কম খরচ ও সহজে অ্যাপ নির্মাণের কৌশল

অ্যাপ তৈরি করতে চান? অতীতে এমন একটা সময় ছিল যখন এজন্য অনেক পয়সাপাতি খরচ করে মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপারদের কাছে ধরনা দিতে হত। কিন্তু এখন ডু-ইট-ইয়োরসেলফ অ্যাপ বিল্ডার টুলের কল্যাণে কোনোরকম কারিগরি দক্ষতা না থাকলেও আপনি বানিয়ে ফেলতে পারবেন অ্যাপ। একেবারে শূন্য থেকে শুরু করে শক্তিশালী একটি অ্যাপ তৈরি করতে অনেক টাকা খরচ হলেও এ ধরনের টুলের কারণে এ খরচকে অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। নিচে এরকমই কিছু অ্যাপ নির্মাণ টুলের কথা জানানো হল যেগুলোর সাহায্যে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব অ্যাপ তৈরি করে মোবাইল ডিভাইসের মাধ্যমে ক্রেতাদের সাথে সরাসরি সংযোগের একটি উপায় খুঁজে নিতে পারে।

বিল্ডফায়ার (BuildFire) : বিল্ডফায়ারের উদ্দেশ্য হচ্ছে, ক্ষুদ্র ব্যবসায় উদ্যোক্তারা যাতে নিজের মোবাইল অ্যাপ তৈরি করতে পারেন সে ব্যবস্থা করা। এই সেবার মাধ্যমে অ্যাপ তৈরির দুটো উপায় আছে: নিজেই কাজটা করুন অথবা একজন বিল্ডফায়ার অ্যাপ ডেভেলপারকে দিয়ে করিয়ে নিন। নিজেই কাজটা করতে চাইলে বিল্ডফায়ারের ‘ক্লিক অ্যান্ড এডিট’ ড্যাশবোর্ড ব্যবহার করুন। কোনোরকম কোডিংয়ের ঝামেলামুক্ত এই প্লাটফর্ম কারিগরি দক্ষতাহীন মানুষকে অল্প সময়ে উ”চমানসম্পন্ন অ্যাপ তৈরির ক্ষমতা দেয়। ইউজাররাও অতি সহজে অ্যাপের ডিজাইন, রঙ, লেআউট, কনটেন্ট ইত্যাদি পরিবর্তন করতে পারেন। বিল্ডফায়ার অ্যাপে কয়েকটি জরুরি ফিচার আছে, যেমন পুশ নোটিফিকেশন, ক্যালেন্ডার ইন্টিগ্রেশন, স্ট্রিমিং ভিডিও, এম-কমার্স ও ই-কমার্স। বিল্ডফায়ারের কাস্টমার সার্ভিসও অসাধারণ। এটি ব্যবহার করতে কোনো পয়সা দিতে হবে না, তবে সেটা সাময়িক। এর প্রিমিয়াম প্ল্যান কেনার জন্য খরচ করতে হবে ৫০ মার্কিন ডলারের মত।

কোমো (Como) : কোমো-র পূর্ববর্তী নাম ছিল কনডুইট মোবাইল। এটি একটি থ্রি-ইন-ওয়ান অ্যাপ মেকার যেটির সাহায্যে সব ধরনের প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব মোবাইল অ্যাপ তৈরি, প্রমোট ও ব্যবস্থাপনা করতে পারে। কোমো কনসোল নামে পরিচিত এর নতুনভাবে ডিজাইন করা অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট প্লাটফর্ম দিয়ে নানারকম থিম, রঙ, আইকন, লেআউট, স্টাইল ও ব্যাকগ্রাউন্ডের সমন্বয়ে প্রফেশনাল ধরনের অ্যাপ তৈরি করতে পারবেন। এছাড়া আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে পরিচালনা করার জন্য এতে আছে নানা ধরনের ফিচার, যেমন মাইচেক ব্যবহার করে ইন-অ্যাপ মোবাইল পেমেন্ট গ্রহণ করার সুবিধা, অনলাইন অর্ডারিংয়ের সাহায্যে ক্রেতাদেরকে ইন-অ্যাপ অর্ডার দেয়ার সুবিধা, কাস্টমার ডেলিভারি ট্র্যাকিংয়ের সুবিধা ইত্যাদি। এটি কেবল একটি ডু-ইট-ইয়োরসেলফ মোবাইল অ্যাপ বিল্ডারই নয়, এটি অ্যাপ ডিস্ট্রিবিউশন ও ব্যবস্থাপনায়ও সাহায্য করে। কোমো-র Marketing Genie সুবিধা ব্যবহার করে অন এবং অফলাইনে আপনার অ্যাপকের প্রচার-প্রচারণা করতে পারবেন। এর মধ্যে আছে ফেসবুক অ্যাডভার্টাইজিং ক্যাম্পেইনসহ কিউআর কোড, উইন্ডো স্টিকার, সার্টিফিকেট ইত্যাদি ইন-স্টোর প্রমোশন উপকরণ তৈরির সুবিধাও। কোমো-র ম্যানেজমেন্ট ড্যাশবোর্ড-এর সাহায্যে কাস্টমার রিজার্ভেশন, অর্ডারিং, ডেলিভারি, কুপন, ইন-অ্যাপ সেলস ও অন্যান্য আয়বর্ধনকারী কর্মকা- পরিচালনা করা যায়। সকল প্রধান মোবাইল ডিভাইসের জন্য কোমো-র অ্যাপ রয়েছে। আমাজেরন সঙ্গে সাম্প্রতিক একটি অংশীদারিত্বের সুবাদে আমাজন অ্যাপস্টোর থেকে ডাউনলোড করার জন্য কোমো অ্যাপ পাবলিশ করাও সম্ভব। কোমো দিয়ে সর্বোচ্চ পাঁচটি ডাউনলোডের জন্য ফ্রি অ্যাপ তৈরি করা যাবে। আর আনলিমিটেড ডাউনলোড এবং নানারকম ফিচারে ঠাসা কোমো অ্যাপ তৈরির জন্য মাসিক ৩৩ ডলার থেকে শুরু করে নানা ফি-র কোমো সেবা আছে।

ট্যাপলাইটিক্স (Taplytics)) : ট্যাপলাইটিক্স প্লাটফর্ম একটি নেটিভ মোবাইল এ/বি টেস্টিং সল্যুশন যেটি গোটা একটি টিমের জন্য অ্যাপ নির্মাণের সুবিধা দেয়। টিম বলতে প্রোডাক্ট ম্যানেজার থেকে শুরু করে ডিজাইন ও ডেভেলপার সবাই আছেন। সবাই মিলে কোনোরকম কোড বা অ্যাপ্রুভালের প্রয়োজনীয়তা ছাড়াই অ্যাপ নির্মাণ ও আপডেট করতে পারেন। এর ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো একটি স্ট্র্রিমলাইন্ড প্লাটফর্মে থেকে নিজেদের মূল কাজের (core jobs) ব্যাপারে মনোনিবেশ করতে পারে। ট্যাপলাইটিক্সের মূল উদ্দেশ্য হল, ওয়েবভিত্তিক ভিজুয়াল অ্যাপ এডিটর ব্যবহার করে ইনস্ট্যান্ট অ্যাপ আপডেট প্রদান করা। ট্যাপলাইটিক্সের সর্বসাম্প্রতিক ভারসনে আছে নতুন কয়েকটি ফাংশনালিটি। যেমন, অন-ডিভাইস মেন্যু, কাস্টম গোল ও কোড-বেস্ড এক্সপেরিমেন্টস। এসব সুবিধার কারণে মোবাইল টিম এখন সফল অ্যাপ রান করা ও এগুলো নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য পাবে। ট্রায়ালভিত্তিক ব্যবহারের জন্য এর একটি ফ্রি ভারসন থাকলেও মূল ভারসনটি ব্যবহারের জন্য মাসে ১০০ ডলারের মত চাঁদা দিতে হবে।

অ্যাপসবার (appsbar) : অ্যাপসবার একটি অ্যাপ নির্মাতা ও প্রকাশক যারা ব্যবহারকারীদের সৃষ্টিশীল অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ছাড়াও আইওএস, উইন্ডোজ ফোন ও ব্ল্যাকবেরি ডিভাইসের জন্য এইচটিএমএল৫ অ্যাপস তৈরিরও সুযোগ দেয়। এর নেপথ্যে আছেন এমন একদল অ্যাপ ডেভেলপার যারা উচ্চমানের অ্যাপ তৈরিতে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। অ্যাপসবারে অ্যাপ তৈরি করা তিন ধাপের একটি প্রক্রিয়া। প্রথমে ৩৭টি অ্যাপের ধরন থেকে একটি ধরন বেছে নিতে হয়। এসবের মধ্যে আছে জেনারেল বিজনেস, অনলাইন বিজনেস, রেস্টুরেন্ট, স্যালন, জিম, ইভেন্ট প্ল্যানিং ইত্যাদি। এরপর নানারকম ফিচার দিয়ে সাজিয়ে আপনার অ্যাপ তৈরি করে ফেলুন। এসব ফিচারের মধ্যে আছে মেন্যু চয়েস, পেজেস, মাল্টিমিডিয়া, ফর্ম, সোশ্যাল লিংকস ও অন্যান্য কনটেন্ট। অ্যাপ তৈরির সময় প্রিভিউ দেখে দেখে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার মাধ্যমে কাজটি সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে পারেন। সব শেষে আপনার অ্যাপ পাবলিশিং-এর জন্য অ্যাপসবারের ডেভেলপারদের কাছে সাবমিট করতে হবে। তাঁরা এটি রিভিউ করবেন এবং আপনার অ্যাপটি যাতে তাদের স্টোরের স্ট্যান্ডার্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় সেটি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবর্তনও আনতে পারেন। অ্যাপসবারের সাহায্যে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের অ্যাপগুলোকে প্রমোটও করতে পারে। একবার প্রকাশিত হয়ে গেলে ইউজাররা তাদের অ্যাপকে অ্যাপ অ্যাপ বিল্ডার থেকে ফেসবুত, টুইটার, গুগল+ ইত্যাদি জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ প্লাটফর্মে সরাসরি শেয়ার করতে পারবে। এছাড়া অ্যাপল অ্যাপস্টোর বা গুগলপ্লে-র মত বড় ধরনের অ্যাপ মার্টেপ্লেসেও এগুলোকে প্রকাশ করা সম্ভব। এখানেই শেষ নয়। আছে অ্যাপসবারের নিজস্ব ফ্রি অ্যাপ মার্কেটপ্লেস ‘অ্যাপক্যাচ’। সেখানেও এগুলোকে প্রকাশ করার সুযোগ আছে। সেখানে কাস্টমার, সম্ভাব্য ক্লায়েন্ট ও পার্টনাররা আপনার অ্যাপ ডাউনলোড করতে পারবে। অ্যাপসবার পুরোপুরি ফ্রি। অ্যাপ তৈরি বা প্রকাশ, কোনোকিছুর জন্যই কোনো টাকা দিতে হবে না।

অ্যাপি পাই (Appy Pie) : অ্যাপি পাই-কে বলা হয় সময়ের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল ডু-ইট-ইয়োরসেলফ মোবাইল অ্যাপ বিল্ডিং টুলগুলোর একটি। এর ড্র্যাগ অ্যান্ড ড্রপ প্লাটফর্ম ব্যবহার করে আইওএস, অ্যান্ড্রয়েড, উইন্ডোজ ফোন ও ব্ল্যাকবেরিসহ সকল প্রধান প্লাটফর্মের জন্য মোবাইল অ্যাপ তৈরি করা যায় সহজেই। এতে তৈরি করা প্রতিটি অ্যাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট অ্যাপ স্টোরগুলোতে পাবলিশ হয়ে যায়, যার মধ্যে অ্যাপি পাইয়ের নিজস্ব মার্কেটপ্লেসও আছে। অ্যাপি পাই অ্যাপ-এর বদৌলতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের কাস্টমারদের সাথে সার্বক্ষণিক সংযুক্ত থাকার উপযোগী পূর্ণাঙ্গ ফিচার সেট পেয়ে যায়। অ্যাপি পাই অ্যাপমেকার দিয়ে অ্যাপে পুশ নোটিফিকেশন, সোশ্যাল মিডিয়া ও ব্লগ ইন্টিগ্রেশন, ফটো গ্যালারি ও শেয়ারিং ক্যাপাবিলিটি যুক্ত করা যায়। এছাড়াও এতে পাওয়া যায় কয়েকটি বিজনেস টুল, যেমন অ্যাপয়েন্টমেন্ট শিডিউলার, ওপেন টেবিল, গ্রাবহাব ও মেন্যু বিল্ডারের মত রেস্টুরেন্ট টুল, পাসবুক কুপন, স্ট্র্যাটেজিক লোকেশন ভিত্তিক মার্কেটিংয়ের জন্য জিপিএস ট্র্যাকিং এবং কনটাক্ট ফিচার, যার মধ্যে আছে ওয়ান-টাচ কলিং, কিউআর কোড ও ওয়েবসাইট ইন্টিগ্রেশন। অ্যাপি পাইয়ে আরও আছে অনেকগুলো অ্যাপ ম্যানেজমেন্ট টুল যার সাহায্যে অ্যাপ-এর পারফরম্যান্স ভালভাবে পরিমাপ করা এবং ব্যবহারকারীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা যায়। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, অ্যাপ অ্যানালিটিক্স, রিয়েল-টাইম রিভিশন ও আপডেট, কাস্টম কোডিং ও অ্যাপ মানিটাইজেশন। ব্যবহারকারীরা অ্যাপি পাই ব্যবহার করে বিনে পয়সায় এইচটিএমএল৫ অ্যাপ তৈরি করতে পারেন। অ্যাপ পাবলিশিংয়ের জন্য আছে তিনটি সাবস্ক্রিপশন প্ল্যান, যার মধ্যে সর্বনিম্নটিতে আছে একটিমাত্র অ্যাপ-এর জন্য মাসে ৭ মার্কিন ডলার চাঁদার ব্যবস্থা। প্রতিটি প্ল্যানের সঙ্গে থাকবে একটি ফ্রি মোবাইল ওয়েবসাইট। পয়সার বিনিময়ে যত প্ল্যান আছে তার প্রতিটিতেই কাস্টমার সাপোর্টের ব্যাপারটি অন্তর্ভুক্ত আছে।

ইচস্কেপ (EachScape) : ইচস্কেপ একটি ব্রাউজারভিত্তিক ড্র্যাগ অ্যান্ড ড্রপ অ্যাপ-বিল্ডার যেটির সাহায্যে ব্যবহারকারীরা কাস্টমাইজড, উচ্চমানের আইওএস, অ্যান্ড্রয়েড ও এইচটিএমএল৫ অ্যাপ তৈরি করতে পারেন। বিশ্বের অনেক খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান ইচস্কেপ ব্যবহার করে যাদের মধ্যে আছে এনবিসি, সিবিএস, ডিসকভারি ও কেলগ’স। ইচস্কেপ যেহেতু টেম্পলেটের ওপর নির্ভর করে না সেহেতু এই অ্যাপ নির্মাণ প্লাটফর্ম ব্যবহার করে কাস্টমাইজেবল, ফিচারসমৃদ্ধ নেটিভ ও এইচটিএমএল৫ অ্যাপ তৈরি করা যায় সহজেই। এর ফিচারগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে লোকেশনভিত্তিক সেবা, পুশ নোটিফিকেশন, লাইভ স্ট্রিমিং ও ব্যাপকভিত্তিক সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ইন্টিগ্রেশন যার মধ্যে ফেসবুক, টুইটার ও লিংকড্ইন ছাড়াও আছে আরো অনেক সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম। ইচস্কেপের সুযোগ-সুবিধার মধ্যে আরো আছে ক্লাউড সিএমএস, যার মধ্যে আপনার অ্যাপে শক্তি জোগায় এমন সব টেক্সট, ইমেজ, অডিও ও ভিডিওকে সংরক্ষণ করে রাখা যায়। এছাড়াও আছে ডাটা ম্যানেজার যেটি নানা ধরনের ডাটা সোর্স, যেমন আরএসএস ও এক্সএমএল-এর সাথে মিলে কাজ করতে পারে। ইচস্কেপের আরেকটি সুবিধা হচ্ছে, এতে আছে অগ্রসর অ্যাপ ম্যানেজমেন্ট টুলস। যেমন, ইউজার ম্যানেজমেন্ট; এর মাধ্যমে অ্যাডমিনিস্ট্রেটরা নানা ধরনের ইউজারকে নানা ধরনের পারমিশন দিতে পারেন। এছাড়া আছে থার্ড পার্টি অ্যানালিটিক্স; এটি হচ্ছে ইচস্কেপ-এর নিজস্ব অ্যানালিটিক্স, যেটি অমনিচার (Omniture), ফ্লারি (Flurry) ও গুগল অ্যানালিটিক্স (Google Analytics) -এর সাথে ইন্টিগ্রেট করা। ইচস্কেপে আরও আছে ফ্রি ট্রায়ালের সুবিধা।

অ্যাপমেক্র (AppMakr) : অ্যাপমেক্র হচ্ছে একটি ফ্রি ডু-ইট-ইয়োরসেলফ অ্যাপ নির্মাণ প্লাটফর্ম যেটি দিয়ে আইওএস ও অ্যান্ড্রয়েড-এর জন্য শক্তিশালী নেটিভ অ্যাপ করা যায় এবং এজন্য কোনো ধরনের কোডিং জানারও দরকার হয় না। অ্যাপমেক্র-এর সাহায্যে নানান প্রতিষ্ঠান নিজেদের চাহিদানুযায়ী অনেক উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অ্যাপ তৈরি করতে পারে এবং এতে অসীম সংখ্যক আপডেটও নিয়ে আসতে পারে। এর ফিচারগুলোর মধ্যে আছে পুশ নোটিফিকেশন, এইচটিএমএল৫ ফাংশানালিটি, হাই রেজুল্যশনের ফটো গ্যালারি, লাইভ আপডেট এবং ব্র্যান্ডিং ও ডিজাইন কাস্টমাইজেশন। অতিরিক্ত ফিচারের মধ্যে আছে নেভিগেশন টুল, ট্যাব ভিউয়িং ও মানিটাইজেশন। আইফোন অ্যাপ বানাতে চান? অ্যাপমেক্র-এর মাধ্যমে পরীক্ষামূলক ভিত্তিতে অ্যাপ প্রকাশ করার সুযোগ আছে যাতে অ্যাপস্টোরে প্রকাশ করার আগে একটি অ্যাপ কেমন কাজ করে তা জেনে নেয়া যায়। এছাড়া অ্যাপ নির্মাণের গোটা প্রক্রিয়াটি জুড়ে অ্যাপমেক্র অ্যাপটির অ্যাপ কোয়ালিটি ইনডেক্স বা একিউআই প্রদর্শন করে। এটি এমন একটি মিটার যার মাধ্যমে বোঝা যাবে আপনার অ্যাপটির অ্যাপল-এর রিভিউ প্রক্রিয়াতে প্রত্যাখ্যাত বা গৃহীত হওয়ার সম্ভাবনা কেমন। অ্যাপমেক্র-এর সাথে অন্যান্য অ্যাপনির্মাণ টুলের একটি বড় পার্থক্য হচ্ছে, এতে আপনার তৈরি অ্যাপ-এর ওপর আপনার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে। এটি দিয়ে তৈরি সমস্ত অ্যাপ আপনার নিজস্ব ডেভেলপার আকাউন্ট ও ব্র্যান্ডের অধীনে নির্মিত হয়, অ্যাপমেক্র-এর নিজস্ব ব্র্যান্ডের অধীনে নয়। এটি ফ্রিতেই ব্যবহার করতে পারবেন, তবে বিজ্ঞাপন দেখতে হবে। যদি চান ডেডিকেটেড মানিটাইজেশন অপশন, স্ক্রল মেন্যু নেভিগেশন, কাস্টম ইমেজ, ভিডিও ওয়ালপেপারসহ নানারকম ফিচারে সমৃদ্ধ ও বিজ্ঞাপনমুক্তভাবে অ্যাপমেক্র ব্যবহার করবেন, তাহলে প্রতি মাসে ৭৯ ডলার হারে চাঁদা দিয়ে এর প্রিমিয়াম অ্যাকাউন্টটি কিনতে হবে।

 

-সিনিউজভয়েসইন্টা./জিডিটি/১২নভে./১৯

 

 

Please Share This Post.