ওয়েব সাইটকে জনপ্রিয় করার উপায়

আজকালকার এই দুনিয়া যে নেট দুনিয়া এবং আমরা সবাই যে সিটিজেন-এর বদলে আস্তে আস্তে হয়ে উঠেছি পুরোদস্তুর নেটিজেন সেই কথাটি ঠারে ঠোরে তো বটেই, সরাসরিও অনেকেই আপনাকে বলতে শুরু করেছে এটা আমরা সহজেই আঁচ করতে পারছি। তার চাইতেও বড় কথা হচ্ছে, পানিতে নামলে যেমন গা ভিজবেই, বা ঠান্ডা হাওয়ায় বাইরে বেরুলে যে নিশ্চিতভাবেই সেই হাওয়ার আঁচ আপনার প্রাণে মনে লাগবে সে ব্যাপারে যেমন কোনো সন্দেহ নেই তেমনি আজকের এই নেট যুগের ঠান্ডা হাওয়ার পরশ আপনার গায়ে যে একটু আধটু নিজের অজান্তেই এসে লাগছেনা এটা আপনি হলফ করে বলতে পারবেননা নিশ্চয়ই। আর এখানে এসেই প্রাসঙ্গিক আরো অনেক কথাই চলে আসে।
এই যুগটা নেট-এর। এই যুগটা ওয়েব-এর। আগে একজন আরেকজনের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম ছিল কী? নিশ্চিতভাবেই চিঠিপত্র। তারপর টেলিফোন ইত্যাদি ইতাদি। কিন্তু এই নেট যুগে ইন্টারনেট আর ইমেইল ইত্যাদি ইত্যাদির আবির্ভাবের ফলে যোগাযোগের পুরো ব্যাপারটাই কেমন যেন অনায়াস আর একেবারেই অন্যরকম হয়ে গেছে। যোগাযোগ এখন হয়ে উঠেছে বিলিয়ন ডলারের একটা শিল্প। এবং এই শিল্পে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা বিনিয়োগ করার মত লোকের অভাব হচ্ছেনা মোটেই। ব্যবসা বাণিজ্যের কথাই ধরুন। আপনি একটা দোকান খুলে বসেছেন এবং সেই দোকানে মানুষজন এসে জিনিষপত্র দেখে শুনে কেনাকাটা করে চলে যাচ্ছে, এই হচ্ছে সাধারণ ব্যবসা বাণিজ্য সম্বন্ধে আমাদের প্রথাগত ধারণা। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে প্রথাগত আঙ্গিকে আর যে কোনো কিছুই চলতে চাইছেনা। আর এ কারণেই আজ কান পাতলেই আপনি আমি শুনতে পাচ্ছি ইলেকট্রনিক কমার্স বা ই-বাণিজ্য নামে এক অদ্ভুত শব্দ। ইলেকট্রনিক মাধ্যমে ব্যবসা করা, আর সেই ব্যবসায় ঘরে বসে থেকেই কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা বা ডলার কামানোর কথা নিশ্চিতভাবেই কোনো রূপকথা বা গল্প উপন্যাসের বিষয়বস্তু নয়। এটি এখন আমেরিকা, ইউরোপ আর জাপানের গন্ডী ছাড়িয়ে আমার আপনার ঘরের পাশের ছেলেটার জীবনেও আলো ফেলেছে। ঘটছে একান্তই স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে। আমি ব্যবসা করব, চাকরী করব, ভ্যান গগের বা জয়নুল আবেদিনের ছবির নিলামে অংশ নিয়ে সেটা কিনেও ফেলব, আমি সেন্ট মার্টিনের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্বন্ধে জানব অথচ আমাকে নিজের ঘরের বাইরে এক পাও ফেলতে হচ্ছেনা। এই ঘটনা সম্ভব করতে পারছে এই ডিজটাল যোগাযোগের বিশাল বিপ্লবই। আমি স্বচ্ছন্দে একবটি ওয়েব সাইট খুলে বসে আমার ব্যবসা বা বাণিজ্য যাই বলুন সেটা যেমন চালাচ্ছি তেমনি তার সঙ্গে করছি আরো হাজারটা কাজ। আজ অনেক ছেলে ছোকরারও নিজস্ব ওয়েব সাইট আছে এবং সেই সাইটের মাধ্যমেই সে চাইলে সাধারণ যোগাযোগ থেকে শুরু করে করতে পারছে ব্যবসা বাণিজ্যও । হ্যা, ইচ্ছে করলেই, এবং ইচ্ছের সঙ্গে একটু প্রস্তুতি আর অধ্যবসায় যোগ করলেই। কিন্তু আপনার যদি নিজস্ব পণ্য বা সেবাকে প্রমোট করার জন্য কোনো ওয়েব সাইট থাকে এবং সেই ওয়েব সাইটে প্রচুর ভিজিটর এসে ভিড় জমাক এই যদি হয় আপনার উদ্দেশ্য, তাহলে কোন পথে এগোবেন এই তো ভাবছেন? ভাবনার কিছু নেই। আপনার নিজস্ব ওয়েব সাইটে অধিক সংখ্যক ভিজিটরকে আকৃষ্ট করে আপনার পণ্য বা সেবার ব্যবসাটাকে কিভাবে আরো জমজমাট করে তুরবেন তারই ঠিকুজি কুলজি নিয়ে আর সহজ সাধারণ কিছু নিয়ম কানুন নিয়েই আমাদের এই নিবন্ধ।
যাদের ব্যবসার উদ্দেশ্যে নিজস্ব ওয়েব সাইট আছে তাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বললেই আপনি খেয়াল করবেন তাদের সবার একটাই চিন্তা, আর তা হচ্ছে নিজের সাইটে কিভাবে ভিজিটরের সংখ্যা বাড়াবে সেটি। এটি নিঃসন্দেহে একটি জনপ্রিয় বিষয়, এবং সাইট ডেভেলপার বা ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের আলোচনায় এটি প্রায়শই ঘুরেফিরে আসতে দেখবেন। এটি করতে হলে কি করতে হবে আসুন সেগুলোই জেনে নেয়া যাক।
আপনার চলতি বিজ্ঞাপনে আপনার ওয়েব সাইটকে প্রমোট করুন :
সবার আগে আপনাকে যে কয়টি কাজ করতে হবে তার মধ্যে এক নাম্বারে যে কাজটির কথা আসে সেটি হল আপনার ওয়েব সাইটটির ঠিকানা সব জায়গায়, বলতে পারেন যেখানে সেখানে ছড়িয়ে দেয়া। সারা বিশ্বেই এই কৌশলটি দেখবেন খুবই ব্যবহৃত হচ্ছে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের খেলা বলুন বা কোথাও কোনো ঘোড়া বা কুকুরের রেস হচ্ছে, যেখানেই দৃষ্টি দিন, দেখবেন কোনো না কোনো একটা ওয়েব অ্যাড্রেস খুব পরিস্কারভাবে বিজ্ঞাপিত হচ্ছে। আপনিও তাই করুন। আপনার বিজনেস কার্ড, যে কোনো স্টেশনারী, মূদ্রিত বিজ্ঞাপন, ব্রশিউর, পণ্যের ডকুমেন্ট বা আর কোনো তথ্যাদি, মেইলিং লেবেল, খাম, টুপি, জ্যাকেট, চাবির রিং সর্বত্রই আপনার ওয়েব সাইটটির অ্যাড্রেসটি ছড়িয়ে দিন। মানুষ যেন নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে হলেও এই সাইটটির অ্যাড্রেস নিজের অবচেতন মনে গেঁথে নেয় সেই ব্যবস্থা করুন। টেলিভিশনে আপনার কোম্পানির উৎপাদিত পণ্যের বিজ্ঞাপন অথবা রেডিওতে প্রচারিত স্পটে ওয়েব অ্যাড্রেসটি মানুষকে বারবার জানিয়ে দিন। এছাড়াও ভুলবেন না বিলবোর্ড, ব্যানার, বাণিজ্য মেলায় প্রচারিত বিভিন্ন উপকরণ, গাড়িঘোড়া ইত্যাদি মাধ্যমের কথাও। মোদ্দা কথা হল, ঠিকানাটি ছড়িয়ে দিন যত্রতত্র, আনাচে কানাচে। তবে নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, কেবল এই করলেই আপনার ওয়েব সাইটে মানুষ যে হুমড়ি খেয়ে পড়বে সেটিও নয়। তবে এটি যে আপনার সাইটে মানুষের ভিড় বাড়ানোর জন্য আপনি অন্য যেসব কৌশল অবলম্বন করবেন সেগুলোকে আরো শক্তিশালী করবে সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। যদি আপনি সিরিয়াসলি চান আপনার সাইটে মানুষের ভিড় বাড়াতে তাহলে আপনাকে আরো দু একটা কাজ করতে হবে। সেগুলোর প্রসঙ্গেই এবার আসছি।
আপনার ওয়েব সাইটকে প্রমোট করার জন্য বিশেষ বিজ্ঞাপন ডিজাইন করুন :
আপনার ওয়েব সাইটকে সাদারণ একটি ব্যবসা গন্তব্য, যেমন একটি সুপার মার্কেট বা একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের মত করে চিন্তা করুন। আপনি হয়ত প্রথম দিকেই অত বেশি ভিজিটরকে আকৃষ্ট করতে পারবেন না, প্রথম দিকে হয়ত একজন দুজন করেই ভিজিটর আসা শুরু করবে, কিন্তু যতই সময় গড়াবে দেখবেন আপনার কৌশল কাজ দিতে শুরু করেছে এবং একজন দুজন করে আস্তে আস্তে আপনার ওয়েব সাইটে ভিজিটরের সংখ্যা কেবলই বাড়ছে। কেবল ‘আমার এই সাইট ব্যবসার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত’ টাইপের ভাষণ বা বাণী দিলেই যে মানুষ লাইন ধরে সাইট র্ভিজিট করা শুরু করবে সেটি ভাববেন না। তাদেরকে আপনার সাইট পর্যন্ত আনতে হলে আপনাকেই উদ্যোগী ভূমিকা নিয়ে মাঠে নামতে হবে। এখানে একটা কথাই বলা যায: ওয়েব ট্রাফিক বাড়ানোর জন্য সরাসরি সাড়া পাওয়া যায় বা ভিজিটরদের সরাসরি আকর্ষণ করা যায় এরকম কোনো উপায়ের কথাই আপনাকে ভাবতে হবে। এজন্য আপনাকে একটি অফার দিতে হবে, এমন কিছু যা আপনার ডাকে সাড়া দিলে ভিজিটররা পেতে পারবে। এরকম একটা অফার দিন এবং তাহলেই দেখবেন তাদের গতিজড়তা কেটে যাচ্ছে এবং তারা নিজেরাই আপনার সাইট ভিজিট করার জন্য উদ্যোগী হচ্ছে। এবার আসুন এই অফারের ধরন কি হতে পারে সে ব্যাপারে আমরা একটু ভাবনা চিন্তা করে দেখি। একটি জুয়েলারি স্টোরের কথাই ধরুন। তারা এমন ঘোষণা দিতে পারে যে, তাদের সাইটে বিজ্ঞাপনটি দেখার পর প্রথম যে পঞ্চাশ জন ভিজিটর রেজিস্টার করবেন (রেজিস্টার করার সময় বিজ্ঞাপনটি যে তারা আসলেই দেখেছে সেটি প্রমাণ করার জন্য তাদেরকে একটি কোড বা কোনো ধরনের সংকেত প্রবেশ করাতে হবে)। এছাড়াও কোনো রিয়েল এস্টেট কোম্পানি হয়ত তার ব্রশিউরে লিখতে পারে: আমাদের সাইট ভিজিট করে জানুন কিভাবে আপনার নাগালের মধ্যে দামে পেতে পারেন আপনার স্বপ্নের বাড়িটি’, ইত্যাদি। একজন খুচরা বিক্রেতা হয়ত পণ্যকে বিনে পয়সায় ক্রেতার কাছে পৌছানোর অফার দিতে পারেন। এখানে মূল আইডিয়াটি কি সেটি বুঝতে হবে। বিনে পয়সায় ক্রেতাকে প্রচুর মাল সামান ধরিয়ে দেয়া এর মুখ্য উদ্দেশ্য নয়। এখানে মুখ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে ক্রেতার প্রাথমিক জড়তাটি কাটিয়ে তাকে আপনার সাইটে নিয়ে আসা, আপনার সাইট বারবার ভিজিট করায় উদ্বুদ্ধ করা। একবার অফারটি কি দেবেন সেটি ঠিক করে ফেলার পর বাকী কাজটি বেশ সোজা: “আসুন আমাদের ওয়েব সাইটে, এবং নিজেই যাচাই করে নিন বাকী সব”।
এছাড়াও আপনি এমন কোনো মেকানিজমও রেখে দিতে পারেন যাতে আপনার বিজ্ঞাপনের ফলে কি প্রভাব পড়ছে সেটি নিজে যাচাই বাছাই করে নিতে পারবেন। হয়ত আপনি একটি বিশেষ কোড ঠিক করে দিতে পারেন যেটি আপনার এই পণ্য বা সেবার অফারটি গ্রহণ করার সময় ক্রেতাকে টাইপ করতে হবে। এমনও হতে পারে যে আপনি তাদেরকে কেবল আপনার সাইটের এই প্রমোশানের কাজের জন্যই তৈরি করা একটি বিশেষ সাইটেও আমন্ত্রণ জানাতে পারেন। যেভাবেই এই কাজটি করুননা কেন, আপনার নিজের জন্য এটি জানার ব্যবস্থা করুন যে প্রতিটি কাস্টোমারই একটি নির্দিষ্ট বিজ্ঞাপন দেখে আপনার সাইট ভিজিট করতে এসেছে। হতে পারে সেটি পত্রিকার বিজ্ঞাপন, হতে পারে সেটি বিলবোর্ড, হতে পারে মেইলিং লিস্ট। আপনার সাইট সম্বন্ধে সে কোত্থেকে জানল এটি জানার একটা ব্যবস্থা রাখাটা আপনার জন্যই জরুরী। এতে করে আপনি আপনার বিজ্ঞাপনের তুলনামূলক কার্যকারিতা সম্বন্ধে জানতে পারবেন।
মুফতে কিছু একটা দিয়ে দিন
বিনে পয়সার ফ্রি গিফট কে না চায়! মুফতে কিছু একটা বিলিয়ে দিয়ে সাইটে ভিজিটরদের আনাগোনা বেশ অনেকটাই বাড়িয়ে নেয়া সম্ভব। এখন কোন জিনিষটা যে পুরস্কার হিসেবে ব্যবহারকারী বা ভিজিটরদের মাঝে বিলিয়ে দেবেন সেটি ঠিক করবেন আপনিই। এটির ধরনটি নির্ভর করে আপনার ব্যবসার ধরন বা উদ্দেশ্যের ওপর। এটি হতে পারে একটি ডায়ামন্ডের আংটি, আবার হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ কোনো রিসার্চ রিপোর্ট। তবে যাই করুননা কেন, ভিজিটররা যেন তাদের ইমেইল ঠিকানা রেখে যায় সেটি নিশ্চিত করবেন। তাদের নাম রাখা গেলেও ভাল। এখানে যে কথাটা মনে রাখতে হবে তা হল: আপনি যত বেশি চাইবেন তত কম পাবেন। আপনি যদি ভিজিটরদের কাছ থেকে বেশি চান তাহলে কিন্তু তত কম ভিজিটর পাবেন। আর যদি কম তথ্য বা অন্য কিছু চান তাহলে স্বভাবতই ভিজিটরের সংখ্যাও বেশি হবে।
অনলাইন টুলস ব্যবহার করা :
আপনি বিভিন্ন অন-লাইন টুলস ব্যবহার করেও আপনার ব্যবসাকে স¤প্রসারিত করতে পারেন। এসব অন-লাইন টুলের মধ্যে আছে সার্চ ইঞ্জিন, ব্যানার অ্যাডস, লিংক এক্সচেঞ্জ, ব্যানার এক্সচেঞ্জ এবং ইউজনেট। আমরা অনেকেই এই জিনিষটি জানি যে পৃথিবীর সেরা সেরা সব সার্চ ইঞ্জিনেই আপনার সাইটের খোঁজখবর অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব। এখানে মূল রহস্যটা আর কিছুই নয়, এই রহস্য নিহিত আছে সতর্কতার সাথে লাগসই কিওয়ার্ড বাছাই করা এবং সেসব কিওয়ার্ড আপনার ওয়েব পেজ-এর সঠিক সব জায়গাতে বসিয়ে দেয়া। এখানে সঠিক কি ওয়ার্ড বাছাই করতে পারার মধ্যেই আসল কাজ অর্ধেকটা সেরে ফেলা যাবে। আপনি যদি সতর্কতার সাথে আপনার সাইটের টাইটেল, বিভিন্ন ছবির ক্যাপশান এবং অন্যান্য শিরোনামে কিওয়ার্ডগুলো বসান তাহলে সেই সব কিওয়ার্ডের বদৌলতে আপনার সাইটের খবর ভাল ভাল সমস্ত সার্চ ইঞ্জিনে ছড়িয়ে পড়বে। এছাড়াও আপনি ইউজনেটও ব্যবহার করতে পারেন। ইউজনেট আর কিছুই নয়, এটি একটি বিশালাকৃতি বুলেটিন বোর্ড যেখানে ইন্টারনেটের ভুবন থেকে সমস্ত মানুষ বিভিন্ন মেসেজ পোস্ট করে এবং তার রিপ্লাই দেয়। এখানে ইউজনেট যে কারণে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেটি হচ্ছে এটি বিভিন্ন ইন্টারেস্ট গ্রæপে বিভক্ত। ফলে আপনার সাইটের ধরন যাই হোক না কেন তার জন্য আগ্রহী ইউজনেট গ্রæপটিকে খুঁজে পেলেই আপনার কাজ সারা।

Please Share This Post.