষ্ঠার পথিকৃৎ মনজুরুল হক পেয়েছেন ইউসুফ চৌধুরী সম্মাননা ২০১৭। এই উদ্যোক্তা এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠা করেছেন বারকোড ক্যাফে, বারগুইচ টাউন ক্যাফে, মেজ্জান হাইলে আইয়্যুন, বীর চট্টলা, বারকোড জিইসি, বারকোড মেরিনা ক্যাপেল্লা, দোসা লাভার্স। ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের গন্ডি পেরিয়ে বারকোডের দুইটি শাখা সফলভাবে চালু হয়েছে ঢাকার বনানী এবং গুলশানে। চট্টগ্রামে ঐতিহ্যবাহী মেজবান, বিয়ের খাওয়া প্রভৃতিকে সবসময়ের জন্য উন্মুক্ত রাখা এবং চট্টগ্রামে রেস্তোরা সংস্কৃতির ভিন্নধর্মী প্রসারের প্রচেষ্টা নিয়ে এই কাজ শুরু করেছেন বলে তিনি জানান। তার কারণে ইতিমধ্যে চট্টগ্রামে এক ঝাঁক তরুণ খাবারের উদ্যোক্তার আবিভাব হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তা সম্মাননা পেয়েছে ১২টি উদ্যোগ। এগুলো হলো ড চিং চিং এর ফিনারী, রিজওয়ানা রশীদের ম্যাজিক রুটি মেকার, সিদ্দিকাতুল হকের স্পর্শ ডে-কেয়ার, আমিনুল ইসলামের শাহিন’স হেল্পলাইন, মোস্তফা দিপুর এনেক্স বাংলাদেশ, সুলতানা পপির রংধনু একাডেমি, দেওয়ার রকিব শাহর পিইট ডট কম ডট বিডি, আকাশ খান ও নামমুণ সানজির ল’ফতো, শাহানা বেগমের ফাইন ফেয়ার ক্র্যাফট, মাইনুল হাসানের ডি স্মার্ট কালেকশন, সানাউল মাওলা ও তারিকুল মাওলার সফটটেক-আইটি লিমিটেড ও তাফসির আহমেদের ডিজিটাল ভাস্ট।

এছাড়া অনুষ্টানে ১১ জন নবীন উদ্যোক্তাকে দেওয়া হয় নবীন উদ্যোক্তা স্মারক। এরা হলেন রেপটো অনলাইন এডুকেশনের ইশতিয়াক সায়েম, টার্গেটিভের জাকির হোসেন খান, হ্যান্ডিমামা ডট কো’র শাহ পরান, ফ্রুইজারের মো. গোলাম মোর্শেদ, এক্সরোবো ক্যাফের মহিবউল্লাহ মাহী, গ্রাম্পিফিশের সামিয়া বিনতে আলমগীর ও নবনীতা রায়, এসকেইপ মিস্টের সাদিত সেলিম, ইশতিয়াক খান, কাজি মাহিন মাহবুব ও আবুল খায়ের চৌধুরী,  যান্ত্রিকের আল ফারুক শুভ, রকেট কুরিয়ারের মো. নাহিদুল ইসলাম, খাস ফুডের এ এম এম হাবিবুল মুস্থাফা এবং বার্গার এ কেল্লা ফ’তের ফাহমিদা মিশু।
অনুষ্ঠান শেষে চরথি বছর এমএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বর্ষ সেরা উদ্যোক্তা নির্বাচততি হয়ওয়ায় এম এশ প্লাস্টি ইন্ডাস্ট্রিজের মোহাম্মদ গাজী তৌহিদুর রহমানেক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরে গ্রুপের সকলে মিরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন।

উল্লেখ্য ২০১১ “চাকরি খুঁজব না, চাকরি দেব” প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৪ সাল থেকে এই সম্মাননা চালু করা হয়েছে এবং এ পর্যন্ত ৪৪ জন নবীন উদ্যোক্তা ও ৬৫ জন উদ্যোক্তাকে সম্মানিত করা হয়েছে।

সিনিউজভয়েস//ডেস্ক/

Please Share This Post.