কম্প্রেসর উৎপাদনে ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি

স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের প্রযুক্তি শিল্পে সবচেয়ে সফল ইলেকট্রনিক্স খাতের উদ্যোক্তারা; বিশেষ করে রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার এবং এসি উৎপাদনকারীরা। এজন্য গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রেখেছে সরকারের যথাযথ নীতি সহায়তা। কিন্তু এই সহায়ক নীতি আগামি জুনের পর থাকবে কি না তা নিয়ে শঙ্কিত উদ্যোক্তারা। আর তাই এ খাতের পূর্নাঙ্গ বিকাশে বিদ্যমান সুবিধা অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে দেশে তৈরি কম্প্রেসরের ক্ষেত্রে আরোপিত ভ্যাট ও শুল্ক বৈষম্য এ শিল্পকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। স্থানীয়ভাবে কম্প্রেসর উৎপাদনে বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার এবং কাঁচামাল আমদানিতে ভারসাম্যমূলক শুল্ক আরোপের দাবি জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

বিগত কয়েক বছর ধরে ফ্রিজ এবং এসি উৎপাদন খাত আশানুরূপ উন্নতি সাধন করেছে। মোট চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ যোগান দিচ্ছেন স্থানীয় উৎপাদকরা। ফ্রিজ এসি উৎপাদনে দেশ প্রায় স্বয়সম্পূর্ন; আমদানি না করলেও চলে। এমনকি এসব পণ্য এবং আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশ রপ্তানিও হচ্ছে। ২০২০ সাল নাগাদ ১০০ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানির টার্গেট রয়েছে। এটা সম্ভব হয়েছে কিছু স্বপ্নবাজ উদ্যোক্তা এবং সরকারের নীতি সহায়তার কারণে। ভ্যাট অব্যাহতি এবং অন্যান্য শুল্ক সহায়তা এ খাতকে বিকশিত করছে। তবে পূর্ণাঙ্গ বিকাশে দরকার বিনিয়োগ বাড়ানো। কিন্তু আগামি জুনের পর এই সহায়তা না-ও থাকতে পারে। কারণ সবশেষ দুই বছরের জন্য প্রদেয় সুবিধা আগামি জুনেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত বিকাশমান এ খাতকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করাতে হলে সরকারের এই সহায়তা অব্যাহত রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

উদ্যোক্তাদের মতে, এক সময় ফ্রিজ ও এসির বাজার ছিলো পুরোটাই আমদানি নির্ভর। এখন দেশেই এসব পণ্য তৈরি করছে ওয়ালটন, মিনিস্টার, প্রাণ, যমুনার মত কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠান। দেশের চাহিদা মিটিয়ে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ খ্যাত ফ্রিজ, এসি রপ্তানি হচ্ছে এশিয়া, মধ্য-প্রাচ্য, আফ্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। সম্প্রতি, স্যামসাং এলজিসহ কিছু বহুজাতিক ব্র্যান্ড এদেশে ফ্রিজ, এসি কারাখানা স্থাপন করেছে।

বাংলাদেশ রেফ্রিজারেটর ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের মহাসচিব মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বলেন, স্থানীয় ফ্রিজ ও এসি উৎপাদন খাতের বিকাশ চলমান রাখতে বিদ্যমান শুল্ক সুবিধা অব্যাহত রাখা জরুরী। শিল্পবান্ধব শুল্ক ও নীতি সহায়তায় আকৃষ্ট হয়েই দেশী-বিদেশী উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করেছেন। পূর্ণাঙ্গ বিকাশের লক্ষ্যে নতুন প্রোডাকশন লাইন স্থাপন, লেটেস্ট প্রযুক্তি সংযোজন, পণ্য গবেষণা ও উন্নয়ন, মান নিয়ন্ত্রণসহ এ শিল্পের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ আরো বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু, বিদ্যমান শুল্ক সহায়তা অব্যাহত না থাকলে এক্ষেত্রে বিনিয়োগ আসবে না। উদ্যোক্তারা দ্বিধায় রয়েছেন। তিনি আরো বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে গড়ে উঠা ফ্রিজ ও এসি উৎপাদন শিল্পে আগামি জুন পর্যন্ত ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা রয়েছে। উদ্যোক্তারা চাইছেন, এ শিল্পে দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা ঘোষণা করুক সরকার। তা হলে বিনিয়োগ বাড়বে, রপ্তানিবাজার বাড়বে।

সিনিউজভয়েস//ডেস্ক/
Please Share This Post.